যুবরাজের দৌলতে স্ত্রীকে প্রার্থী করে হাসিমুখে মালদহমুখী লেবু

দেবযানী সরকার, কলকাতা: দ্বিধাদ্বন্দকে সঙ্গী করেই তৃণমূলে ভবনে ঢুকেছিলেন সস্ত্রীক গনিখানের ভাই৷ বিকেলে মালদহমুখী আবু নাসের খান চৌধুরীর মুখের হাসি বেশ চওড়া ৷ হবে নাই বা কেন, ‘যুবরাজ’কে ম্যানেজ করে মালদহ জেলা পরিষদের টিকিট যে ততক্ষণে নিজের স্ত্রীর আস্তিনে ভরে ফেলেছেন তিনি৷

যা দেখে একান্ত আলাপচারিতায় দলীয় কর্মীরা বলছেন- সবং, উলবেড়িয়ার পর এবার মালদহ জেলা পরিষদ আসনেও পরিবারতন্ত্রেই আস্থা রাখল দল৷ দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, পরিবর্তনের বাংলায় যুবরাজকে ‘ম্যানেজ’ করে যে যার নিজের ঘর গোছাতে মরিয়া৷ স্বভাবতই পঞ্চায়েত ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই ‘কে বা প্রাণ করিবেক আগে দান’ এর ন্যায় তৃণমূল ভবনে ভিড় ঘন হচ্ছে জেলা নেতাদের৷ সবার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে- এমনটা নয়৷ তবে একেবারে হচ্ছে না, এমনটাও নয়৷ লেবুবাবুর কথাই ধরা যাক৷ কংগ্রেসের জার্সি বদলে তৃণমূলের সংসারে নাম লেখানোর বছর দুয়েকের মধ্যেই নবাগতা দ্বিতীয় স্ত্রীকে জেলা পরিষদ সদস্য করে রাজনীতির ‘ট্রাম্প কার্ডে’ শেষ হাসি হাসলেন তিনি৷

লেবুবাবুর দ্বিতীয় স্ত্রী তন্দ্রা খান চৌধুরী৷ সহধর্মিনীকে জেলা পরিষদের সদস্যা করতে লক্ষ্মীবারের বিকেলে ধনুকভাঙা পণ মনোভাবে যুবরাজের দরবারে হত্যে দিয়েছিলেন তিনি৷ কাজ হাসিলও করলেন নিজের রাজনৈতিক মুনসিয়ানায়৷ অশীতিপর বৃদ্ধতেই আস্থা রাখলেন দলনেত্রীর ভাইপো৷ অগত্যা, হাসি চওড়া হয়েছে বৃদ্ধর৷ স্বামীকে পাশে নিয়ে দুই কুড়ি পেরানো তন্দ্রাদেবীও গদগদে কন্ঠে বললেন, ‘‘অভিষেক আমাকে নিরাশ করেননি৷ এলাকায় ফিরে গিয়ে কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন৷’’

তৃণমূল ভবনে সস্ত্রীক আবু নাসের খান চৌধুরী
- Advertisement -

গত বিধানসভা নির্বাচনে সুজাপুর কেন্দ্রে ভাইপো ঈশাখান চৌধুরীর কাছে প্রায় সাতচল্লিশ হাজার ভোটে গো-হারান হেরেছিলেন তিনি৷ তখন থেকে তিনি শুধুই জেলার তৃণমূলের ব্লক প্রেসিডেন্ট৷ কংগ্রেস ছেড়ে মমতার শিবিরে ভিড়লেও জেলায় সংগঠনের অন্দরে এতদিন বিশেষ দাঁত ফোটাতে পারেননি৷ স্বভাবতই, মালদহ জেলা তৃণমূলের অন্দরে অনেকে তাঁর সম্পর্কে এতদিন ফোড়ন কাটতেন, ‘‘দাদার (বরকত গনিখান) নাম ভাঙিয়ে দল বদল করলেও তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সু-সম্পর্ক গড়তে পারলেন কই! শেষ রাতে ওস্তাদের বাজি মাতের মতো স্ত্রীকে প্রার্থী করিয়ে ১০০শতাংশ সফল লেবুবাবু৷

তবু দলের অনেকে টিপ্পনি কাটছেন- ভাগ্যিস সাবিত্রী মিত্র বনাম কৃষেন্দু চৌধুরীর খেয়োখেয়ি বজায় রয়েছে৷ তা না হলে নিজের হাঁটুর বয়সী স্ত্রীর টিকিট নিশ্চিত করতেই পারতেন না লেবুবাবু৷ লক্ষ্মীবারের পড়ন্ত বিকেলে দলের ‘সেকেন্ড ইন কম্যাণ্ডে’র সিলমোহড় নিয়ে মালদহ ফেরার আগে লেবুবাবুর মুখের হাসি বুঝিয়ে দিচ্ছিল-শীর্ষ নেতৃত্বর সঙ্গে তাঁরও হট লাইনে সু-সম্পর্ক রয়েছে!

প্রায় এক দশক সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত তন্দ্রাদেবী৷ সেই সূত্রেই অশীতিপর লেবুবাবুর সঙ্গে আলাপ-পরিচয়৷ তা থেকেই মন দেওয়া-নেওয়া৷ দুবছরের বিবাহিত জীবনে রাজনীতিক স্বামীর কাছ থেকে উপলব্ধি করেছেন, ‘সমাজসেবা করতে গেলে ক্ষমতার প্রয়োজন৷’ স্বভাবতই, পতির ইচ্ছেতেই জেলা পরিষদ আসনে ঘাসফুলের প্রার্থী হচ্ছেন তিনি৷ তন্দ্রাদেবী বলেন, গত মঙ্গলবার দিদিই আমাকে সুজাপুরের মোজমপুর, যোদুপুর, জালালপুর, আলিপুর-১, আলিপুর-২ পাঁচটি অঞ্চলের জন্য কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন৷ আজ অভিষেক আমাদের নিশ্চিত করল৷ জেলা পরিষদে আমিই লড়ছি৷৷’’

লটারিতে লাখ টাকা লাগার মতোই নব্য তৃণমূলী লেবুবাবুর দৌলতে অ-রাজনীতিক স্ত্রীর ভাগ্যে জুটেছে একেবারে জেলা পরিষদের টিকিট৷ যা দেখে তৃণমূল ভবনে দলের এক শীর্ষ নেতার সরস মন্তব্য- একেই বলে ভাগ্য৷ কারও স্ত্রী ভাগ্যে কপাল খোলে, আবার কারও স্বামীর ভাগ্য!

Advertisement
-----