পার্থর বৈঠকে ‘ব্রাত্য’ গেরুয়া ছাত্র সংগঠন

দিপালী সেন, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ক্রমে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বিজেপি৷ এমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের বিভিন্ন অংশ৷ আর, এই ধরনের পরিস্থিতির মধ্যেই, গেরুয়া শিবিরের ছাত্র সংগঠনকেই ‘ব্রাত্য’ করে রাখলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ যার জেরে, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে দেখা দিয়েছে নয়া বিতর্ক৷

বুধবার শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দফতর থেকে ফোন করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনকে একটি বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা বলা হয়৷ আগামী পাঁচ জুন বেলা তিনটে নাগাদ ওই বৈঠক হওয়ার কথা৷ সূত্রের খবর, ছাত্র কাউন্সিল না, ছাত্র ইউনিয়ন, এই বিষয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে৷ পাশ-ফেল সহ অন্য বিভিন্ন বিষয়েও ওই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল৷

ওই বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই, প্রদেশ কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ছাত্র পরিষদ, এসইউসিআইয়ের ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও-কে জানানো হয়েছে৷ স্বাভাবিক কারণেই, তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন টিএমসিপি-কেও ওই বৈঠকে ডাকা হয়েছে৷ তবে, গেরুয়া শিবিরের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-কে ওই বৈঠকের বিষয়ে জানানো হয়নি৷

- Advertisement -

এবিভিপির রাজ্য সহ সভাপতি ইন্দ্রনীল খান বলেন, ‘‘এই বৈঠকের বিষয়ে আমাদের অফিসে চিঠি বা ফোন কিছুই আসেনি৷ এলে অফিস সেক্রেটারি তা জানতেন৷’’ তবে, এখনই কোনও সিদ্ধান্ত না নিয়ে আমন্ত্রণের অপেক্ষা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি৷ কিন্তু, ওই বৈঠকে ডাকা না হলে, সরকারের কাছে এবিভিপি ‘ব্রাত্য’ বলেই তাঁরা মনে করবেন বলেও জানিয়েছেন৷

ইন্দ্রনীল খান বলেন, ‘‘অপেক্ষার পরও কোনও আমন্ত্রণ না আসলে বুঝব, সরকার আমাদের ছাড়াই কাজ করতে চাইছে৷ মনে করব, আমাদের সঙ্গে সরকারের জোট নেই তাই আমাদের ডাকেনি৷ যাদের সঙ্গে জোট আছে তাদেরকে ডাকা হয়েছে৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘সরকার তো সবার জন্য হওয়ার কথা৷ এই রকম বিমাতৃসুলভ আচরণ করলে তো চলবে না৷’’ এই বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য জানার জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়৷ তবে, তাঁকে একাধিকবার ফোন কল করা হলেও তিনি না ধরায় তাঁর বক্তব্য মেলেনি৷

যদিও, ওয়াকিবহাল মহলের বিভিন্ন অংশ এমনই মনে করছে, গেরুয়া শিবিরের ছাত্র সংগঠন এখনও এ রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি৷ হয়তো এমন কারণে ওই বৈঠকে এবিভিপি-কে অংশ নেওয়ার জন্য বলা হয়নি৷ কোনও কোনও অংশের তরফে আবার এমনও বলা হচ্ছে, ওই বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা বলে গেরুয়া শিবিরের ছাত্র সংগঠনকে গুরুত্ব দিতে চাওয়া হচ্ছে না৷ আর, এই ঘটনার জেরে, নয়া বিতর্ক দেখা দিয়েছে বাংলায়৷

Advertisement
---