বিজেপি বলরাম পুজো করলে ‘ওভারঅ্যাক্ট’ হবে: নৃসিংহপ্রসাদ

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বলরাম পুজো আবার কী? পাত্তাই দিতে চাননা প্রাবন্ধিক নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী৷ রাজ্যজুড়ে বিজেপির বলরাম পুজোর উদ্যোগের কথা শুনে তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘‘বলরামের পুজো বাংলা দেশে কেন ভূ-ভারতে কোথাও হয় বলে শুনিনি৷ এমনকী রাষ্ট্রীয় পঞ্চাং বা রাষ্ট্রীয় পঞ্জিকাতেও বলরাম পুজোর উল্লেখ নেই৷ বিজোপি যদি এটা করে, তবে ‘ওভারঅ্যাক্ট’ হবে৷’’

প্রসঙ্গত সোমবারই, রাজ্যজুড়ে প্রায় ৫০টি জায়গায় বলরাম জয়ন্তী পালনের কথা বললেন বিজেপি কৃষাণ মোর্চার রাজ্য সভাপতি রামকৃষ্ণ পাল। কৃষির দেবতার জন্মদিন উপলক্ষ্যে আগামী ১৫ ই সেপ্টেম্বর বলরাম পুজোর আয়োজন করছে বিজেপি কৃষাণ মোর্চা।

বিজেপি রাজ্য সদর দফতরের একটি সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গেই উপস্থিত ছিলেন বিজেপির কৃষাণ মোর্চার রাজ্য সভাপতি রামকৃষ্ণ। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আগামী ১৫ তারিখ এই রাজ্য সদর দপ্তর থেকেই আমরা বলরাম পুজোর মধ্যে দিয়ে বলরাম জয়ন্তী উৎসব শুরু করব। যা রাজ্যের আরও ৫০টির বেশি জায়গাতে পালিত হবে।”

- Advertisement -

আরও পড়ুন: Breaking: খুব শীঘ্রই পেট্রল পাওয়া যাবে ৫৫ টাকায়: গড়কড়ি

শ্রীকৃষ্ণের অগ্রজ বলরাম কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে নিরপেক্ষ ছিলেন৷ তাকে কৌরবদের পক্ষে যুদ্ধ করা থেকে আটকেছিলেন তাঁর ভ্রাতা৷ তবে ঘরে ঘরে তাঁকে পুজিত হতে দেখেনি বাংলার মানুষ৷ অন্যদিকে বাংলায় এমন কোনও হিন্দু বসতি পাওয়াই কঠিন, যেখানে নারায়ণ পূজিত হন না৷ তবে পূজিত না হলেও, বলরামের মাহাত্মকথা বাঙালী জানে না তা নয়৷ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের অন্তিম লগ্নে ভীম বনাম দুর্যধনের গদা-যুদ্ধের পর ভূপতিত কৌরব রাজকে দেখে দয়া পরবস বলরাম ভীমকে লাঙল উঁচিয়ে শাস্তি দিতে যান৷ কারণ, গদা-যুদ্ধের নিয়ম না মেনে দুর্যধনের উরুতে আঘাত করেন৷ অবশ্য, কিছু যুদ্ধের নিয়ম না ভেঙে কিছুই করার ছিল না ভীমের৷

কারণ চোখের পর্দা সরিয়ে নিজের পুত্রকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখে কৌরব রাজের দেহকে ইস্পাত কঠিনে পরিণত করেছিলেন গান্ধারী৷ তবে উরুর অংশটিই কেবল ইস্পাত কঠিন হয়নি৷ রাজা কখনও উলঙ্গ বেশে জনসমক্ষে আসতে পারে না৷ নয়তো সে মস্করার পাত্র হবে৷ এই যুক্তিতেই দুর্যধনকে অর্ধবস্ত্র পরে মায়ের কাছে যেতে বলেন শ্রীকৃষ্ণ৷ ফাঁদে পা দেন কৌরব রাজ৷ যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়মভাঙা অপর শিষ্য ভীমকে নিশ্চিহ্ন করতে উদ্যত দাদা বলরামকে শান্ত করেন শ্রীকৃষ্ণ৷ ধর্ম-অধর্মের ব্যাখ্যা অগ্রজকে দিলেছিলেন নারায়ণ৷ তবে সেদিন ভ্রাতার কথা মেনে নেননি বলরাম৷

আম-বাঙালীর বলরাম চর্চা এর থেকে বেশিদূরে পৌঁছয় না৷ পুজো তো দূরের কথা৷ তবে লাঙলধারী ভগবান বলরামকে কৃষকদের প্রতিনিধি বানিয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে নামিয়ে বিজেপি যে রাজনৈতিক মাইলেজ পেতে চেয়েছে, তা একপ্রকার পরিষ্কার৷ কারণ এর আগেও জন্মাষ্টমীতে বলরাম-অনুজ শ্রীকৃষ্ণকে রাস্তার মিছিলে নামিয়েছে বিজেপি এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ৷

নৃসিংহপ্রসাদবাবু শান্তিনিকেতনের হলকর্ষণ অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করেছেন৷ একথা সত্যি, একসময় রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘‘হলকর্ষণ আমাদের প্রয়োজন অন্নের জন্য, শস্যের জন্য৷ নিজেদের প্রতি কর্তব্য পালনের জন্য এই হলকর্ষণ৷ কিন্তু এর দ্বারা বসুন্ধরার যে ক্ষতি হয় তা নিবারণ করার জন্য আমরা কিছু ফিরিয়ে দেই যেন৷’’ নৃসিংহপ্রসাদবাবুর কথায়, ‘‘বলরামের হাতের লাঙল যদি বিজেপি হাতে তুলে নেয়, তা কৃষি কম, অস্ত্রই বেশি করে তোলা হবে৷ আসনে বিজেপির তো এই সব করা ছাড়া আর কিছু করার নেই৷’’

আরও পড়ুন: পাকিস্তানকে বিশেষ গুরুত্ব নয়: কোচ

যদিও,তবে শুধু বলরাম পুজোই নয়। আগামী বুধবার রাজ্যের প্রতিটি জেলার জেলাশাসকের অফিসের সামনে বিক্ষোভ এবং স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচী নিয়েছে বিজেপি কৃষাণ মোর্চা। এ বিষয়ে রামকৃষ্ণবাবু বলেন, “দেখুন সরকার ১৭৫০ টাকা দরে ধান কেনার কথা ঘোষণা করেছে। কিন্তু খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানিয়েছেন আগামী ১ নভেম্বর থেকে ওই দামে ধান কেনা হবে। কিন্তু এত দেরিতে কেন? এখন থেকেই কেন সরকার প্রদত্ত দামে ধান কেনা হবে না? আমরা এ বিষয়ে জবাব চাইবো।”

ধানের দামের পাশাপাশি হিমঘর এবং পঞ্চায়েত ভোটে হওয়া রাজনৈতিক মৃত্যুর প্রতিবাদ জানানোর কথা বলেন বিজেপির কৃষাণ মোর্চার সভাপতি। রামকৃষ্ণবাবুর কথায়, ” মনোনয়নপর্ব থেকে শুরু করে বোর্ড গঠন অবধি বিজেপি তৃণমূল সহ রাজ্যের বিভিন্ন দলের প্রায় ৮০ জন কর্মী পঞ্চায়েত ভোটে মারা গিয়েছেন, এরা কিন্তু গ্রামবাংলার কৃষক পরিবারের মানুষ। তার প্রতিবাদ করে আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে হবে। এবং এই হত্যা রুখতে জেলাশাসকরা যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় সেটা আমরা ১২ তারিখ স্মারকলিপি জমা দেওয়ার মধ্যে দিয়ে দাবি জানাবো।”

তিনি আরও বলেন, “রাজ্যে শুধুমাত্র আলু রাখার জন্য হিমঘর রয়েছে। কিন্তু শাকসব্জি এবং ফল রাখার জন্য মাল্টিপারপাস হিমঘর নেই। যার ফলে মাঝে মাঝে চাষীরা বাধ্য হন কম দামে শাকসব্জি বিক্রি করতে। এতে চাষীদের প্রচুর ক্ষতি হয়। আমরা ১২ তারিখে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে প্রতিটি ব্লকে মাল্টিপারপাস হিমঘর তৈরির দাবি জানাবো।” পুরো রাজ্যজুড়ে প্রতিটি জেলাশাসক দপ্তরে বিক্ষোভ সমাবেশ করলেও পূর্ব মেদিনীপুর এবং পুরুলিয়াতে শুধুমাত্র স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে বলে জানান, রামকৃষ্ণ পাল। কারণ এই দুটি জেলায় এখনও পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন চলছে। তাই ওখানে বিক্ষোভ সমাবেশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন জেলাশাসকরা।

আরও পড়ুন: হায়দরাবাদ বিস্ফোরণ: দোষী তিন আইএম জঙ্গির সাজা ঘোষণা

Advertisement
---