স্টাফ রিপোর্টার, নন্দীগ্রাম: ফের গণ ধর্ষণের ঘটনা ঘটল নন্দীগ্রামে৷ ভর সন্ধেয় এক গৃহবধূকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে দুষ্কৃতীরা অত্যাচার করলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ৷স্বভাবতই, ঘটনার জেরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে নন্দীগ্রামে৷ অভিযোগ, প্রথমে পুলিশ অভিযোগই নিতে চাইছিল না৷ এমনকি পরে গ্রামবাসীদের চাপে পুলিশ অভিযোগ নিলেও অভিযুক্তদের গ্রেফতারের বিষয়ে কোনও পদক্ষেপই গ্রহণ করছে না৷

ঘটনার জেরে ‘ঐতিহাসিক নন্দীগ্রামে’র বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে৷ কারণ, সপ্তাহ দু’য়েক আগেই দুষ্কৃতীদের গণ ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন এক গৃহবধূ৷ ওই ঘটনাতে নাম জড়িয়েছিল শাসকদলের স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে৷ মহিলার পরিজনের অভিযোগ ছিল, সরকারি প্রকল্পের ‘কাটমানি’ দিতে অস্বীকার করায় ওই বধূকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে স্থানীয় ক্লাবে গণ ধর্ষণ করেছিল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা৷ সেক্ষেত্রেও পুলিশি নিস্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছিল৷

Advertisement

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৪ই নভেম্বর সন্ধ্যাবেলায় বাড়িত একাই ছিল আলি হোসেন খানের স্ত্রী। তখনই এলাকার কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে গনধর্ষন করে বলে অভিযোগ। রাতের দিকে পরিবারের লোকজন বিষটি জানতে পেরে তাঁকে বিধস্ব অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান৷ পরিবারের অভিযোগ, ঘটনায় কার্তিক জানা, বাবুলাল সহ স্থানীয় কয়েক জনের নামে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ প্রথমে অভিযোগই নিতে অস্বীকার করে৷

শেষমেশ  বুধবার রাতে পুলিশ অভিযোগ নিলেও অভিযুক্তদের গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ৷ ঘটনার জেরে এলাকার মানুষের মধ্যে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে৷ প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই নন্দীগ্রামে এক গৃহবধূকে গণ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল৷ ওই ক্ষেত্রেও পুলিশি নিস্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছিল৷এবিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার ওসি অজয় মিশ্র বলেন, ‘‘অভিযোগ জমা হয়েছে।  অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। শীঘ্রই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হবে৷’’

২০০৭ সালে জমি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নন্দীগ্রাম৷ জোর করে জমির দখল নিতে গিয়ে ওই বছরের ১৪ মার্চ পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল ১৪ জন নিরীহ গ্রামবাসীর৷ ওই ঘটনায় বেশ কয়েকজনের এখনও খোঁজ মেলেনি৷ পুরো ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল তৎকালীন শাসক সিপিএমের বিরুদ্ধে৷ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও তমলুকের সাংসদ লক্ষ্মণ শেঠের শাস্তির দাবিতে গর্জে উঠেছিল নন্দীগ্রামের আমআদমি৷ তারপর নন্দীগ্রামের তালপাটি খাল দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল৷ রাস্তা কেটে, গাছ ফেলে টানা ১ বছর আন্দোলন চলেছে৷

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নন্দীগ্রামের ঘটনার জেরেই তৎকালীন প্রবল পরাক্রমশালী বামফ্রন্টের পতনের সূত্রপাত৷ আন্দোলনের জেরে ঐতিহাসিক হয়ে ওঠা এহেন জনপদেই পালা বদলের বাংলায় বারংবার মহিলারা ধর্ষণের শিকার হওয়ায় এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই পুলিশি নিস্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠতে থাকায় নন্দীগ্রামবাসী প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন- এ কেমন পরিবর্তন? যেখানে সরকারি প্রকল্পের ‘কাটমানি’ না দেওয়ায় শাসকদলের হাতে ধর্ষিতা হতে হচ্ছে গ্রাম্য বধূদের?

----
--