স্টাফ রিপোর্টার, কোচবিহার: ছ’বছর পর হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে ফিরে পেল পরিবার। বছর ছয়েক আগে মধুপুর এলাকার নিজের বাড়ি থেকেই নিখোঁজ হয়ে যায় মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক মিঠুন দাস।

এলাকার সকলে মিঠুনকে খুঁজে পাওয়ার আশা ছাড়লেও, আশা ছাড়েননি তাঁর বাবা রবীন্দ্রনাথ দাস। অবশেষে বাবার সেই আশা পূর্ণ হল। বুধবার প্রায় ছ’বছর পরে নিজের বাড়িতে ফিরল হারিয়ে যাওয়া মিঠুন। কার্শিয়ং-এর একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্কার উদ্যোগে নিজের পরিবার ফিরে পেল মিঠুন দাস।

ছয় বছর আগে ২১ বছর বয়সী মিঠুন দাস হঠাৎ কোচবিহার দুই নম্বর ব্লকের মধুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হরিপুর এলাকার বাড়ি থেকে হারিয়ে যায়৷ অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মিঠুনের কোনও খোঁজ পায়নি তাঁর পরিবারের সদস্যরা। ইতিমধ্যে মিঠুনের দুই বোনের বিয়ে হয়ে যায়। বাড়িতে মা-বাবা ছাড়াও রয়েছে আরও এক ভাই।

কিন্তু বুধবার আচমকা বাড়ির দরজা খুললে চমকে ওঠেন মিঠুনের বাবা৷ আর তারপরই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি৷ বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে তাঁদের ছেলে মিঠুন৷ কার্শিয়ং-এর এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে মিঠুন নিজের পরিবার ফিরে পেয়েছে।

কার্শিয়ং-এর স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সহযোগী হাতের সম্পাদিকা সুমিত্রা রাই বলেন, ‘‘প্রায় ৮ মাস আগে দার্জিলিং নমস্তে নামের এক সংস্থা একটি আবর্জনার স্তূপ থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবককে উদ্ধার করেছিল। বড় বড় দাড়ি, নোংরা জামা কাপড়ে সেখানে বসবাস করছিল। তাকে উদ্ধার করার পর সিকিম মনিপাল হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। তবে নাম বলতে না পারায় সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁর নাম দেওয়া হয়েছিল রাজু।’’

পরে চিকিৎসায় সাড়া দিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠায় সে নিচের বাড়ি ও পরিচয় বলতে সক্ষম হয়। তারপরেই এদিন বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয় মিঠুনকে। একটি পরিবারের ছেলেকে তাঁর বাড়ি ফিরিয়ে দিতে পেরে তারাও অত্যন্ত খুশি।

অন্যদিকে, পেশায় কৃষিজীবী মিঠুনের বাবা রবীন্দ্রনাথ বাবু বলেন, ‘‘প্রায় ছয় বছর আগে ২১ বছর বয়সী ছেলে হারিয়ে গিয়েছিল। এতদিন ছেলের আশায় বসেছিলাম৷ জানতাম ও ফিরে আসবেই।’’

--
----
--