বিশ সাল বাদ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স

মস্কো: ফুটবল মঞ্চে ফের ফরাসি বিপ্লব! রবিবার লুজনিকি স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়ার রুপকথা থামিয়ে বিশ সাল বাদ ফের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হল ফ্রান্স৷ বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে ফরাসিরা প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ১৯৯৮৷ সেবার ফ্রান্সের নেতৃত্ব ছিল এবারের কোচ দিদিয়ের দেশঁ৷ এবার ফ্রান্সের বিশ্বজয়ী অধিনায়ক লরিস৷

দু’ বছর আগে ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে ফাইনালে পর্তুগালের কাছে হেরে দেশঁ-র জয়রথ থেমে গিয়েছিল৷ এবার আর কোনও ভুল নয়৷ ট্রফি জিতেই রাশিয়া ছাড়তে চলেছে তাঁর ছেলেরা৷ মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়াম সাক্ষী থাকল নতুন ইতিহাসের৷ বৃষ্টিস্নাত রাতে চ্যাম্পিয়নদের বরণ করে নিল ফুটবলবিশ্ব৷ আগামী চার বছর ফুটবলবিশ্বের রাশ থাকবে ফরাসিদের হাতে৷

আরও পড়ুন: থ্রিলার ফাইনাল হেরে ‘ট্র্যাজিক’ নায়ক ক্রোটরা

- Advertisement -

আইসল্যান্ড ক্ল্যাপের মাধ্যমে বৃষ্টিস্নাত সবুজ গালিচায় বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে গড়াগড়ি খেলেন গ্রিজমান-এমবাপে-লরিসরা৷ ১৯৭০ সালে শেষবার ফাইনালে চার গোল করেছিল ব্রাজিল৷ সেই কীর্তি গড়ল এবার ফ্রান্স৷ ক্রোয়েশিয়া ৪-২ হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেলেন এমবাপে-গ্রিজমানরা৷ রুদ্ধশ্বাস লড়াই করেও চোখের জলে রাশিয়া থেকে বিদায় নিলে ক্রোয়েশিয়া৷ বিশ্ববাসীকে সেরা ফুটবল উপহার দিয়েও বিশ্বসেরার খেতাব জিতে পারলেন না কলিন্দা গ্রাবার কিটোরোভিচের দেশের ছেলেরা৷

আরও পড়ুন: রাশিয়ায় ফরাসি বিপ্লব, অনবদ্য লড়াই করে হারল ক্রোয়েশিয়া

ফাইনালের ৬ গোলের রোলার-কোস্টার রাইড শেষে শেষ হাসি হাসল ফরাসিরা৷ শুরুতেই এদিন বিপদ ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন মানজুকিচ৷ এরপর দু’বার পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফেরে ক্রোটরা৷ শেষরক্ষা অবশ্য হল না৷ ক্রোটরা বল পজিশনে অনেকটা এগিয়ে থাকলেও ভাগ্যের কাছেই হারল তারা৷

শুরুতে আত্মঘাতী গোল, ৩৮ মিনিটে আবার পেরিসিচের হ্যান্ডবল৷ সহকারী ভিডিও রেফারির সাহায্য নিয়ে পোনাল্টি দেন আর্জেন্তাইন রেফারি৷ পেনাল্টি থেকে সুযোগ পেয়ে গোল ব্যবধান বাড়াতে কোনও ভুল করেন গ্রিজমান৷ সেই সঙ্গে যেন এই সত্যটা ফের প্রমাণ হলে গেল, গ্রিজমান গোল করলে ম্যাচ হারে না ফ্রান্স৷ এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ৬ মিনিটে স্বপ্নশেষ ক্রোয়েশিয়ার৷ ৬ মিনিটের ব্যবধানের দুটি গোল করে ক্রোয়েশিয়ার কফিনে শেষ পেরেক পুতে দেন পোগবা ও এমবাপে৷ শেষ দিকে লরিসের ভুলে মানজুকিচের গোলে ব্যবধান কমালেও হাসতে হাসতে ম্যাচ জিতে নেয় ফ্রান্স৷

আরও পড়ুন: টুর্নামেন্টের সেরা মদ্রিচ, সেরা উঠতি ফুটবলার এমবাপে

সেই সঙ্গে আরও একটি সংস্কারে সিলমোহর পড়ল, মেগা টুর্নামেন্টে গ্রিজমান গোল করলে সেই ম্যাচ হারে না ফরাসিরা৷ ফাইনালেও সেই সংস্কার অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল৷ নক-আউটে আর্জেন্তিনা, উরুগুয়ে, বেলজিয়ামের পর ক্রোয়াশিয়াকে হারিয়ে যোগ্য দল হিসেবে বিশ্বকাপ ট্রফিতে চুমুক দিল ফ্রান্স৷ ম্যাচের সেরা হয়েছেন গ্রিজমান৷

Advertisement
-----