পরাগ মজুমদার, মুর্শিদাবাদ: তথাকথিত কোনও কম শিক্ষিত পরিবারের ঘটনা নয়। রীতিমত আধুনিক, শিক্ষিত এক সামাজিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত পরিবারে পণের দাবিতে প্রাথমিক স্কুলের এক প্রধান শিক্ষিকাকে বুধবার নৃশংস ভাবে আগুনে পুড়িয়ে মারার ঘটনার সাক্ষী  থাকল মুর্শিদাবাদের জালঙ্গি৷ অভিযোগে গ্রেফতার গুণধর স্বামীও৷ অভিযুক্ত শাশুড়ি ও ননদ পলাতক। ঘটনাটি ঘটেছে  জলঙ্গি থানার  পোল্লাডাঙ্গা গ্রামে।

রাণিনগরের  তেজসিংহপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মানজুমা বেগমের সঙ্গে মাস ছয়েক আগে ঘটা করে বিয়ে হয় সফিকুল ইসলামের৷ শুরুর কয়েকদিনের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক কাটলেও, কয়েক দিন বাদ থেকেই শুরু হয় পণের দাবিতে অত্যাচার। অভিযোগ বিয়ের পরে টাকার চাপ দিয়ে প্রায়ই শারীরিক ভাবে অত্যাচার করা হত ওই স্কুল শিক্ষিকাকে। দিন কয়েক আগে জমি কেনার জন্য ৩ লক্ষ টাকা মানজুমার বাবার বাড়ি থেকে আনতে বলে সফিকুল। সেই টাকা দিতে না পারায় অত্যাচার আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ।

বুধবার বিকেলে মানজুমাকে মুখের মধ্যে কাপড় ঢুকিয়ে শ্বাসরোধ করে তাঁর শ্বশুর বাড়ির লোক। এরপর তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় তাঁরা। জালঙ্গি থানার পুলিশ  মানজুমার দগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্তরা। মানজুমার দাদা নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্বামী সহ তিনজনের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে থানায়। পুলিশ অভিযুক্ত  স্বামী সফিকুল  ইসলামকে গ্রেফতার করেছে। মৃতদেহটি ময়না তদন্তের জন্য বহরমপুরে পাঠানো হয়েছে।

----
--