‘শুভেন্দু কংগ্রেসের ঘর ভাঙলে আমার কী?’

স্টাফ রিপোর্টার, বারাসত: শুভেন্দু অধিকারী কংগ্রেসের ঘরে থাবা বসিয়েছে। একের পর এক জনপ্রতিনিধি দলবদল করে নাম লিখিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসে। যদিও এই নিয়ে একেবারেই চিন্তিত নন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

আরও পড়ুন- বাংলায় কংগ্রেসের ‘দোসর’ শিবসেনা

বুধবার ২০১১ সালের একটি খুনের মামলায় বারাসতের বিশেষ আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন বহরমপুরের সাংসদ তথা কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। সেখানেই দল ভাঙানো নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ওই মন্তব্য করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।

২০১১ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে রাজ্যের ক্ষমতা দখল করে তৃণমূল। যদিও এক বছরের মধ্যেই সেই জোট ভেঙে যায়। তারপরে বিভিন্ন সময়ে কংগ্রেসের অনেক নেতা-বিধায়ক তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে সেই আশংকা থেকে বিজয়ী বিধায়কদের কোর্ট পেপারে চুক্তি করিয়ে নেয় কংগ্রেস। কিন্তু লাভ হয়নি, অনেক কংগ্রেস বিধায়ক দলবদল করে শাসক শিবিরে নাম লিখিয়েছেন।

আরও পড়ুন- কংগ্রেসের জোটের চিঠিকে গুরুত্বই দিচ্ছে না বামেরা

রাজ্যের মালদহ এবং মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। মুর্শিদাবাদ জেলা আবার অধীর রঞ্জন চৌধুরীর খাসতালুক। কিন্তু দুই জেলা থেকেই অনেক কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের ভাঙিয়ে তৃণমূলে নিয়ে এসেছেন রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসের একমাত্র জেলা পরিষদ সদস্যও খুব শীঘ্রই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে চলেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এই বিষয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেছেন, “কংগ্রেসের ঘর ভাঙছে তো আমার কি? আমার কোনও ঘর নেই।”

আরও পড়ুন- একটিমাত্র জেলাপরিষদ আসনও হাতছাড়া হতে চলেছে অধীরের

এই ভাবে দল ভাঙানোর খেলা চলতে থাকলে প্রদেশ কংগ্রেসের ক্ষতি হবে না? এই প্রশ্নের উত্তরে সভাপতি অধীর বাবু বলেছেন, “একের পর এক জনপ্রতিনিধি যদি কংগ্রেস ছেড়ে চলে যায় তাহলে কংগ্রেসের ক্ষতি তো হবেই। লাভ হবে তো কখনও বলিনি।” দলের ভাঙন ঠেকাতে এবং সংগঠন মজবুত করতে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে দল ভাঙানো নিয়ে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনা করেছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের প্রলোভন এবং ভয় দেখিয়ে দল ভাঙানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। সমগ্র প্রক্রিয়াটিকে চোরাশিকারের সঙ্গেও তুলনা করেছেন অধীর বাবু।

আরও পড়ুন- হুমায়ুনকে গেরুয়া শিবিরে পাঠিয়ে নিজের জন্য ইট পাতলেন অধীর: শুভেন্দু

সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, “বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যদি স্বচ্ছতা এবং প্রকৃত রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন তাহলে যাদেরকে ভাঙাচ্ছেন তাদের পকেট থেকে কংগ্রেসের প্রতীক কেড়ে নিয়ে তৃণমূলের প্রতীক ভরে দিচ্ছেন না? অর্থাৎ নির্বাচন কেন করাচ্ছেন না?” তৃণমূল কংগ্রেসের এই দল ভাঙানোর প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক অপরাধ বলে দাবি করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

----
-----