কাবুল: ক্রমাগত ফোনে হুমকি পেয়ে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন লিওনেল মেসির খুদে ফ্যান মুর্তাজা আহমেদি৷ ছেলে অপহরণের ভয়ে আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল মুর্তাজার পরিবার৷ পরে কাবুলে ফিরলেও তালিবান আতঙ্কে কার্যত গৃহবন্দি ‘আফগান মেসি’৷

দেশে ফিরলেও মোটেও ভালো নেই মেসির খুদে ফ্যান৷ ৭ বছরের আহমেদির দিন কাটছে তালিবানি আতঙ্কে৷ মুর্তাজার মা শাফিকা জানান, ‘অনেকেই বলছে তালিবানরা আমার ছেলেকে খুঁজছে৷ ওরা খুঁজে পেলে আমার ছেলেকে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলবে৷ তাই আমি সবসময় ওর মুখ ঢেকে রাখার চেষ্টা করি৷’ দেশে ফিরলেও তাদের জেলা জাগহরিতে থাকতে পারেনি মুর্তাজার পরিবার৷ কারণ বন্দুকের আওয়াজ শোনার পর রাতারাতি কাবুলে চলে আসে৷ রাজধানীতে বাড়ি ভাড়া করে থাকে মেসির এই খুদে ফ্যান৷

আফগানিস্তানের যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা এই শিশুর জীবনকাহিনি রূপকথার গল্পকেও হার মানাবে৷ তালিবানিদের হাত থেকে বাঁচতে মা-বাবার সঙ্গে দু’ বছর আগে পালিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানে। আসল জার্সি কেনার সামর্থ্য নেই বলে পলিথিন দিয়ে তৈরি করে নিয়েছিল লিওনেল মেসির জার্সি। এই ভালোবাসা দেখে আবেগে ভেসেছে বিশ্ব। মেসি নিজেও বাদ যাননি।

আর্জেন্তাইন অধিনায়ক নিজে শিশুটিকে ডেকে নিতে চেয়েছিলেন বার্সেলোনায়। কিন্তু ভিসা জটিলতার কারণে তখন তা সম্ভব হয়নি। পরে ইউনিসেফ আফগানিস্তানের মাধ্যমে মেসি দু’টি জার্সি ও কিছু ফুটবল উপহার পাঠিয়েছিল মোর্তাজাকে। পরে অবশ্য স্বপ্নপূরণ হয় মুর্তাজার৷ প্লাস্টিক মেসি নামে সারা বিশ্বে পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে। একেবারে সোজা লিওনেল মেসির কোলে গিয়ে উঠল এই আফগান শিশু। প্রীতি ম্যাচ খেলতে কাতারের দোহায় গিয়েছিল বার্সেলোনা। সেখানেই মুর্তাজাকে কোলে তুলে নিয়েছেন বার্সা তারকা।

প্লাস্টিকের ব্যাগের তৈরি মেসির আর্জেন্তাইন জার্সি গায়ে ফুটবল খেলা পাঁচ বছরের মুর্তাজা সোশাল মিডিয়ার মারফত রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যায়৷ যা নজর এড়ানি আর্জেন্তাইন ফুটবল তারকার৷ পরে নিজের সই করা দেশের জার্সি বিশ্বে তাঁর সবচেয়ে খুদে ফ্যানকে দেন মেসি৷ প্রিয় ফুটবলারের জার্সি পেয়ে খুদে ভক্তের আনন্দের শেষ না-হলেও তা বিষাদ বয়ে নিয়ে তার পরিবারের জন্য৷ এর পর থেকেই ক্রমাগত হুমকির ফোন আসে মুর্তাজার বাবার ফোনে৷ মহম্মদ আরিফ আহমেদি জানিয়েছিলেন, ‘এর পর থেকে আমাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠেছে৷ ফোনে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছে৷ ভয় হচ্ছে, আমার ছেলেকে না অপহরণ করে নেওয়া হয়৷ এই ভয়ে আমরা দেশ ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷’

যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান থেকে আহমেদি পরিবার প্রথমে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যাওয়ার কথা ভেবেছিল৷ কিন্তু ওখানে জীবনধারণের ব্যয় বেশি হওয়ায় পরে আফগান সীমান্ত সংলগ্ন পাকিস্তানের কোয়েটা শহরে থাকার সিদ্ধান্ত নেয় মুর্তাজা পরিবার৷ আরিফ আহমেদি সেদিন জানিয়েছিলেন, ‘ছেলেকে বাঁচাতে আফগানিস্তানে আমাদের সব সম্পত্তি বিক্রি করে পাকিস্তানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই৷ বাকি জীবনটা ওখানেই কাটাব৷’ কিন্তু তা হয়নি৷ ফের কাবুলে ফেরে মুর্তাজার পরিবার৷ তবে কাবুলে ফেরার ছ’দিনের মধ্যে বেমিয়ানের এক মসজিদে ঢুকতে তাদের বাধা দেওয়া হয়৷

----
--