স্টাফ রিপোর্টার, বারাসত: দল ছাড়ার ঘোষণা করেছিলেন আগেই। এবার ছাড়লেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ পদও। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলার মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ পদ থেকেও ইস্তফা দিলেন জেলায় মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ নৈহাটি মামুদপুর অঞ্চলের তৃণমূল নেতা পার্থসারথি পাত্র।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি রেহেনা খাতুনের হাতে তিনি তাঁর ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন। বুধবারই রাজ্যসভার পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন এক সময় তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মুকুল রায়। তার একদিন পরেই উত্তর ২৪ পরগনা থেকে মুকুল ঘনিষ্ঠ এই নেতার ইস্তফা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন জেলার তৃণমূল কর্মীরা।

আরও পড়ুন- রাজ্যে উপনির্বাচনের দাবিতে কমিশনের দরজায় দলত্যাগী মুকুল

এদিন প্রথমে তিনি কর্মাধ্যক্ষ পদ থেকে ইস্তফা পত্র দিয়েছেন জেলাশাসকের হাতে। তার প্রতিলিপিও তুলে দিয়েছেন জেলা পরিষদের সভাধিপতির কাছে। এদিন ইস্তফা পত্র দেওয়ার পরেই মুকুল রায়ের সঙ্গে এক প্রস্থ কথাও হয়েছে তাঁর। তিনি জানান, দাদা বলেছেন ধীরে চলো।কালীপুজো পর্যন্ত চুপ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তাঁকে। পরে দাদা যা নির্দেশ দেবেন, সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবেন পানু। মুকুল রায় যদি নিজে দল করেন বা অন্য দলে নোঙর ফেলেন তিনিও তাই করবেন বলে জানিয়েছেন সদ্য ইস্তফা দেওয়া এই নেতা।

তাঁর কথায়, জন্মলগ্ন থেকেই দলটা করেছিলাম।আমার নেত্রীর উপর কোনও ক্ষোভ নেই। ক্ষোভ আছে স্থানীয় নেতাদের উপর। জগদ্দলে সিপিএম থেকে আসা লোকজন দলের কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে। আর আমাদের মতো পুরনোরা ব্রাত্যই থেকে যাচ্ছে। নব্য তৃণমূল ও পুরনো তৃণমূলের ক্ষমতা দখলের এই লড়াইতে শেষ পর্যন্ত কল্কে না পেয়ে ইস্তফার কথা জানিয়েছেন পার্থসারথি পাত্র। তিনি বলেন, দলে অনেকেই তোলাবাজিতে যুক্ত হয়ে পড়েছে। কেউ বা প্রমোটিংয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই এই দলটা থেকে অব্যাহতিই নিলাম। আমাদের নেতা মুকুল রায়। তাঁর দিকে তাকিয়েই দল ছেড়েছি। জেলার কর্মাধ্যক্ষ পদ থেকে সরকারি ভাবে ইস্তফা দিলেও দল ছাড়ার কথা মৌখিক ভাবে জানিয়েছেন। কয়েকদিনের মধ্যে জেলা সভাপতির কাছে পদত্যাগ পত্র পাঠিয়ে দেবেন বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন- সারদা কেলেঙ্কারি নিয়ে মুকুল প্রসঙ্গে বিস্ফোরক কুণাল

পার্থসারথি পাত্র ওরফে পানু গত ১৯৯৮-২০১৪ সাল পর্যন্ত মামুদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের দায়িত্ব সামলেছেন। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ব্যারাকপুর-১ ব্লকে জেলা পরিষদের ২৮ নম্বর আসন থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হন৷ এর পর জেলা পরিষদের মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ পদে ছিলেন। তিনি মামুদপুর অঞ্চলে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি ছিলেন। গত বিধানসভা ভোটে জগদ্দল আসনে পরশ দত্তর নাম তৃণমূলের তরফ ঘোষণার পরই স্থানীয় স্তরে বিরোধিতা করেছিলেন পার্থসারথি পাত্র। এই নিয়ে জেলা নেতৃত্বের রোষানলেও পড়েন তিনি। তবুও দল তাঁকে নির্বাচনের দায়িত্ব দিয়েছিল মামুদপুর এলাকায়।

কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের পর জেলা নেতৃত্ব পার্থসারথি পাত্রকে মামুদপুর অঞ্চলের সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেয়। ফলে স্থানীয় জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে শুরু হয় মুকুল ঘনিষ্ঠ এই নেতার অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ। তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, জেলা পরিষদের নিজস্ব দফতর থেকেও তাঁর ক্ষমতা খর্ব করার কাজ শুরু হতে থাকে। জেলার রাজনৈতিক মহলের দাবি, একদিকে দলের অলিন্দ থেকে কোণঠাসা অবস্থা, অন্যদিকে জেলা পরিষদের ক্ষমতাও কেড়ে নেওয়ার জোড়া চাপেই দল ছাড়ালেন পার্থসারথিবাবু৷

আরও পড়ুন- সাংবাদিক বৈঠকে কেন পাশে ছিলেন না মুকুলের ‘ডানহাত’?

অন্যদিকে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের পরিষদীয় দলনেতা নারায়ণ গোস্বামী জানান, পার্থসারথি পাত্র গত বিধানসভা নির্বাচন থেকেই দল বিরোধী কাজ করছিলেন। দলের কোনও অনুশাসন তিনি মানতেন না। সেই কারণেই তাঁর ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছিল। তার দফতরের কাজও অনেকটাই সামলাচ্ছিলেন জেলা সভাপতি।

----
--