দেবযানী সরকার, কলকাতা: খেলা শুরু৷ মাত্র কয়েকদিন আগেই যাঁরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর অত্যন্ত ঘনিষ্ট ছিলেন দল বদলের পর তাঁরাই প্রস্তুত হচ্ছেন অধীর বিরোধীতায়৷ সদ্য কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া হুমায়ুন কবীর আগেই বলেছেন, দল চাইলে তিনি অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে লড়তে তৈরি৷ ২১ জুলাই ঘাসফুল শিবিরে নাম লিখিয়ে এবার কংগ্রেস বিধায়ক আক্রুজাম্মানের মুখেও শোনা গেল একই কথা৷

হুমায়ুন কবীর, আক্রুজ্জামান দুজনেই মুর্শিদাবাদের৷ একজন রেজিনগরের প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক, অন্যজন রঘুনাথগঞ্জের বর্তমান কংগ্রেস বিধায়ক৷ অধীর চৌধুরীর দুই খাস লোকই এখন আর কংগ্রেসে নেই৷ মাস দেড়েক আগে বিজেপিতে গিয়েছেন হুমায়ুন কবীর৷ আর ২১ জুলাই তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন আক্রুজ্জামান৷

Advertisement

প্রদেশ সভাপতির ডান হাত বলে পরিচিত ছিলেন আক্রুজ্জামান৷ বিধানভবনেও তিনি ছিলেন সেকেন্ড ইন কম্যান্ড৷ কিন্তু ঘাসফুলের ঝান্ডা ধরার পর তিনি বলেন, “আমার মনে হয়েছে সাম্প্রদায়িক বিজেপিকে একমাত্র ঠেকাতে পারে তৃণমূল৷ তাই তৃণমূলে যোগ দিয়েছি৷” তাঁকে প্রশ্ন করা হয় যে অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস যদি আপনাকে প্রার্থী করে তাহলে কী লড়বেন? তাঁর এককথায় ইঙ্গিতপূর্ন উত্তর, “দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব যেখানে বলবে আমি সেখানেই প্রার্থী হব৷”

কংগ্রেসের অন্দরে শোনা যেত, আক্রুজ্জামান যদি অধীর চৌধুরীর ডান হাত হয় তাহলে মুর্শিদাবাদে হুমায়ুন কবীর ছিলেন প্রদেশ সভাপতি বাঁ-হাত৷ উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই দুই ঘনিষ্ট নেতা তাঁকে ছেড়ে গেলেও দুজনের দলবদল নিয়ে অধীর চৌধুরী প্রকাশ্যে কোনও কটূ কথা বলেননি৷

ইতিমধ্যেই তৃণমূলী আক্রমণে অধীর দুর্গে ক্ষয় ধরেছে ৷ লোকসভা নির্বাচনে যদি দুই ছায়াসঙ্গী অধীর চৌধুরীকে সাঁড়াশি আক্রমণ করে তাহলে তাঁর মনোবলে ধাক্কা লাগতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷ তাদের মতে, একদিকে তৃণমূল আক্রুজ্জামানকে অন্যদিকে বিজেপি হুমায়ুন কবীরকে কাছে টেনে নিজেদের মতো খেলা শুরু করে দিয়েছে৷ প্রদেশ কংগ্রেসের এক নেতার কথায়, এতে তৃণমূল-বিজেপির আঁতাত আরও স্পষ্ট হয়ে গেল৷

তবে অধীর অনুগামীদের একটাই কথা, “অধীরদার সঙ্গে কে থাকল, কে গেল ওসবে কিছু যায় আসে না৷ মুর্শিদাবাদের মানুষ অধীর চৌধুরীর সঙ্গে আছে৷ ভোটের সময় তারাই তৃণমূল-বিজেপিকে যোগ্য জবাব দেবে৷”

----
--