অ্যাসিড ঢেলে কিশোরীকে খুনের অভিযোগ

রামপুরহাট: নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে মুখে অ্যাসিড ঢেলে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল বীরভূমের মল্লারপুরে৷ এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তিন যুবককে আটক করেছে৷ তবে মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশার জট কাটেনি৷ ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের মল্লারপুরে৷

বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ওই ছাত্রীকে৷ প্রথমে তাঁকে রামপুরহাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়। নিহত ছাত্রীর মায়ের অভিযোগ তাঁর একমাত্র মেয়েকে মুখে অ্যাসিড ঢেলে পুড়িয়ে মারা হয়েছে৷

আরও পড়ুন: অবশেষে নিজেদের ক্লাসরুম মিলল পড়ুয়াদের

- Advertisement -

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল ওই কিশোরী৷ তাঁর মায়ের কথায়, ‘‘কিছুদিন আগে আমরা বাহিনায় নতুন পাকা বাড়ি করেছি৷ সেখানে বাথরুমও বানানো হয়েছে৷ আমাদের পুরনো বাড়িতে বাথরুম নেই৷ পাকা বাড়ি হওয়ার পর প্রায় তিন মাস হয়ে গেল মেয়ে নতুন বাড়িতেই স্নান করতে যেত৷ বৃহস্পতিবার সকালেও গিয়েছিল৷ কিন্তু বহুক্ষণ কেটে গেলেও ফিরছিল না৷ এরপরই এলাকার একজন আমার ছেলেকে ফোনে জানায়, ‘তোর দিদি বাড়ির বাইরে কলতলায় পড়ে রয়েছে৷’ ছেলে গিয়ে দেখে বাড়ির সামনের দরজা বন্ধ৷’’

অন্য একটি দরজা দিয়ে ঘরে ঢোকে নিহতের ভাই৷ দিদিকে কোনওমতে তুলে নিয়ে ঘরে শুইয়ে দেয়৷ এরপর তাঁর মা গিয়ে দেখেন মেয়ের মুখে অ্যাসিডের দাগ৷ জামাকাপড় ভেজা৷ পাশেই রাখা ছিল অ্যাসিডের বোতল৷ সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে রামপুরহাট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যায় সে৷

আরও পড়ুন: জ্যাংরায় ১৬ ফুটের রথে সওয়ারি গোপাল ঠাকুরও

ওই ছাত্রীর মা পুলিশের কাছে দাবি করেন, মেয়েকে মুখে অ্যাসিড ঢেলে পুড়িয়ে মারা হয়েছে৷ কিন্তু কে বা কারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তা বলতে পারেননি তিনি৷ মৃতের দাদার কথায়, ‘‘আমাকে অঞ্জু নামে পরিচিত একজন ফোন করে বলে ছোটনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে৷ এরপর ওর সঙ্গে যোগাযোগ করলে বলে বোন নতুন বাড়ির সামনে পড়ে রয়েছে৷’’

যদিও নিহতের দাদার দাবি, ‘‘আমাদের বাড়ির পাঁচিল অনেকটা উঁচু। ওরা বাইরে থেকে কীভাবে বোনকে পড়ে থাকতে দেখল সেটাই বুঝতে পারছি না৷ তাছাড়া যখন বোন পড়ে রয়েছে তখন আমার বাড়িতে সরাসরি খবর কেন দিল না মাথায় ঢুকছে না৷’’ একই প্রশ্ন এলাকার লোকজনেরও৷

আরও পড়ুন: সৎ মায়ের অত্যাচারে আত্মঘাতী মেয়ে

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে পুলিশ ছোটন, অঞ্জু এবং কিরণ লেট নামে তিন যুবককে আটক করেছে। কিরণের মায়ের বক্তব্য, নিহত ছাত্রীর মা বছরখানেক আগে তাঁদের বাড়িতে এসে নাকি বলেছিলেন-‘‘তোমার ছেলে আমার মেয়ের সঙ্গে প্রেম করছে৷ সাবধান করে দাও৷ কিন্তু এরপর থেকে আমার ছেলের সঙ্গে ওই মেয়ের কোনও সম্পর্ক ছিল কি না বলতে পারব না৷’’

তবে কিরণের মায়ের দাবি তাঁর ছেলে নির্দোষ৷ কেউ কাউকে ভালোবাসলে মেরে ফেলে না৷ পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করত৷ তা সত্ত্বেও সকালে পুলিশ ছেলেকে তুলে নিয়ে গেল৷ তবে তিনি স্বীকার করে নেন তাঁর ছেলের বন্ধু ছোটন এবং অঞ্জু। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মল্লারপুর থানার পুলিশ৷

Advertisement
---