তৃণমূল-বিজেপির সঙ্গে সমঝোতা নয়, হোয়াটস্ অ্যাপে অধীর

দেবযানী সরকার, কলকাতা: ঘাসফুল না পদ্মফুল? এ রাজ্যে দল কার হাত ধরবে তা নিয়ে রীতিমতো বিভ্রান্ত প্রদেশ কংগ্রেসের একাধিক নেতা থেকে নীচুস্তরের কর্মী৷ দলীয় নেতা-কর্মীদের বিভ্রান্তি দূর করতে আসরে নামলেন খোদ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী৷ বাংলায় তৃণমূল ও বিজেপি-দুয়ের বিরুদ্ধেই যে তাঁদের লড়াই ফের সেই বার্তা দিলেন তিনি৷

একদিকে মালদহের সাংসদ তথা জেলা সভাপতি মৌসম নূর নিজের জেলায় একাধিক পঞ্চায়েত বোর্ড গড়তে তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করেছেন৷অন্যদিকে অধীর চৌধুরীর নিজের গড় মুর্শিদাবাদে বোর্ড গঠন করতে বিজেপিকে সমর্থন করেছে কংগ্রেস৷ অথচ জাতীয় এবং রাজ্যস্তরে এই দুটি রাজনৈতিক দলই কংগ্রেসের প্রধান শত্রু৷ কিন্তু দলের অভিভাবকদের এহেন সিদ্ধান্তে বিভ্রান্ত এবং ক্ষুদ্ধ নেতা-কর্মীদের একটা বড় অংশ৷ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের এআইসিসি-র পর্যবেক্ষক গৌরব গগৈ এবং কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে চিঠি দিয়ে দুটি ঘটনা তারা জানিয়েছেন এবং প্রতিবাদ করেছেন৷

দলীয় কর্মীদের মনোবল বুঝতে পেরে সোমবার সকালেই সংবাদমাধ্যমের জন্য বানানো (অধীর চৌধুরীর নিজস্ব গ্রুপ) হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নিজের রাজনৈতিক সচিব নিলয় প্রামাণিকের মাধ্যমে বার্তা দিয়েছে প্রদেশ সভাপতি৷

- Advertisement -

সংবাদমাধ্যমকে একহাত নিয়ে তিনি লিখেছেন, “কিছু সংবাদমাধ্যম পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য প্রাণপণ প্রচারে নেমেছে। খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিজেপির বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বাংলার কংগ্রেস কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়বে, বাংলায় বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই তার অঙ্গ। সেইসঙ্গে বাংলায় তৃণমূলের সঙ্গে আমাদের একচুল সমঝোতা নেই। কর্মীরা মিথ্যা প্রচারে কান দেবেন না, বাংলায় বিজেপি ও তৃণমূল উভয় দলের বিরুদ্ধে আমাদের সার্বিক লড়াই করতে হবে। তৃণমূল-বিজেপি কারোর সঙ্গেই কংগ্রেস কোনও সমঝোতা করবে না৷ প্রদেশ সভাপতি হিসেবে এটা আপনাদের জানালাম।”

এপ্রসঙ্গে কংগ্রেসের এক কর্মীর কথায়, “সভাপতির বার্তা আমাদের কাছে স্পষ্ট৷কিন্তু বোর্ড গঠন নিয়ে বাস্তবে যা চলছে সেটাকে উনি কী বলবেন? তবে এটা পরিস্কার দলটা এখন আর ওনার নিয়ন্ত্রণে নেই৷”

Advertisement
---