দিপালী সেন, কলকাতা: মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, সিবিএসই৷ সব পরীক্ষাতেই একাধিক বিষয়ের প্রশ্নপত্র কখনও পরীক্ষার আগে, আবার কখনও পরীক্ষা চলাকালীন ছড়িয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়৷ এই প্রশ্ন ‘ফাঁসে’র বিরুদ্ধেই এ বার পথে নামছে গেরুয়া এবং সিপিএমের ছাত্র সংগঠন৷ অন্য বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনও প্রতিবাদে শামিল হচ্ছে৷

পরীক্ষার আগেই বেনজির নজরদারি ব্যবস্থার কথা বলেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের আধিকারিকরা৷ কিন্তু পরীক্ষার শুরুর পরেই সেই নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন মহলে উঠেছে প্রশ্ন, যদি নজরদারি ব্যবস্থা এতটাই কড়া হয় তাহলে কীভাবে একাধিকবার প্রশ্ন ‘ফাঁসে’র ঘটনার সম্মুখীন হতে হল?

Advertisement

এই বিষয়ে এবিভিপির রাজ্য সভাপতি ডাঃ ইন্দ্রনীল খান বলেন, ‘‘অনেক রকম ভাবে শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে৷ কেউ সোর্স মারফত, কেউ টাকা দিয়ে, কেউ রাজনৈতিক দিক দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকা হয়েছেন৷ যাঁদের যোগ্যতা নেই তাঁরা শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে ঢুকে যাচ্ছেন৷ আর তাঁদের হাতেই পরীক্ষার দায়িত্ব থাকছে এবং সেই কারণেই এই সব ঘটনাগুলি দেখা দিচ্ছে৷’’

এই ধরনের ঘটনার পিছনে কারণ কী? এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘শিক্ষা ব্যবস্থা সাজানোর জন্য একটা খরচ লাগে, একটা পরিকাঠামো লাগে৷ এর পাশাপাশি, দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেব না, সরকারের এই ধরনের একটা মনোভাবও লাগে৷ কিন্তু, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার উভয়ের ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, দুর্নীতি হয়ে যাচ্ছে৷ তা রুখতে আগে যে সতর্কতা দরকার তাতে তো সরকার ব্যর্থই৷

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘দুর্নীতি হয়ে যাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না৷ এই পদ্ধতি শুধরে না নিলে, ভবিষ্যৎ, ছাত্র সমাজ ও গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাটাকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়ার দিকে সরকারের একটা ভূমিকা থেকে যাবে৷’’ তিনি বলেন, ‘‘আসলে সর্ষের মধ্যে ভূত আছে৷ আর সেই ভূত তাড়াতে গেলে যিনি সর্ষে ঝাড়াই-বাছাই করছেন, তাঁকে সচেতন হতে হবে৷’’

প্রতিটি ঘটনার পরেই প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে এবিভিপি ও এসএফআই৷ মাধ্যমিকে প্রশ্ন ‘ফাঁস’ ও হিন্দি পরীক্ষায় প্রায় ২৭ নম্বর সিলেবাস বহির্ভূত প্রশ্ন আসার পর পর্ষদে চিঠি দেওয়া হয়েছিল এসএফআইয়ের তরফে৷ যেখানে বলা হয়েছিল, যেন এই ঘটনা উচ্চ মাধ্যমিকেও না ঘটে৷ কিন্তু, উচ্চ মাধ্যমিকের শুরুতেও দেখা গেল একই ছবি৷ পরপর দু’টি পরীক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল প্রশ্নপত্র৷

সিবিএসইর ক্ষেত্রে অবশ্য পরীক্ষা চলাকালীন নয়৷ পরীক্ষার বহু আগেই ফাঁস হয়ে গিয়েছিল প্রশ্নপত্র৷ ওই ঘটনার প্রতিবাদেও সোচ্চার হয়েছে গেরুয়া শিবিরের ছাত্র সংগঠন৷ ডাঃ ইন্দ্রনীল খান বলেন, ‘‘সিবিএসইর প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে ইতিমধ্যেই দিল্লিতে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকরক স্মারকলিপি দিয়েছি৷ ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনার আর না হয়, তার জন্য কিছু পরামর্শও দিয়েছি৷’’

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এই ধরনের ঘটনায় ছাত্র-ছাত্রীদের উপর প্রভাব পড়ছে৷ আর বারবার করে পরীক্ষা নেওয়াটা কোনও উপায় নয়৷ এ ছাড়া অপরাধীদের শাস্তি দিতে হবে৷’’ এই ধরনের ঘটনা রুখতে কোন ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে? ডাঃ ইন্দ্রনীল খান বলেন, ‘‘প্রশ্নপত্র লটের একটা করে ব্যাচ নাম্বার দিয়ে দেওয়া উচিত৷ যাতে ফাঁস হলে বোঝা যায় কোন জায়গা থেকে ফাঁসটা হচ্ছে৷’’ প্রশাসনিক বিভিন্ন স্তরের গাফিলতির জন্যই এই ঘটনাগুলি দেখা দিচ্ছে বলেই মনে করছেন তিনি৷

তবে, প্রতিবাদও জারি রাখা হচ্ছে৷ এবিভিপির রাজ্য সভাপতি ডাঃ ইন্দ্রনীল খান বলেন, ‘‘মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে যেভাবে প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়েছে, তার বিরুদ্ধে আমরা স্মারকলিপি দেব৷ ইতিমধ্যেই যে সব জায়গায় এই সব ঘটনা দেখা গিয়েছে, সেখানকার থানায় আমাদের প্রতিনিধিরা গিয়ে কথা বলে এসেছেন৷ যারা এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়ে এসেছেন৷

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলে আমরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের কাছে যাব৷ ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়, তার জন্য কিছু পরামর্শও নিয়ে যাব৷’’ এসএফআইয়ের সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘মাধ্যমিকের ঘটনার পর প্রতিবাদ করেছিলাম৷ উচ্চ মাধ্যমিক শেষ হোক৷ তারপর আমরা এটা নিয়ে নির্দিষ্টভাবে আবার প্রতিবাদ করব৷’

----
--