মোদী সাক্ষাতেই যন্ত্রণা ভুলেছেন মুদি-বোনেরা

ফাইল ছবি

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ভগবান যা করেন, মঙ্গলের জন্যই করেন৷

এতদিন ধরে শুনে আসা কথাটাই যে তাঁদের জীবনে ঘোরতর বাস্তব হয়ে উঠবে, তা বোধহয় কল্পনাও করতে পারেননি রীতা মুদি ও অনিতা মুদি৷ কিন্তু এখন আঘাতের যন্ত্রণা ভুলে বাঁকুড়ার রানিবাঁধের ওই দুই বোন ভগবানকেই ধন্যবাদ দিচ্ছেন৷ বলছেন, ‘‘ভাগ্যিস আহত হয়ে হাসপাতালে ভরতি হয়েছিলাম৷ তাই তো কথা বলতে পারলাম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে৷ অটোগ্রাফও পেলাম৷’’

আরও পড়ুন: ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিল নির্বাচনে মনোনয়ন ঘিরে হাইকোর্টে মামলা

- Advertisement -

আর সেই সাক্ষাতই রাতারাতি সেলিব্রিটি বানিয়ে দিয়েছে দুই বোনকে৷ কারণ, সোমবার মেদিনীপুরে বিজেপির সভায় দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে গিয়ে ওই দুই বোনের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী৷ আরোগ্য কামনা করে অটোগ্রাফও দিয়ে যান৷

সংবাদমাধ্যমের দৌলতে সোমবার দুপুর থেকেই সেই ছবি ভাইরাল৷ আর তা দেখে চমকে গিয়েছিলেন রানিবাঁধের মানুষ, রীতা-অনিতাদের স্কুল বাঁকুড়া সারদামনি মহিলা মহাবিদ্যালয়ের সহপাঠীরাও৷ তাই মঙ্গলবার হাসপাতাল থেকে ফিরে এলে সবাই ভিড় জমান রানিবাঁধের মুদি-বাড়িতে৷

আরও পড়ুন: বিজেপি উৎখাতে মমতার সঙ্গেই কবীর সুমন

বন্ধু থেকে আত্মীয় পরিজন, প্রতিবেশী, সকলেই একবার দেখতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদীর অটোগ্রাফ৷ কেউ সেই অটোগ্রাফের ছবি তুলে নিয়ে যাচ্ছেন৷ কেউ আবার ওই অটোগ্রাফের সঙ্গে সেলফি তুলছেন৷

ফলে মঙ্গলবার সকাল থেকেই ভিড় কমছে না রানিবাঁধের মুদি-বাড়িতে৷ ফলে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে আসা দুই বোন বিশ্রাম নেওয়ার সময় পাচ্ছেন না ঠিকমতো৷ এদিন তাঁদের বাড়িতে এসেছিলেন বাঁকুড়ার বাসিন্দা বিজেপির রাজ্যনেতা সুভাষ সরকার৷ দুই বোনের স্বাস্থ্যের খবর নেন সুভাষবাবু৷ তাঁর সঙ্গেও সেদিনের ঘটনা নিয়ে কথা বলেন তাঁরা৷

আরও পড়ুন: কৃষকদের নাম করে ৫৪০০ কোটি টাকা ঋণ নিলেন এই ব্যবসায়ী!

যদিও তাতে আক্ষেপ নেই দুই মুদি-বোনের৷ তাঁরা বরং মোদী-সাক্ষাতেই ভুলেছেন সেদিনের যন্ত্রণা৷ তাই সব ভুলে তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতেরই সেই মুহূর্তের মধ্যেই বুঁদ রয়েছেন৷

তাঁরা বললেন, ওই মুহূর্তটা ভাষায় বোঝাতে পারব না। সামিয়ানা ভেঙে যাওয়ার ফলে মা আর পিসিকে নিয়ে আমরাও বেরিয়ে আসতে চাইছিলাম। কিন্তু মায়ের শাড়ি কোনও একটা বাঁশে আটকে যায়। মাকে নিয়ে আমরা ভিড়ের মধ্যে পড়ে গেলে অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে আমাদের উপর দিয়ে দৌড়তে শুরু করে। পরে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’’

দেখুন ভিডিও:

হাসপাতালে ভরতির সময় দু’জনের জ্ঞান ছিল না৷ যখন জ্ঞান ফেরে, তখন তাঁরা দেখেন সামনে দাঁড়িয়ে স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী৷ রীতা-অনিতার কথায়, ‘‘চোখ খুলে দেখি প্রধানমন্ত্রী আমাদের বেডের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। হিন্দিতে আমরা কেমন আছি জিজ্ঞাসা করলেন৷ মাথায় হাত বুলিয়ে সুস্থতাও কামনা করেন। এই মুহূর্তটা চিরস্মরণীয়।’’

রীতা বলেন, ‘‘মোদীজির সভায় যাওয়ার আগে অনেক বন্ধুই ইয়ার্কি আর ঠাট্টা করে বলেছিল, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফি তুলবি। অটোগ্রাফ নিবি। জানতাম এটা অসম্ভব।’’ তাই প্রধানমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে আহত অবস্থাতেও অটোগ্রাফ চাইতে ভোলেননি জঙ্গলমহলের এই কন্যা৷

আরও পড়ুন: ভবিষ্যতের সচিন তৈরিতে এবার ‘ক্রিকেটঈশ্বর’