সুলতানের কবল থেকে মিথিলাকে ছাড়াতে শুরু অনশন

স্টাফ রিপোর্টার, কোচবিহার: সাবেক ছিটমহলের অদিবাসীদের অস্থায়ী আশ্রয় শিবির থেকে নিখোঁজ হয়েছিল ১৩ বছরের মিথিলা বর্মন৷ তাকে ফিরে পেতে কোচবিহারের দিনহাটার সাবেক ছিটমহলের অদিবাসিরা মঙ্গলবার অনশনে বসল৷ কোচবিহার জেলা শাসকের দফতরের সামনে অনশনে বসে তাঁরা৷ পরে অবশ্য প্রশাসনের আশ্বাসে অনশন তুলে নেন তাঁরা।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ জুন টিউশনে যাওয়ার পথে দিনহাটা ছিটমহল আশ্রয় শিবিরের ১৩ বছররের কিশোরি মিথিলা বর্মন নিখোঁজ হয়ে যায়। অভিযোগ আশ্রয় শিবিরে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারি এক বাংলাদেশী যুবক সুলতান খান অপরহন করে মিথিলাকে৷

আরও পড়ুন: জলপাইগুড়িকে ‘সবুজে ঘেরা শহর’ গড়ার বার্তা

- Advertisement -

এরপর ১৫ জুন দিনহাটা থানার এই বিষয়ে অভিযোগ করা হয়৷ কিন্তু ৪০ দিন কেটে গেলেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। অবশেষে মঙ্গলবার নিখোঁজ নাবালিকার উদ্ধারের দাবিতে কোচবিহার জেলা শাসকের দফতরের সামনে আমরন অনশনে বসে মিথিলার পরিবার ও অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরের বাসিন্দারা।

মিথিলাকে খুঁজে পাওয়ার পাশাপাশি অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি করেছেন তাঁরা। এদিন নিখোঁজ মিথিলা বর্মনের মা রেখা বর্মন বলেন, ‘৪০ দিন হয়ে গেল পুলিশ প্রশাসন কেউই মেয়ের খোঁজ দিতে পারলনা৷ মেয়ে মরে গেছে বা বেঁচে আছে তাও জানিনা৷’ দ্রুত মেয়েকে ফিরে পেতে এদিন অনশনে যোগ দেন পরিবারের সকলেই।

আরও পড়ুন: ঝাড়গ্রামের বিডিও পরিচয়ে থানায় তাণ্ডব মত্ত যুবকের

এদিন এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছিটমহলের অদিবাসীদের অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরের বসিন্দা মহম্মদ ওসমান গনি জানান, অস্থায়ী শিবিরগুলিতে মাঝে মধ্যেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারিরা আশ্রয় নিচ্ছে৷ এই বিষয়ে বার বার পুলিশকে বলা হয়েছে৷ তাসত্বেও কোন ব্যবস্থাই নেয়নি পুলিশ। সঠিক ব্যবস্থা নিলে আজ মিথিলার এই অবস্থা হতনা৷

এদিন অনশনে বসার কিছুক্ষনের মধ্যেই পুলিশ এসে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে তাঁরা অনশন তুলে নেয়। পরে মহম্মদ ওসমান গনি বলেন, ‘পুলিশ জানিয়েছে দুই এক দিনের মধ্যেই তাঁরা মিথিলাকে খুঁজে বের করবে৷ পাশাপাশি আশ্রয়শিবিরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে এর আশ্বাসে আমরা অনশন প্রত্যাহার করলাম৷ কিন্তু পুলিশ প্রতিশ্রুতি পালন না করলে ফের অনশনে বসব আমরা৷’

আরও পড়ুন: দাবানলের গ্রাসে গোটা গ্রাম, মৃত বেড়ে ৬০

Advertisement ---
-----