নতুন ঠিকানা স্টুডিয়ো অ্যাপার্টমেন্ট

কলকাতা:জীবন থেমে থাকে না৷ তাই নিজস্ব গতিতে এগোতে এগোতে জীবনের সঙ্গে জীবিকারও বিবর্তন হচ্ছে৷ যৌথ পরিবার ভেঙে গিয়ে ছিল অনেক দিন আগেই৷ ‘হাম দো হামারে দো’ প্রবাদটা এখন ক্রমশ পুরনো হয়ে যাচ্ছে৷ কাজ অথবা কেরিয়ারে তাগিদে একা থাকা বা একলা বাসা বাঁধার প্রবণতা বাড়ছে৷ পরিবারে থেকে আলাদা থাকলেও এই প্রজন্মের অনেকেই আর তথাকথিত ‘মেস বাড়ি’র জীবন গ্রহণে নারাজ৷ ‘পেয়িং গেস্ট’ হিসেবে থাকাটাও এদের পছন্দ নয়৷ এরা এক বিশেষ ধরনের ‘ব্যাচেলার্স ফ্ল্যাট জীবনে’ অভ্যস্ত, যার পোশাকি নাম স্টুডিয়ো অ্যাপার্টমেন্ট৷
এই অ্যাপার্টমেন্টের বিশেষত্ব হল – খুব ছোট হলেও মিলবে সব রকম স্বাচ্ছন্দ্য,ফলে প্রায় বিলাসবহুল হয়ে উঠছে এই বাসস্থানটি৷ একেবারে ফিল্মি স্টুডিয়োর মতো ঝাঁ-চকচকে সিঙ্গল বেডরুম৷ থাকছে তারই লাগোয়া কিচেন -ডাইনিং , বাথরুম৷ মিলবে কফির কাপ বা পানীয়র গ্লাস হাতে একটু বসে আকাশ দেখার জন্য একফালি বারান্দাও৷
প্রশ্ন উঠতে পারে কেমন দেখতে হবে এই স্টুডিয়ো অ্যাপার্টমেন্ট এবং সাধারণ ফ্ল্যাটের সঙ্গে  পার্থক্য কোথায় ? নির্মাণ সংস্থার কর্তারা জানাচ্ছেন, স্টুডিয়ো অ্যাপার্টমেন্ট আসলে সিঙ্গল রুম অ্যাপার্টমেন্টের ক্ষুদ্র সংস্করণ৷ সিঙ্গল রুমে আলাদা একটি বেডরুম থাকে৷ সেই সঙ্গে সেখানে আলাদা করে থাকে ডাইনিং , বাথরুম ও কিচেন৷ সঙ্গে ছোট্ট একটি বারান্দা৷ স্টুডিয়ো অ্যাপার্টমেন্ট আদতে একটিই বড় রুম৷ তার মধ্যেই খোলা ডাইনিং , রান্নার ব্যবস্থা৷ লাগোয়া বাথরুম৷ তবে  চাইলে কিছু কিছু স্টুডিয়োয় এখন একাধিক ঘরও থাকছে৷ তবে এটি একেবারে ‘ফার্নিশ্ড’ হওয়ায় ঘর সাজানোর জন্য কোনও রকম ঝামেলা পোয়াতে  হবে না৷Studio-Apartment
সিঙ্গল রুমের তুলনায় স্টুডিয়ো অ্যাপার্টমেন্টের আয়তনও সাধারণত কম হয়৷ গড় আয়তন ৪৫০ -৬৫০ বর্গফুটের মধ্যে৷ কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ ফ্ল্যাটের থেকে এর দামও কম পড়ে বেশ খানিকটা৷ যদিও সর্বত্র নয়৷ কলকাতা ও শহরতলি এলাকায় বর্তমানে স্টুডিয়োর দাম শুরু হয় মোটামুটি ১১ লক্ষ টাকা থেকে, তবে কোটি টাকারও স্টুডিও রয়েছে৷ এখন রাজারহাট উপনগরীতে ৬৫৫ বর্গফুটের একটি স্টুডিয়ো অ্যাপার্টমেন্টের দাম পড়ছে ৩৩ লক্ষ টাকার মতো৷ এখন সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্টেও এই ধরনের স্টুডিয়ো পাওয়া যায়৷ স্টুডিয়ো অ্যাপার্টমেন্টের স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে এই ধরনের সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্টে পরিস্রুত পানীয় জল , লন্ড্রি , বাজার , রান্নার গ্যাস , ব্যায়ামাগার , সুইমিং পুল , কার পার্কিং , ওয়াই -ফাই ইন্টারনেট , কমিউনিটি হল , জঞ্জাল সাফাইয়ের মতো সব পরিষেবাই পাওয়া যায় হাতে হাতে৷ মানে বুঝতেই পারা যাচ্ছে সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট আসলে একটি আধুনিক মেস৷ অর্থাৎ বাসিন্দাদের কোনও ঝামেলাই নিতে হয় না৷ এমন অ্যাপার্টমেন্ট  দীর্ঘকালীন ভিত্তিতে লিজেও দেওয়া হয়৷ আবার প্রয়োজন ফুরোলে লিজ হস্তান্তর করে সহজেই টাকা ফেরত পাওয়া যায়৷
এই ধরনের অ্যাপার্টমেন্টই এখন দেশের নানা প্রান্তে অবিবাহিতদের হট ডেস্টিনেশন৷ এমন অ্যাপার্টমেন্টের চাহিদা বাড়ছে কলকাতাতেও৷ তবে শুধু অবিবাহিতদেরই জন্যই এমন বাসস্থান, এটা ভাবা উচিত নয়৷ চল্লিশোর্ধ্ব দম্পতিদের শহুরে কোলাহলের বাইরে খানিকটা অবসর যাপনের জন্যও এমন আস্তানার খুঁজে নিতে চাইছেন৷ ফলে এ রাজ্যেও স্টুডিয়ো অ্যাপার্টমেন্টের বিস্তার সম্পর্কে আশাবাদী বিভিন্ন বিল্ডার্স এবং ডেভেলপাররা৷ আইটি , বহুজাতিক সংস্থা , ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ , বিমান সংস্থার মতো সংস্থায় বদলির চাকরি নিয়ে যাঁরা কলকাতায় আসছেন , তাঁদের একটা বড় অংশই এখন ঝুঁকছেন স্টুডিয়ো অ্যাপার্টমেন্টের দিকে৷
রাজ্যের মানুষের উচ্চাকাঙক্ষা যত বাড়বে , ততই এই ধরনের ফ্ল্যাটের চাহিদা বাড়বে৷ কারণ তাছাড়া  ২-বিএইচকে এবং ৩ -বিএইচকে ফ্ল্যাটের দর বেড়ে যাওয়ায় মুম্বই , দিল্লি , হায়দরাবাদে অনেকেই স্টুডিয়ো অ্যাপার্টমেন্ট কিনতে বাধ্য হচ্ছেন৷ কেউ আবার সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্টকে বেছে নিচ্ছেন৷ দেরিতে হলেও কলকাতাতেও এই পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে বলে মনে করছেন নির্মাণ সংস্থার কর্তারা৷ফলে এই প্রজন্মের অনেকেরই মেসবাড়ির বদলে নতুন ঠিকানা হয়ে যাচ্ছে  স্টুডিয়ো অ্যাপার্টমেন্ট বা সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্টে ৷

Advertisement ---
-----