কলকাতা: বুধবার চেষ্টা করেও সফল হননি৷ অবশেষে ছ’হাজারি দোভাষীর সাহায্যে শেষ হল লাল-হলুদে বিশ্বকাপার জনি অ্যাকোস্টার সফর৷
ইন্ডিয়ান সুপার লিগ নয়, ভারতের বড় ক্লাব হিসেবে কলকাতায় এসেছি৷ বৃহস্পতিবার দোভাষীকে পাশে এ কথা জানান ইস্টবেঙ্গলের নতুন বিদেশী৷

ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম ক্লাব হিসেবে চলতি বিশ্বকাপের কোনও ফুটবলারকে সাংবাদিক বৈঠকে ডেকে ইতিহাস সৃষ্টি করতে চেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু গৌরবের সেই দিনেও লজ্জায় পড়তে হল শতবর্ষ ছুঁই ছুই লাল-হলুদকে। দোভাষীর অভাবে শেষ হয়নি অ্যাকোস্টার সাংবাদিক বৈঠক৷ মাঝপথেই বন্ধ করে দিতে হয় বুধবার বিকেলের সাংবাদিক সম্মেলন।

ইংরেজি না-জানা কোস্টা রিকার বিশ্বকাপার জনি আকোস্টার জন্য বৃহস্পতিবার দোভাষীর ব্যবস্থা করে প্রথম সাংবাদিক বৈঠক সারেন লাল-হলুদ কর্তারা। ছ’ হাজার টাকার বিনিময়ে স্প্যানিশ থেকে ইংরেজি অনুবাদ করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন ওই দোভাষী৷ এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইস্টবেঙ্গলের নবাগত বিদেশি জানান বিশ্বকাপে ব্রাজিলীয় তারকা নেইমার প্লে–অ্যাক্টিং করেননি৷ এছাড়াও উত্তর দেন কলকাতা লিগ থেকে ডার্বি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন৷

রাশিয়া বিশ্বকাপ খেলে সরাসরি ইস্টবেঙ্গলে যোগ দিয়েছে কোস্টা রিকার এই ডিফেন্ডার। বিশ্বকাপে এবার দেশের হয়ে তিনটি ম্যাচই খেলেছেন৷ পুরো ম্যাচই খেলেছেন ব্রাজিলের মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। স্বভাবতই ব্রাজিল এবং নেইমারকে নিয়ে যে প্রশ্ন আসবে সেটা বোধহয় জানতেন অ্যাকোস্টাও।

বিশ্বকাপের সময় ব্রাজিল ও নেইমারের নিয়ে এ শহরের মানুষের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো৷ ফুটবল বিশ্বের অধিকাংশ তারকারা নেইমারের প্লে–অ্যাক্টিংয়ের সমালোচনা করেছেন৷ তবে অ্যাকোস্টা জানান, তিনি ও জাতীয় দলে তাঁর সতীর্থরা কখনই মনে করেননি নেইমার প্লে–অ্যাক্টিং করছেন।
অ্যাকোস্টা বলেন, ‘নেইমার নিঃসন্দেহে ‌বড় প্লেয়ার। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচে আমরা নিজেদের সেরাটা দিয়েছিলাম। তবে খেলা শেষে ব্রাজিল যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছে। ওই হারে আমরা কিছুটা হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। কারণ গোটা ম্যাচে আমরা সমানে–সমানে টক্কর দিয়েছি। আমাদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকবার চোট পেয়ে নেইমার মাটিতে পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমাদের কখনই মনে হয়নি ও প্লে–অ্যাক্টিং করছে।’‌

এদিন সাংবাদিকদের সামনে আরও একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন অ্যাকোস্টা। চলতি বিশ্বকাপে নেইমারের বিরুদ্ধ খেলার আগে তিনি লিওনেল মেসির বিপক্ষেও খেলেছেন। ২০১১ কোপা আমেরিকায়। এরপর নিজের নতুন দল ইস্টবেঙ্গল সম্পর্কে বলেন, ‘‌ইস্টবেঙ্গল বড় ক্লাব। ক্লাবের অনেক ঐতিহ্য রয়েছে। আইএসএল নয়, বড় দল হিসেবে ইস্টবেঙ্গলে খেলতে এসেছি৷

এরপর ইস্ট–মোহন ডার্বি নিয়েও মুখ খোলেন লাল-হলুদের এই বিশ্বকাপার। তিনি জানান, ‘‌ডার্বির কথা শুনেছি, তবে কোনও স্পষ্ট ধারনা নেই। তবে সুযোগ পেলে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’‌ অ্যাকোস্টার এই শেষ কথাগুলি শোনার পর কলকাতা লিগের ডার্বির আগে কিন্তু আশায় বুক বাঁধতে পারেন লাল–হলুদ সমর্থকরা। কোস্টা রিকার বিশ্বকাপারকে খেলানোর ইঙ্গিত দিলেন লাল-হলুদ কোচ সুভাষ ভৌমিক৷ দেশের হয়ে ২ নম্বর জার্সিটা পড়েই ইস্টবেঙ্গলে খেলবেন অ্যাকোস্টা৷

----
--