অতনুর পর ভবানীশঙ্কর: বেকারত্বের জ্বালায় আত্মঘাতী ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার

স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া: এমএ-বিএড পাশ করার পর মিলেছিল ঘর মোছার চাকরি৷ পদে পদে লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছিল তাকে৷ আত্মহত্যা করে মুক্তি পেয়েছে সোনারপুরের অতনু মিস্ত্রি৷ এবার, নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি না পেয়ে হতাশায় নিজেকে শেষ করে দিল বালির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ভবানীশঙ্কর পাল৷ দুই ঘটনা নাড়া দিয়েছে সমাজকে, বুঝিয়ে দিয়েছে রাজ্যে চাকরীর হাল-হকিকত৷

আরও পড়ুন- চাকরি না পেয়ে আর কত অতনুকে প্রাণ দিতে হবে? ঝড় সোশ্যাল মিডিয়ায়

সোনারপুরের পর বালি৷ জানা গিয়েছে, বৃহষ্পতিবার গভীর রাতেই বাড়ির সামনে জিটি রোডের উপর লরির সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মঘাতী হয় বছর ২১-এর ভবানীশঙ্কর৷ রাতের এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়৷ শুক্রবার দপুরে সিসিটিভির ফুটেজ পরীক্ষা করে পুলিশ জানতে পারে, লরির মাঝখানে নিজেই আত্মহত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে ওই যুবক৷ ওই লরিতেই পিষ্ট হয়ে মারা যায় ভবানী৷

- Advertisement DFP -

রাজ্যে কোথাও চাকরী জোটে নি৷ মেধাবী ছাত্র ভবানীশঙ্কর বেলুড় মঠ থেকে দু’বছর আগে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স করে টাটাতে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে জয়েন করেছিল৷ কিন্তু, সেখানেও মেলেনি যোগ্য কাজ।  তাঁকে দিয়ে ঘর সাফাই, নর্দমা পরিষ্কার করান, মাল ওঠানো-নামানো করানো হত।  ধীরে ধীরে হতাশা গ্রাস করেছিল তাঁকে৷

যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অফিসে হেনস্থার শিকার হয়ে বাড়িতে হতাশার কথা বলত সে৷ গত জানুয়ারিতে চাকরি ছেড়ে চলে এসেছিল ভবানী৷ বালির জিটি রোডে মামার লেদ কারখানায় কাজ করছিল সে৷ কিন্তু, একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হয়ে লেদ করখানায় কাজ করতে গিয়ে আরও হতাশ হয়ে পড়ে ভবানীশঙ্কর৷ ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে মামার বাড়িতে মানুষ সে৷ যোগ্য কাজ না পেয়ে হতাশা ধিরে ধিরে গ্রাস করেছিল তাকে৷ তা বলে একেবারে আত্মহত্যা করে বসবে, একথা কেউ ভাবতেও পারছে না।

আরও পড়ুন- ১৬ বছরের ভারতীয় কিশোরকে মাসে ১২ লক্ষ বেতনের চাকরি দিল Google

গত মঙ্গলবার রাতেই, বেকারত্বের জ্বালায় সোনারপুরের মেধাবী ছাত্র অতনু মিস্ত্রি আত্মঘাতী হয়৷ এমএ-বিএড হওয়া সত্ত্বেও ঘর মোছার চাকরী পেয়েছিল সে৷ লজ্জায় অপমানে গলায় ফাঁস দেয় সে৷ অতনুর মৃত্যুতে ঝড় ওঠে সোশ্যাল মিডিয়ায়৷ অতনুর পরিবারের পাশে থাকার বার্তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক পোস্ট করেছে তাঁর বন্ধুরা৷ বেকারত্বের জ্বালায় মেধাবী ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনায় দুঃখ ও প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে নিজেদের প্রোফাইল ছবি বদলে দেওয়ারও আর্জি জানানো হয়৷ অতনুর স্মরণে আগামী ১৬ আগস্ট একটি শোক মিছিলেরও ডাক দিয়েছে সল্টলেক করুণাময়ীর এএসসি দফতরের সামনে৷

এমএ-বিএড পাশের পর ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার৷ গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পরার পর, এবার চলন্ত লরির সামনে ঝাঁপিয়ে নিজেকে শেষ করে দেওয়া৷ আর কি যোগ্যতা থাকতে হবে তবে এই বাংলায় নিজের পায়ে দাঁড়ান যাবে? সোনারপুর থানার নতুনপল্লি এলাকার অতনুর মৃত্যুর ঘটনা রীতিমতো নাড়িয়ে দিয়েছে রাজ্যকে৷ আর, বেলুড়ে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ভবানীশঙ্করের মৃত্যুর পর চাকরি-প্রার্থীদের মধ্যে আরও হতাশা তৈরি করবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না৷ পরপর দুই চাকরি প্রার্থীর আত্মহত্যার ঘটনায় নতুন করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক৷ নতুন করে উঠে আসছে অসংখ্য পুরোন প্রশ্ন৷

আরও পড়ুন- চাকরি বদলালে হস্তান্তর হবে PF

বেকারত্বের জ্বালায় এভাবে যুবকদের আত্মহত্যার ঘটনায় নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷ চাকরি না পেয়ে হতাশায় এভাবে আর কত ‘অতনু-ভবানী’কে প্রাণ দিতে হবে? টাকার বদলে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার রীতি কবে বন্ধ হবে? রাজনীতির নেতাদের স্বজনপোষণ কবে বন্ধ হবে? কবে যোগ্য ছেলেরা চাকরী পাবে? চাকরি দেওয়ার নামে সরকারের গাছাড়া মনোভাব আর কবে কাটবে? প্রশ্ন উঠছে, প্রশ্ন তুলছে এ রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক যুবতী৷

আরও পড়ুন চাকরি না পেয়ে আত্মঘাতী উচ্চশিক্ষিত যুবক

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, রাজ্যে গত ২ বছরে চাকরীপ্রার্থী লাখ ছাড়িয়েছে৷ সবটাই কি তাহলে রাজনৈতিক প্রচার?  প্রশ্ন কিন্তু উঠছে৷ একটা অতনু বা একটা ভবানী নয়, রাজ্যে এরকম কত ঘটনা ঘটছে প্রশ্ন উঠছে তা নিয়েও৷ সোস্যাল মিডিয়ায় বিপ্লব সমাজে ছড়িয়ে পড়লে তবেই কি চোখ খুলবে রাজ্য প্রশাসনের? অন্যদিকে প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের বাংলায় চাকরীর ভরসায় না থেকে নিজের উদ্যোগে কবে বাঙালি স্বাবলম্বী হবার চেষ্টা করবে প্রশ্ন উঠছে তা নিয়েও৷

আরও পড়ুন কম্পিউটারে অজ্ঞ? সরকারি চাকরিতে প্রোমোশনের আশা ছাড়ুন

Advertisement
----
-----