এক দশক পর বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পাচ্ছে ভারতীয় সেনা

নয়াদিল্লি: ভারতের জওয়ানদের জন্য খুশির খবর! এর পর ৩ লক্ষ ৩ হাজার ৭৬৫ জন জওয়ানকে বেঘোরে মরতে হলেও অন্তত ৫০ হাজার জওয়ানকে সরাসরি একগুলিতে কাবার হতে হচ্ছে না৷ এই মুহূর্তে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রয়োজন ৩ লক্ষ ৫৩ হাজার ৭৬৫টি বুলেটপ্রুফ ভেস্ট। সিদ্ধান্ত হওয়ার প্রায় এক দশক বাদে আপাতত জরুরিকালীন ভিত্তিতে ৫০ হাজার ভেস্ট সরকার দিতে চলেছে। তার জন্য আবার ‘এমার্জেন্সি’ মুচলেকায় স্বাক্ষর করতে হয়েছে সেনাবাহিনীকে। অথচ, এই ভেস্ট বাবদ ১৪০ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর হয় ১০ বছর আগে। মাঝের বছরগুলিতে এই টাকাটা কোথায় খাটল তা ঈশ্বর জানেন!

আগামী অগাস্ট মাস থেকে এই জ্যাকেট সেনা জওয়ানদের দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। ২০১৭-র জানুয়ারির মধ্যে সব জ্যাকেট দিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে সেনাবাহিনী যে জ্যাকেট ব্যবহার করে, সেগুলি কোনও দিক থেকেই যথেষ্ট নয়। অনেকগুলির লাইফটাইমও শেষ হয়ে এসেছে। ২০১২ সালের মধ্যে ১.৮৬ লক্ষ জ্যাকেট ও ২০১৭-র মধ্যে ১.৭৬ লক্ষ জ্যাকেট দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, কোনও লক্ষ্যমাত্রাই সরকার ছুঁতে পারেনি।

বর্তমানে ডিআরডিও নয়া প্রযুক্তির বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট তৈরি করেছে। আশার কথা একটাই, প্রথম ধাক্কায় একে-৪৭ ও সেলফ লোডিং রাইফেলের বুলেট আটকাতে পারবে, এমন ক্ষমতাসম্পন্ন জ্যাকেট হচ্ছে ডিআরডিও-র নতুন প্রযুক্তিতে। ২০০৯-এর অক্টোবরেই প্রথম ১.৮৬ লক্ষ জ্যাকেট চায় ভারতের সেনাবাহিনী। কিন্তু ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ করতে সরকারি খরচ না আটকালেও সেনাবাহিনীর চাহিদা মেটাতে গেলেই তা হোঁচট খায়৷ অজুহাত হিসাবে বলা হয়, সময় লাগবে, কারণ একেকটি জ্যাকেটের দাম ৫০ হাজার টাকা। এই জ্যাকেট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সেনাবাহিনীর মাঝারি স্তরের অফিসার এবং সেনা জওয়ানদের মধ্যে বিক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। কারণ, যে কোনও বিপদের মোকাবিলা তো তাঁদেরই মাটিতে দাঁড়িয়ে করতে হয়৷স্টাফকে করতে হয় না! তাই জওয়ানদের জীবনের পরোয়া সরকারের নেই বলেও তখন সরব হয়েছিলেন অনেক প্রাক্তন ফৌজি।

Advertisement
---