এবার শিশু বদলের ঘটনা বর্ধমান মেডিকাল কলেজে

বর্ধমান: রাজ্য জুড়ে শিশু চুরি নিয়ে তোলপাড় অবস্থার মাঝেই ফের বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু বদলের অভিযোগ উঠল। বৃহস্পতিবার বিকালে শিশু বদলের অভিযোগ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসল বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সমগ্র ঘটনায় উপযুক্ত তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে দিলেন বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেপুটি সুপার ডাঃ অমিতাভ সাহা।

আরও পড়ুন: শিশু চুরি: মেডিক্যাল কলেজের সুপারের পদত্যাগের দাবি বঙ্গ বিজেপির

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমানের মাধবডিহি থানার লোহাই গ্রামের বাসিন্দা মধুমিতা খাঁ গত ৮ মার্চ প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ওই দিন বিকেলে ভরতি হন বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে। ওই দিন রাত্রেই চিকিত্সকরা তাঁর সিজার করেন এবং একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু শিশুটি অসুস্থ থাকায় ওইদিনই শিশুটিকে এসএনসিইউতে রাখা হয়। মধুমিতাদেবীর ভাসুর চাঁদু খাঁ এবং মধুমিতাদেবীর দিদিমা আশালতা মালিক উভয়েই জানিয়েছেন, শিশুটির অসুস্থতা বেশি থাকার কারণে চিকিত্সকরা শিশুটিকে ১০ মার্চ এনআইসিইউতে স্থানান্তরিত করেন। আশালতাদেবীরা জানিয়েছেন, পরের দিন চিকিত্সকরা তাঁদের জানান, শিশুটি সাড়া দিচ্ছে, নড়াচড়াও করছে, আস্তে আস্তে সুস্থ হচ্ছে। আর তারপরেই বৃহস্পতিবার দুপুরে আচমকাই তাদের জানানো হয় শিশুটি মারা গেছে।

আরও পড়ুন: ‘শিশু চোর’ শুনেই রাজ্যসভায় রণংদেহী রূপা

চাঁদু খাঁ অভিযোগ করেছেন, এনআইসিইউ-তে কর্তব্যরত নার্সরা তাঁদের রীতিমত কড়াভাবেই জানান, যত দ্রুত সম্ভব মৃত শিশুটিকে যেন তাঁরা নিয়ে চলে যান। নাহলে তাঁদের ভোগান্তি পোহাতে হবে। চাঁদু খাঁ জানিয়েছেন, এরপর তাঁরা যখন শিশুটিকে আনতে যান তখন দেখেন জন্মানোর সময় শিশুটির নাকের কাছে যে জরুল ছিল মৃত শিশুর ক্ষেত্রে তা ছিল না। এই মৃত শিশুটিও তাঁদের নয় বলে দাবী করেন চাঁদু খাঁ-রা। তাঁদের শিশুটি বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করলেও এই শিশুটিকে বাইরের কোনও নার্সিংহোম বা হাসপাতাল থেকে আনা হয়েছে বলে উল্লেখ থাকতে দেখেন। এরপরই তাঁরা বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সুপারের কাছে শিশু বদলের অভিযোগ দায়ের করেন।

আরও পড়ুন: শিশু চুরি ঘিরে উত্তাল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ

এ ব্যাপারে এদিন বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেপুটি সুপার ডা. অমিতাভ সাহা জানিয়েছেন, তিনি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। এব্যাপারে উপযুক্ত তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে শিশুটির টিকিট নম্বর এবং শিশুর মায়ের টিকিট নম্বর মিলিয়ে দেখা হয়েছে তা ঠিকই আছে। যদিও শিশুর বিএইচটি টিকিটে শিশুর কোনও সনাক্তকারী বিশেষ চিহ্নের উল্লেখ নেই। তিনি জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে তদন্ত রিপোর্ট আসার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে কারও কোনও দোষ বা ত্রুটি থাকলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, এদিন ওই শিশুকে না নিয়েই মধুমিতাদেবীর বাড়ির লোকজন চলে যান। চাঁদুবাবু সরাসরিই জানিয়েছেন, ওই শিশুপুত্র তাঁদের নয়। তাই তাঁরা নেবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

#After Kolkata medical college child theft issue now its time for Burdwan medical college. child theft happened on thursday at Burdwan medical college and sparked panic among patient.

Advertisement
----
-----