মমতার দলের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের সভা বানচালের অভিযোগ অধীরের

স্টাফ রিপোর্টার, বহরমপুর: সাধারণ একটা জেলা সম্মেলন৷ আর তা নিয়েই ধুন্ধুমার বেঁধে গিয়েছে কংগ্রেস তৃণমূলের মধ্যে৷ আসরে নেমে পড়েছেন খোদ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি৷ তাঁদের সম্মেলন আটকাতে তৃণমূল বাস মালিকদের হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি৷ উলটো দিকে কংগ্রেসের অভিযোগকে একেবারেই পাত্তা দিতে নারাজ তৃণমূল৷ তৃণমূলের পাল্টা দাবি, সভায় লোক হবে না বুঝতে পেরেই আগে থেকে এসব রটাচ্ছে কংগ্রেস৷

আরও পড়ুন: পঞ্চায়েত ভোট জেতার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ছবিই যথেষ্ট: শুভেন্দু

প্রসঙ্গত, আগামী ৫ মার্চ মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের টেক্সটাইল মোড়ে জেলা সম্মেলন রয়েছে কংগ্রেসের৷ ওই সভা নিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চরমে৷ কংগ্রেসের দাবি, জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থক আসবেন৷ সেই কারণে বাসের ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়৷ কিন্তু বাস ভাড়া নিতে গিয়েই কংগ্রেস নেতৃত্বকে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ৷

- Advertisement -

আর এই অভিযোগ তুলেছেন খোদ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি৷ বুধবার সন্ধ্যায় তিনি নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেন৷ ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘‘বহরমপুরে আগামী ৫ মার্চ কংগ্রেসের জনসভা বানচাল করার জন্য প্রশাসন ও পরিবহণ দফতর বাস মালিকদের হুমকি দিচ্ছে, যেন কংগ্রেসকে বাস দেওয়া না হয়৷’’ আর এর জন্য তিনি কাঠগড়ায় তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই৷ ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘‘দিদির দেশের গণতন্ত্রের আরেক কুৎসিত নিদর্শন দেখুন বাংলার মানুষ৷’’

আরও পড়ুন: বিজেপির ভয়ে মন্দির, মসজিদে দৌড়চ্ছেন দিদি: রাহুল সিনহা

দিন কয়েক আগে বহরমপুরে প্রশাসনিক বৈঠক ও জনসভা সেরে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ জেলা প্রশাসনের কর্তাদের নিয়ে তিনি বৈঠক করেছিলেন বহরমপুর রবীন্দ্রভবনে৷ আর প্রশাসনিক জনসভা করেন বহরমপুর স্টেডিয়ামে৷ ওই সভা নিয়ে আগেই মমতার বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিল কংগ্রেস৷ দলের নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলেছিলেন, মাঠে লোক হবে না৷ তাই প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে সভা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ লোক আনতে প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচ্ছে৷ তাই তিনি প্রশ্ন তুলেছেন এর পর কেন মমতাকে জননেত্রী বলা হবে, তা নিয়ে৷

এবার নিজেদের সভা নিয়েও একই কথা বলছে কংগ্রেস৷ এবারও প্রশাসনকে ব্যবহার করে তাদের সভা আটকানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তুলছে তারা৷ প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়ন্ত দাস বললেন, ‘‘বাসের সিন্ডিকেটে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে কংগ্রেসকে বাস দেওয়া যাবে না৷ পরিবহণমন্ত্রীর নির্দেশেই এসব হচ্ছে৷’’ প্রসঙ্গত, পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃণমূলের পর্ববেক্ষক৷ এমনকী সভার অনুমতি দেওয়া নিয়েও মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন টালবাহানা করছে বলেও অভিযোগ করেছেন জয়ন্ত দাস৷

আরও পড়ুন: ভিন রাজ্যের কংগ্রেসিরাও রাজ্যসভায় তৃণমূলের প্রার্থী হতে চাইছেন, চর্চা ঘাসফুলে

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এসব করে শাসক দলের লাভ কী? জয়ন্ত দাসের ব্যাখ্যা, ‘‘মুর্শিদাবাদে জনসমর্থনের দিক থেকে কংগ্রেস এখনও প্রথমস্থানে রয়েছে৷ এখনও তাদের জনভিত্তি রয়েছে৷ তাই কংগ্রেস সমর্থকরা সভায় যোগ দিলে পঞ্চায়েতের আগে আসল সত্যিটা প্রকাশ্যে চলে আসবে৷ সেই কারণেই কংগ্রেসের সভা বানচালে তৎপর তৃণমূল৷’’

তবে এই অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল৷ দলের মুর্শিদাবাদ জেলা সহ-সভাপতি অশোক দাস গোটা বিষয়টিকে কংগ্রেসের বালখিল্যতা হিসেবেই দেখছেন৷ তাঁর বক্তব্য, ‘‘মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস শেষ হয়ে গিয়েছে৷ এখন প্রচারের লোভে এসব করছে৷’’

আরও পড়ুন: ববি-অরূপের গুরুত্ব বাড়িয়ে শোভনকে ‘জলে’ ফেললেন মমতা?

Advertisement
---