দলেই প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়তে চলেছেন অধীর

দেবযানী সরকার, কলকাতা: আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে বড়সড় ঝড় উঠতে চলেছে প্রদেশ কংগ্রেসে৷ কারণ, এআইসিসির তালিকায় স্থান না পাওয়া বাংলার বহু নেতা বিক্ষোভের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন৷ তার উপর, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তাঁর নিজের লোকেদের সদস্যপদ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠছে৷ যার ফলে খুব শীঘ্রই বিধানভবনে বিক্ষোভ আছড়ে পড়তে চলেছে বলে জানা গিয়েছে৷

সম্প্রতি ১২৬ জনের এআইসিসির সদস্যদের তালিকা তৈরি হয়েছে৷ জানা গিয়েছে, সেই তালিকায় স্থান পাননি বাংলার বহু নেতা৷ যাঁদের মধ্যে অনেকেই প্রবীণ, অনেকে কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মীও রয়েছেন৷

দলে অধীররঞ্জন চৌধুরীর বিরোধিতা করার জন্যই তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠছে৷ যেমন বীরভূম জেলা কংগ্রেসের সভাপতি সৈয়দ সিরাজ জিম্মি, মধ্য কলকাতার কংগ্রেসের সভাপতি সুমন পাল, প্রবীণ নেতা আইনজীবী অরুনাভ ঘোষ৷

- Advertisement -

এমনকী, তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ক্ষমতা ধরে রাখা জয়নগর-মজিলপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সুজিত সরখেলের নামও ওই তালিকায় নেই বলে জানানো হয়েছে৷ তৃণমূল কংগ্রেস যখন ছাত্র-যুবদের বিভিন্ন পদ দিয়ে সামনের সারিতে আনার চেষ্টা করছে, তখন কংগ্রেসের এই গুরুত্বপূর্ণ তালিকায় সেভাবে কোনও ছাত্র-যুবকে রাখা হয়নি বলেও জানানো হয়েছে৷

অথচ, তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে সদ্য কংগ্রেসে যোগ দেওয়া ইন্দ্রানী দত্ত চট্টোপাধ্যায়, মৌমিতা বিশ্বাস কিংবা কয়েকবছর আগে অধীররঞ্জন চৌধুরীর হাত ধরে কংগ্রেসে যোগ দেওয়া অতসী চট্টোপাধ্যায়কেও এআইসিসির সদস্যদের তালিকায় রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে৷

এমনই কারণে কংগ্রেসের বহু পুরোনো নেতা-কর্মী ফুঁসছেন বলে জানা গিয়েছে৷ কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ এক নেতার কথায়, ‘‘অধীররঞ্জন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ দু’জন এই সদস্যপদের তালিকা তৈরি করেছেন৷ তাঁরাই নিজেদের পছন্দের লোকদের এখানে রেখেছেন৷ তাঁদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যাঁরা কংগ্রেস দলটার সম্পর্কে ভালো করে কিছু জানেনই না৷ ’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘অনেকে আছেন, যাঁরা কোনও দিন মাঠে নেমে কাজও করেননি৷ দেখব, পঞ্চায়েতে তাঁরা কে, কী কাজ করেন৷ ’’ তালিকা তৈরির সময় কিছু ক্ষেত্রে ‘লেনদেন’ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি৷

এই ব্যাপারে অধীররঞ্জন চৌধুরী এবং আব্দুল মান্নান, দু’জনের সঙ্গেই ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় তাঁদের বক্তব্য জানার জন্য৷ তবে, তাঁদের বক্তব্য মেলেনি৷ কংগ্রেস সূত্রের খবর, কয়েকজন নেতা আলাদা আলাদাভাবে সভাপতি রাহুল গান্ধীর কাছে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন৷

হাইকম্যান্ডের কাছে নতুন করে তালিকা খতিয়ে দেখার আবেদনও জানানো হয়েছে৷ এমনকী, তালিকা প্রকাশের পর থেকে অনেক নেতাই পঞ্চায়েত ভোটের কাজে হাল ছেড়ে দিয়েছেন৷ যতদিন না একটা হেস্তনেস্ত হচ্ছে ততদিন কোনও কাজ না করার সিদ্ধান্ত তাঁরা নিয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে৷

এমনও জানা গিয়েছে, অধীররঞ্জন চৌধুরী বিধানভবনে আসলেই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে পারেন বহু নেতা-কর্মী৷ এ রাজ্যে কংগ্রেস অস্তিত্ব ‘সঙ্কটে’ ভুগছে৷ প্রায় নিয়ম করে প্রতিদিনই কেউ না কেউ তৃণমূল কংগ্রেস বা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন৷ পঞ্চায়েত ভোটের আগে এআইসিসির নতুন তালিকা কংগ্রেসকে বেগ দিতে পারে বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল৷ বিশেষ করে পঞ্চায়েত নির্বাচনে পুরোনো কর্মীরা বসে গেলে অধীররঞ্জন চৌধুরীর পক্ষে সেটা চাপের হবে বলেই মনে করছে কোনও কোনও মহল৷

Advertisement
---