‘গাড়িতে কুকুর চাপা পড়েছে’, শৈলজাকে খুন করে বলেছিল মেজর হান্দা

নয়াদিল্লি: শৈলজাকে গাড়ি চাপা দিয়ে মেরে ফেলার পর তাঁর মোবাইল ফোনটিও নষ্ট করে দিয়েছিল অভিযুক্ত সেনা অফিসার মেজর হান্দা। পরে সে তার স্ত্রী’কে ফোন করে বলে, ‘গাড়িতে একটা কুকুর পিষে গিয়েছে।’

আত্মীয়ের কাছ থেকে ২০,০০০ টাকা ধার করে গোটা শহর গাড়িতে চেপে ঘুরতে থাকে মেজর হান্দা। সঙ্গে ছিল তার এক ভাই। পরে দিল্লির অক্ষরধামের কাছে ভাইকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয় সে। এরপর শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়। পুরনো বান্ধবীকে ফোন করে জানায়, ‘শৈলজাকে শেষ করে দিয়েছি।”

এরপর সাকেত নগরে বাবার বাড়িতে যায় নিখিল। বাবাকে জানায়, তার গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়েছিল। ইতিমধ্যে শৈলজার স্বামী মেজর অমিত দ্বিবেদীর অভিযোগের ভিত্তিতে নিখিলের খোঁজ শুরু করে পুলিশ। সাকেত নগরের বাড়িতে পুলিশ পৌঁছনোর আগেই কাকার বাড়িতে চলে যায় নিখিল। পরে মেরঠের পথে রওনা হন। পরে সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় তাকে।

- Advertisement -

গত শনিবার দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় গলার নলিকাটা অবস্থায় পাওয়া যায় আর্মি মেজর অমিত দ্বিবেদীর স্ত্রী শৈলজা দ্বিবেদীকে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত মৃতা মহিলার স্বামী মেজর অমিত দ্বিবেদীরই ঘনিষ্ঠ বন্ধু মেজর নিখিল রায় হান্দা। দুই মেজরেরই একসঙ্গে ডিমাপুরে পোস্টিং ছিল। সেখানে দুজনের পরিবারের ঘনিষ্ঠতাও ছিল। ডিমাপুরে থাকার সময়ই মেজর হান্ডার সঙ্গে শৈলজার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়।

মেজরপত্নি শৈলজার প্রতি দুর্বলতা ছিল মেজর হান্দার। এমনকী বিয়ের জন্য চাপও দিত। বিয়েতে রাজি না হওয়াতেই খুন করে দেয় শৈলজাকে। মেজর হান্দাকে রবিবার সারাদিন জেরা করার পর এমনটাই জানিয়েছিল দিল্লি পুলিশ।

২০১৫ তে শৈলজার সঙ্গে আলাপ হয় তার। এরপরই সে মেজর অমিত দ্বিবেদীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে শুরু করে, যাতে ধীরে ধীরে দ্বিবেদীর বাড়িতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছুতোয় সে যেতে পারে। নাগাল্যান্ডের দ্বিবেদীর বাড়িতে প্রায়ই যেতে শুরু করে হান্দা। মেজর দ্বিবেদীও কোনোদিন কোনও সন্দেহ করেননি। পরে স্ত্রী’কে ভিডিও কল করতে দেখার পর থেকেই সন্দেহ হয়।

Advertisement ---
---
-----