প্রদেশ সভাপতির পদ খোয়াচ্ছেন অধীর

দেবযানী সরকার, কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনের আগে বাংলার নেতৃত্বে বদল আনতে চলেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী৷ আগামী মাসেই নতুন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির নাম ঘোষণা করবেন তিনি৷

বিধানভবন সূত্রের খবর, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীর কাঁধে বাংলার দায়িত্ব না থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে৷ এর সঙ্গে নয়া সভাপতির নাম নিয়েও নানা জল্পনা শুরু হয়েছে বিধানভবনের অন্দরে৷

কয়েকটি রাজ্যের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গেও প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পদের মেয়াদ শেষ হয়েছে৷ সূত্রের খবর, এতদিন পঞ্চায়েত ভোটের জন্য এ রাজ্যে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির নাম ঘোষণা আটকে থাকলেও, খুব শীঘ্রই সেই কাজ সেরে ফেলতে চাইছে দলের হাইকম্যান্ড৷

- Advertisement -

জানা গিয়েছে, জুন মাসের ১৮ তারিখ নতুন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির নাম ঘোষণা হবে৷ তবে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হিসাবে অধীররঞ্জন চৌধুরীই থাকছেন, না অন্য কেউ এই দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা নিয়ে চলছে জোর গুঞ্জন৷ সূত্রের খবর, অধীররঞ্জন চৌধুরীকে সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি এক প্রকার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে৷ সেক্ষেত্রে এই পদের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন প্রদীপ ভট্টাচার্য ও দীপা দাশমুন্সি৷

জানা গিয়েছে, হাইকম্যান্ডের তালিকায় এই দু’জন ছাড়াও প্রণবপুত্র অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় ও মৌসম বেনজির নূরের নামও ছিল৷ কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের আগে নিজেদের এলাকায় আরও বেশি সময় দিতে চান এই দুই সাংসদ৷ তাই এই দু’জনই সভাপতি পদের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন৷ তবে, শুধু সভাপতি নয়, কার্যকরী সভাপতিদের নামও ঘোষণা করা হবে৷ এই পদে শঙ্কর মালাকারের নাম শোনা যাচ্ছে৷

দীপা দাশমুন্সি ও প্রদীপ ভট্টাচার্যের মধ্যে কে এগিয়ে রয়েছেন, তা নিয়েও এখন অংক কষছেন বিধানভবনের বহু নেতা৷ কংগ্রেসের সাম্প্রতিক প্লেনামে প্রিয়জায়া বক্তা ছিলেন৷ তিনি এ রাজ্যে সিপিএমের সঙ্গে কংগ্রেসের সংঘবদ্ধভাবে জোটের কথা বলেছেন৷ সূত্রের খবর, বর্ষীয়ান এই কংগ্রেস নেত্রীর বক্তব্য এবং পরামর্শ, দুটোই শীর্ষ নেতৃত্বকে মুগ্ধ করেছে৷ তার পরই সভাপতি পদের আলোচনায় তাঁর নাম উঠতে শুরু করেছে৷ তবে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সাপে-নেউল সম্পর্ক সেক্ষেত্রে বাধা হতে পারে বলে মনে করছে প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের একাংশ৷

এক বর্ষীয়ান নেতার যুক্তি, দলের নীচু স্তরের কর্মী-সমর্থকদের একটা বড় অংশ এ রাজ্যে সিপিএমের সঙ্গে জোটে আগ্রহী৷ তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য নতুন সভাপতি হিসাবে দীপা দাশমুন্সি তাদের পছন্দের৷ কিন্তু হাইকম্যান্ড অন্য অংক কষছে৷ বিজেপিকে ঠেকাতে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেই থাকছে চাইছে৷ কিন্তু, দীপা দাশমুন্সির চরম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী মনোভাব দলকে বিপাকে ফেলতে পারে৷ এক্ষেত্রে প্রদীপ ভট্টাচার্যর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পর্ক অনেক নরম৷ তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থনে রাজ্যসভায় সাংসদও হয়েছেন৷ তিনি সভাপতির পদও পরিচালনা করেছেন৷ তাই সভাপতির দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন প্রদীপ ভট্টাচার্য ৷

কিন্তু অধীররঞ্জন চৌধুরীকে সরিয়ে দিতে চাওয়ার কারণ কী? কংগ্রেস নেতাদের একাংশের বক্তব্য, তাঁর সময়ে একাধিক কংগ্রেস বিধায়ক দল ছেড়েছেন৷ এমনকি পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাঁর গা ছাড়া মনোভাব নিয়ে অনেকেই হাইকম্যান্ডের কাছে নালিশ জানিয়েছে৷ হাইকম্যান্ডও তাঁর উপর অসন্তুষ্ট৷ তাই বাংলার কংগ্রেসে ‘অধীর যুগে’র পতন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা বলেও অনেকে মনে করছেন৷ যদিও, অধীর ঘনিষ্ঠদের দাবি, এই পরিবর্তন নেহাৎই ‘রুটিনমাফিক’৷ যেহেতু প্রদেশ সভাপতির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাই নতুন সভাপতি নাম ঘোষণা করা হবে৷ এই সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘‘এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই৷’’

Advertisement ---
---
-----