অস্ত্রোপচারের পর চার বছরের শিশু পেট থেকে বেরল ২০৩ টি কুলের বীজ

স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: বছর চারের শিশুর পেটে অস্ত্রোপচার করে বার করা হল ২০৩টি কুলের বীজ, দুটি আস্ত খেজুরের বীজ, কিছু সুতো এবং একটি নাটবল্টু৷ ঘটনায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রীতিমত হুলুস্থুল পড়ে যায়৷ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে৷ শিশুটিও সুস্থ রয়েছে। শিশুটির নাম জীবন রুইদাস৷ হুগলির গোঘাট থানার বদনগঞ্জের শ্যামবাজার এলাকার বাসিন্দা৷

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার ডা. উত্পল দাঁ জানিয়েছেন, অজয় রুইদাস ছেলে জীবন রুইদাসকে পেটের যন্ত্রণার উপসর্গ নিয়ে প্রায় ১২ দিন আগে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে আসে৷ প্রায় এক বছর ধরেই শিশুটি মাঝে মাঝেই পেটের যন্ত্রণায় ভুগছিল। ওই শিশুটিকে নিয়ে আসার পর তাকে ভরতি করানোর কথা বলা হয় পরিবারকে৷ শারীরিক পরীক্ষাও করা হয়।

এক্স-রে রিপোর্টে কিছু একটা থাকলেও ধরা পড়েনি এই বীজের অস্তিত্ব। এরপর চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেয় তাকে অস্ত্রোপচার করা হবে৷ সেই মত বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের চিকিত্সক ডা. নরেন্দ্রনাথ মুখার্জী এবং মধুসূদন চ্যাটার্জীর নেতৃত্বে আট জন চিকিত্সকের একটি টিম ওই শিশুর পেটে অস্ত্রোপচার করেন।

- Advertisement -

ডা. নরেন্দ্রনাথ মুখার্জী জানিয়েছেন, শিশুটির ক্ষুদ্রান্ত্র এবং বৃহদান্ত্রের মাঝের জায়গায় আটকে ছিল এই ২০৩ টি কুলের বীজ, দুইটি খেজুরের বীজ, কিছু সূতো এবং একটি নাটবল্টু৷ এই জায়গায় আটকে থাকার জন্যই শিশুর পেটের ডান অংশ ফোলা ও শক্ত অবস্থায় ছিল। সেই জন্য তার যন্ত্রণা হচ্ছিল। চিকিত্সা বিজ্ঞানের ভাষায় এই রোগের নাম ট্রাইকোবাজোয়ার। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন এটি একটি সাইকোলজিক্যাল রোগ।

তাঁরা জানিয়েছেন, অনেক শিশুই মাটি খায়, কেউ চুল খায়, কেউবা পেন্সিল খায়। এগুলি সেই ধরণেরই রোগ। তবে এদিনের অপারেশন ঝুঁকিপূর্ণ হলেও তাঁরা সফল হয়েছেন। অপারেশন করার পর শিশুটি সুস্থও রয়েছে। অপারেশনে আরও দেরি হলে শিশুর খাদ্যনালীতে সমস্যা দেখা দিত। যা পরবর্তীকালে আরও জটিল আকার নিতে পারত। ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদান্ত্রের মাঝের জায়গায় আটকে থাকায় এগুলি মলের সঙ্গে বার হওয়ার কোনো পথ পায়নি। তবে আপাতত শিশুটি বিপদমুক্ত বলেই তাঁরা জানিয়েছেন।

শিশুর বাবা অজয় রুইদাস এবং মা কল্পনা রুইদাস জানিয়েছেন, তাঁরা অত্যন্ত গরীব পরিবার। প্রায় এক বছর ধরেই জীবন পেটের যন্ত্রণায় ভুগছিল। তাকে স্থানীয় চিকিত্সকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু রোগ না সারায় তিনিই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এদিনের সফল অপারেশনের পর শিশুটি সুস্থ রয়েছে।

Advertisement
---