তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: শারদোৎসবের পর এবার লক্ষ্মী পুজোতেই থিমের জোয়ারে ভাসছে বাঁকুড়ার জঙ্গল মহল। সারেঙ্গার বিক্রমপুর-হর‍্যাকী গ্রাম ষোলোআনার উদ্যোগে প্রথম বছরের এই পুজোর হাত ধরেই প্রত্যন্ত গ্রামেও থিমের প্রবেশ। কোনও বিখ্যাত শিল্পী বা মণ্ডপ নির্মাণকারী সংস্থাকে দিয়ে নয়, এই গ্রামের স্কুল পড়ুয়ারাই তৈরি করে ফেলেছে এই মণ্ডপ।

জঙ্গল মহলের সবুজ রক্ষার আবেদন নিয়ে এবারের থিম ‘সবুজ বাঁচাও’৷ স্বল্প বাজেটে মূলত বাঁশ, খড়, পুরনো কাপড় আর কচুরিপানা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে গাছপালা ভরতি পাহাড়ের আদলে মণ্ডপ। যেখানে থিমের মাধ্যমে বন ও বন্যপ্রাণ রক্ষার আবেদন জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিমাতেও সেই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন উদ্যোক্তারা।

খাবারের সন্ধানে ‘দলমার দামাল’দের জঙ্গল মহলের বিভিন্ন গ্রামে হঠাৎ হাজির হয়ে যাওয়া নতুন কিছু নয়। হাতি নিয়েই এক প্রকার আতঙ্কে থাকেন এখানকার মানুষ। তাই হাতি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার বার্তা দিতে লক্ষ্মী প্রতিমার দু’পাশে রয়েছে দু’টি সাদা হাতি। সব মিলিয়ে প্রথম বছরের লক্ষ্মী পুজোয় দারুণ সাড়া পড়েছে জঙ্গল মহলের এই গ্রামে।

পুজো কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা রাজকুমার সন্নিগ্রহী বলেন, ‘‘জঙ্গল মহলের গ্রামীণ এলাকার মানুষকে বন ও বন্যপ্রাণ রক্ষার আবেদন ও একই সঙ্গে সচেতন করতে এই থিম ভাবনা। থিম ভাবনা সফল রূপায়ণ ঘটিয়েছে গ্রামের ছোটোরাই।’’ অভিনব মণ্ডপ সজ্জা ও প্রতিমার টানে দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে তাদের গ্রামে ছুটে আসছেন বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে, সারেঙ্গার খয়েরপাহাড়ী গ্রামে লক্ষ্মী পুজো উপলক্ষে বিগত বছরের মতো এই বছরও তিনদিনের মেলা শুরু হল। মূলত আদিবাসী সমাজের মেলা হিসেবে পরিচিত হলেও সকল সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে অংশগ্রহণ করেন। মোরগ লড়াই, আদিবাসী নৃত্যের পাশাপাশি নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে। যা দেখতে রাজ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বিহার, ঝাড়খণ্ড এলাকা থেকেও অসংখ্য মানুষ ছুটে আসেন বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে সারেঙ্গার গড়গড়্যার নিবড়া, সিমলাপালের তিলাবনী, পারুলিয়া, হরিণ্যাগুড়ি, মাদারিয়া, খাতড়ার কেশিয়া, তালডাংরার হাড়মাসড়া, ভীমাড়া সহ খাতড়া মহকুমা এলাকার বিভিন্ন গ্রামে সার্বজনীন ও পারিবারিক উদ্যোগে কয়েকশো পুজো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

--
----
--