ডার্বির প্রাক্কালে সই সারলেন অ্যাকোস্টা

কলকাতা: রাশিয়ার মাটিতে বিশ্বকাপ খেলে এসেই পা রেখেছিলেন ভারতে। নেইমারদের সামলে এসে ইস্টবেঙ্গলের মত ক্লাবে যোগদান করায় প্রথমটায় ভ্রু কুঁচকেছিলেন অনেকে। কিন্তু চ্যালেঞ্জ নিতেই যে তিনি এদেশে পা দিয়েছেন, সেটা হাবেভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন কোস্টারিকান ডিফেন্ডার জনি অ্যাকোস্টা।

বড় ম্যাচ সম্পর্কে তেমন অভিজ্ঞতা না থাকলেও ইন্টারনেটে ডার্বি সম্পর্কে খুঁটিনাটি তথ্য জেনেছিলেন। ব্যস ওইটুকুই। এরপর সোজা এদেশের বিমান ধরেছিলেন এই মুহূর্তে লাল-হলুদ জনতার নয়নের মণি। একমাস আগেই পৌঁছে গিয়েছেন তিলোত্তমায়। লাল-হলুদের পরিবেশ, সমর্থকদের আবেগের সঙ্গে ক্রমশ সড়গড় হচ্ছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক ট্রান্সফার সার্টিফিকেট বড় বালাই। তাই লাল-হলুদ জার্সি গায়ে মাঠে নামা হয়ে ওঠেনি এখনও। সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনে গা ঘামালেও কলকাতা লিগের ম্যাচগুলো উপভোগ করতে হচ্ছিল মাঠের ধারে বসেই।

অবশেষে অপেক্ষার অবসান। ২ সেপ্টেম্বর ডার্বির ঠিক আগে শুক্রবার আইএফএ অফিসে সই সারলেন লাল-হলুদের নবাগত বিদেশী জনি অ্যাকোস্টা। গত কয়েকদিন ধরেই ডার্বিতে তাঁর মাঠে নামার বিষয়ে আশার আলো দেখছিলেন ইস্টবেঙ্গল সভ্য-সমর্থকরা। কিন্তু সই না হওয়ায় আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছিল। কিন্তু গত মঙ্গলবারই সব আশঙ্কা দূরে সরিয়ে অ্যাকোস্টার ট্রান্সফার সার্টিফিকেট পৌঁছে যায় আইএফএ অফিসে। নিশ্চিত হয়ে যায় কোস্টারিকান ডিফেন্ডারের ডার্বি খেলার বিষয়টি।

অবশেষে শুক্রবার দুপুরে আইএফএ অফিসে সইপর্ব সেরে ফেলে ডার্বিতে মাঠে নামার বিষটিতে শিলমোহর দিলেন অ্যাকোস্টা নিজেই। এদিন সকালে নিজেদের মাঠে গোটা দলের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার অনুশীলনও সারেন অ্যাকোস্টা। তারপরই আইএফএ অফিসে চলে যান তিনি। অ্যাকোস্টার সই ঘিরে এদিন আইএফএ অফিসে ছিল ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের উন্মাদনা। ডার্বির আগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে চাপে রাখতে এ যেন এক রণকৌশলও বটে।

সইসাবুদ পর্ব মিটে যাওয়ায় পাকাপাকিভাবে জনি এখন লাল-হলুদের ফুটবলার। ডার্বিতে মাঠে নামতে আর কোন সমস্যা রইল না তাঁর। আর ডার্বির মত হাইভোল্টেজ ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল জয় পেলে ভারতের মাটিতে অ্যাকোস্টার অভিষেক যে মধুর হয়ে থাকবে, তা একপ্রকার নিশ্চিত। সবমিলিয়ে বড় ম্যাচে লাল-হলুদ রক্ষণকে কতটা নির্ভরতা দিতে পারেন তিনি, সেটাই এখন দেখার।

----
-----