স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: বিশ্ববিদ্যালয় গড়া নিয়েও দলীয় কোন্দল শুরু হয়েছে শাসকদলের অন্দরে৷ সবে ঘোষিত হয়েছে জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় হবে৷ ঘোষণার সময় এটাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে তা হতে সময় লাগবে৷ কিন্তু সেই ঘোষণার এক সপ্তাহও কাটতে না কাটতেই খোদ শাসকদলের অন্দরেই শুরু হয়েছে দড়ি টানাটানি৷ যা নিয়ে রীতিমতো শুরু হয়েছে গোষ্ঠী কোন্দলও৷ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শাসকদলের জেলা সভাপতি দলীয় কারও সঙ্গে আলোচনা না করেই নিজের এলাকাতে বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে ময়দানে নেমে পড়েছেন৷

গত ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসের দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গঙ্গারামপুরে প্রশাসনিক সভায় দক্ষিণ দিনাজপুরে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করেছেন৷ মুখ্যমন্ত্রী সেদিন একথাও জানিয়ে দেন যে তা হতে সময় লাগবে৷ এমনকি তিনি একথাও স্পষ্ট করেছিলেন যে বিশ্ববিদ্যালয় কোথায় হবে পরে তা ঠিক করা হবে৷ মুখ্যমন্ত্রীর সেই ঘোষণার দিন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে খোদ শাসক দলের অন্দরেই কোন্দল৷

দলের জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র গঙ্গারামপুরেই বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়ে তোলার জন্য রীতিমত ময়দানে নেমে পড়েছেন৷ বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কোনোও সরকারি নোটিফিকেশন না হতেই শাসকদলের সভাপতি হওয়ার সুবাদে জেলাপ্রশাসনের আধিকারিকদের দিয়ে জমি চিহ্নিতও করে ফেলেছেন৷

২৪ফেব্রুয়ারি তৃণমূল জেলাসভাপতির নেতৃত্বে ভূমিসংস্কার দফতরের কর্মী আধিকারিকরা গঙ্গারামপুর শহর লাগোয়া কৃষি বীজাগারের পাশে ১৭একর জমি চিহ্নিত করেছেন৷ দলীয় সভাপতির একাজে বেজায় চটেছেন তৃণমূলের নেতা কর্মীদের একাংশ৷ বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর অভিযোগ নোটিফিকেশন না হতেই নিজে থেকে গঙ্গারামপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি চিহ্নিত করিয়ে পক্ষপাতিত্ব করছেন জেলাসভাপতি৷ তাঁদের আরও অভিযোগ জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির দাবি একমাত্র বালুরঘাট থেকেই উঠেছিল৷

সুতরাং বহুপ্রতীক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়টি বালুরঘাট অথবা বালুরঘাট মহকুমায় হওয়া উচিত৷ বালুরঘাট না গঙ্গারামপুরে হবে সে বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীই ঠিক করবেন বলেও তাঁদের দাবি৷ বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর লোকেরা এই দাবিও জানিয়েছেন যে বালুরঘাট কলেজ অথবা পতিরাম কলেজকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হোক৷ ঠিক যেমনটা পাশের জেলায় রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে হয়েছে৷

যদিও তৃণমূল জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র জানিয়েছেন যে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরের দিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে উচ্চশিক্ষা দফতর থেকে জেলাপ্রশাসনকে জানানো হয়েছে৷ এর পরেই অতিরিক্ত জেলাশাসক(ভূমি)র নেতৃত্বে গঙ্গারামপুরে জমি দেখার কাজ সম্পন্ন হয়েছে৷ তাঁর দাবি ভৌগোলিক অবস্থানের দিক দিয়ে গঙ্গারামপুরে হলেই জেলার সমস্ত ব্লকের ছেলেমেয়েদের এমনকি শিক্ষক শিক্ষিকাদেরও অনেক সুবিধা হবে৷

এদিকে বালুরঘাটের সাংসদ তৃণমূলের অর্পিতা ঘোষও ব্যাপারটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন৷ তিনি বলেন কেন শুধু গঙ্গারামপুরেই জমি চিহ্নিত করা হচ্ছে৷ বিষয়টি নিয়ে তিনি জেলাশাসকের সঙ্গে শীঘ্রই কথা বলবেন৷ সেই সঙ্গে তিনি একথাও জানিয়েছেন যে শুধু গঙ্গারামপুর নয় বালুরঘাট মহকুমা এলাকাতেও জমি চিহ্নিত করা হোক৷ গুরুত্ব বিবেচনা করে কোথায় বিশ্ববিদ্যালয় হবে সেটা মুখ্যমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট দফতরই করবে বলেও সাংসদ জানিয়েছেন৷

----
--