স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: দিল্লি থেকে ফিরেই দলের জেলা সভাপতিদের নিয়ে বৈঠকে বসছেন প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরী৷ ১২ অগাস্ট রবিবার বেলা ১১টায় বিধানভবনে বৈঠক ডেকেছেন তিনি৷ সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে সুর চরাতে চলেছে প্রদেশ কংগ্রেস৷ তার আগে ভাঙা দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে চাইছেন অধীর চৌধুরী৷এই বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে এখন দুটি প্রশ্ন৷

এক, তাহলে কী রাহুল গান্ধী মুখে বললেও আদৌও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নমনীয় হননি? নাকি প্রদেশ সভাপতির পদ খোয়ানোর আগে অধীর চৌধুরীই মমতা বিরোধীতার ঝাঁঝ বাড়িয়ে দিতে চাইছেন দলের মধ্যে৷ এই দুটি সম্ভাবনাই একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না প্রদেশ নেতারা৷

Advertisement

চলতি বছরেই নানান ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকারের চেপে ধরতে চলেছে ‘অধীর অ্যান্ড কোং’৷ তার ব্লু প্রিন্ট তৈরি হবে রবিবার৷ এদিন সমস্ত জেলা সভাপতিদের বৈঠকে ডেকেছেন প্রদেশ সভাপতি৷ সূত্রের খবর, রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থার বেহাল দশা সাধারণ মানুষের সামনে আনতে চাইছে প্রদেশ কংগ্রেস৷এছাড়াও বিদ্যুতের মাসুল বৃদ্ধি নিয়েও সরব হতে চলেছে তারা৷ আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এনিয়ে বড় কর্মসূচী রয়েছে প্রদেশ কংগ্রেসের৷

এদিকে, দিল্লিতে থেকে ফিরে অধীর চৌধুরীর সটান এই বৈঠক ডাকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানান জল্পনা তৈরি হয়েছে৷ অনেকে মনে করছেন, রাহুল গান্ধীর থেকে কোনও ইঙ্গিত পেয়েই হয়তো লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলকে বেকায়দায় ফেলার পরিকল্পনা নিচ্ছেন অধীর চৌধুরী৷ রাজ্য-রাজনীতিতে কারোরই অজানা নয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অধীর চৌধুরীর সাপে-নেউল সম্পর্কের কথা৷ কংগ্রেসেরই অনেকে বলেন, দলের মধ্যে অধীর চৌধুরী সবথেকে বড় মমতা বিরোধী৷ জল্পনা, অধীরকে সামনে রেখে মমতাকে চাপে রাখতে চাইছেন রাহুল৷

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে দিল্লিতে গিয়ে রাহুল গান্ধী-সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁদের মধ্যে ফেডারেল ফ্রন্ট নিয়েও কথা হয়৷ তারপরই ঘনিষ্ট মহলে রাহুল গান্ধী জানিয়েছিলেন বিজেপিকে হারানোর জন্য তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা বিএসপি নেত্রী মায়াবতীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে তাঁর কোনও অসুবিধা নেই৷

অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি হটাতে সব রাজ্যে একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী বললেও বাংলাতে তিনি সব আসনে একাই লড়তে চান৷ সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য রাহুল গান্ধী-সোনিয়া গান্ধীর মোটেই পছন্দ হয়নি৷ কংগ্রেসের অনেকে মনে করছে, যদি এরাজ্যে একা লড়ে তাহলে কংগ্রেস একচুলও জমি ছাড়বে না৷ আর যদি আসন সমঝোতাও হয় তাহলেও নানান ইস্যুতে মমতাকে চাপে রেখে আসন বের করার চেষ্টা করবে কংগ্রেস৷

তবে এই বৈঠক নিয়ে দলের অন্দরে আর একটি জল্পনা শুরু হয়েছে৷ সেটা হল, কয়েকমাস ধরেই প্রদেশ সভাপতি পদে রদবদলের জোড়ালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে৷ বিধানভবনের কর্তারা মনে করছেন, চলতি মাসেই প্রদেশ সভাপতির পদ থেকে সরানো হতে পারে অধীর চৌধুরীকে৷ তাই তাঁদের মতে, পদ ছাড়ার আগে দলের মধ্যে মমতা বিরোধীতা আরও বাড়িয়ে দিতে চাইছেন তিনি৷ তবে কারণ যাই হোক না কেন, ভাঙাচোরা কংগ্রেস প্রস্তুতি নিচ্ছে শক্তিশালী তৃণমূলকে ‘ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে’ জবাব দিতে৷

----
--