মৃত বাঘের বিচরণভূমিতে দুর্নীতির অভিযোগ বন দফতরের

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: বন দফতরে দুর্নীতির অভিযোগ! দফতরের কর্মী সংগঠনের মধ্যে গোষ্ঠী কোন্দলের পরে এ বার পরিচিতদের সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে৷

বাঘের মৃত্যুর পরে এ বারও বিতর্কের কেন্দ্রে মেদিনীপুর। বাঘের মৃত্যুর পরে প্রশ্নের মুখে পড়েছে বন দফতর। প্রশ্ন উঠেছে মেদিনীপুরের বিভাগীয় বনকর্তা রবীন্দ্রনাথ সাহার দিকে৷ দুর্নীতির অভিযোগ এ বার সেখানকার ডেপুটি পূরবী মাহাতোর বিরুদ্ধে।

২০১৭-র জুনে ডেপুটি হিসাবে যোগদান করেন পূরবী মাহাতো। এক বছর না পার হতেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে তাঁকে কেন্দ্র করে৷ বন দফতরের বিভিন্ন অংশের অভিযোগ, পূরবী মাহাতো নিজের পছন্দের লোকদের দিয়ে কাজ করিয়ে নিচ্ছেন।

- Advertisement -

নিয়ম অনুযায়ী, বনের মধ্যে রাস্তা তৈরি থেকে শুরু করে বৃক্ষরোপণ বা কাঠ কাটার কাজ শুরুর আগে বিভাগীয় কর্তা তাঁর ডেপুটি রেঞ্জ অফিসারের সঙ্গে কথা বলেন। রেঞ্জ অফিসার সেই কাজের দায়িত্ব দেন বিট অফিসারকে। স্থানীয় ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজটা সম্পূর্ণ করেন বিট অফিসার।

এই কাজগুলি সাধারণত কম টাকার হয়৷ অভিযোগ, রেঞ্জ এবং বিট অফিসারকে না জানিয়েই পূরবী মাহাতো তাঁর পরিচিত ঠিকাদারদের কাজ দিচ্ছেন৷ তাঁর এই কাণ্ডকে ঘিরেই উঠছে দুর্নীতির অভিযোগ৷ এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পূরবী মাহাতো বলেন, “আমি জানি না কেন এই অভিযোগ উঠছে। আমি এখানে সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করি৷ কিন্তু আলাদাভাবে কাউকে সুবিধে দেওয়ার জন্য আমার কোনও উদ্দেশ্য নেই।”

একই সঙ্গে তিনি বলেন, “আমার সেই ক্ষমতাই নেই যে আমি এই কাজটা করব। কারণ আমার উপর রয়েছেন ডিএফও৷ তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী আমি কাজ করি। তা ছাড়া আমার মনে হয় আমি ভালো কাজ করছি বলে কারও সমস্যা হচ্ছে৷ তাই এমন অভিযোগ আনছেন।’’

এই অভিযোগের বিষয়ে মেদিনীপুরের বিভাগীয় বনকর্তা রবীন্দ্রনাথ সাহার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “এর জন্য ই-টেন্ডার ডাকা হয়। আমার মনে হয় না এমন কিছু ঘটছে। কেউ কাজ পাননি বলে এমন অভিযোগ করতেই পারেন। এটা হতেই পারে।’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এই অভিযোগ মিথ্যা। অন্তত আমি এমন কোনও ঘটনার কথা জানি না।”

Advertisement ---
---
-----