ফের ‘প্রশ্নফাঁস’: সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে গেলেন সংসদ সভাপতি!

দিপালী সেন, কলকাতা: ঢক্কা নিনাদই সার! মাধ্যমিকের পর উচ্চমাধ্যমিকেও লাগাতার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে ফের সামনে এল বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো-র চিত্রটা! ফলে ফের কাঠগোড়ায় সংসদ কর্তৃপক্ষ৷ প্রশ্ন উঠছে, কড়া নজরদারি ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বাংলার পর বুধবার কিভাবে হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়ল ইংরাজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র? জবাব মেলেনি৷ কারণ, সংবাদমাধ্যমকেই এড়িয়ে গিয়েছেন স্বয়ং সংসদ সভাপতি মহুয়া দাস৷

চলতি বছরে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিনেই বাংলা পরীক্ষা চলাকালীন ‘প্রশ্নপত্র’ হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছিল৷ সেদিন ‘প্রশ্নফাঁস’-এর অভিযোগ সরাসরি স্বীকার না করলেও, নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরালো করার আশ্বাসবাণী শোনা গিয়েছিল সংসদ সভাপতি মহুয়া দাসের কন্ঠে৷ কিন্তু ফের বৃহস্পতিবার, ইংরাজি পরীক্ষা শুরুর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়ে একটি প্রশ্নপত্র৷ পরীক্ষা শেষে দেখা যায়, পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নপত্রের!

পুলিশ সূত্রের খবর: এবারেও অভিযোগের শিকড় সেই মালদহ৷ অভিযোগ, মালদহর কালিয়াচক থেকেই ছড়িয়ে পড়েছে ইংরাজির প্রশ্নপত্র৷ হাজারো নজরদারির মধ্যেও কিভাবে ফাঁস হচ্ছে প্রশ্নপত্র? তবে কি সর্ষের মধ্যেই রয়েছে ভূত? বিস্তারিত জানতে হাজির হয়েছিলাম বিদ্যাসাগর ভবনে৷ কিন্তু মন্তব্য তো দুরস্ত, দিনভর সংবাদ মাধ্যমকে এড়িয়েই চললেন সংসদ সভাপতি৷

- Advertisement -

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে মাধ্যমিক পরীক্ষায় মুখ পুড়েছিল পর্ষদের৷ স্বভাবতই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু আগে থেকেই জোর গলায় সংসদ দাবি করেছিল-উচ্চমাধ্যমিকে বেনজির নজরদারি ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷ কিন্তু পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর থেকেই একের পর এক প্রশ্ন ফাঁসের জেরে ফের প্রশ্নের মুখে সংসদ৷ মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়ও মোবাইল নিয়ে কড়াকড়ি সত্ত্বেও ধরা পড়েছিল একাধিক ফোন৷ হোয়াটস অ্যাপে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগও উঠেছিল৷ সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাতেও৷ স্বভাবতই, পরীক্ষার্থী থেকে অভিভাবকেরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, ‘‘তবে কি সবটাই ফাঁকা আওয়াজ? নাকি পরিকল্পিত?’’

নজরদারির জন্য চলতি বছর থেকেই বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছিল সংসদ৷ মোবাইল সম্বন্ধিত নজরদারির জন্য রাখা হয়েছিল বিশেষ ইনভিজিলেটর৷ তারপরও কী করে পরপর দুটি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে বেড়িয়ে এল? খামতি কি শুধু নজরদারিতে নাকি সংসদের অন্দরেই রয়েছে ‘বিভীষণ’? প্রশ্ন তুলছেন সমাজের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা৷ যদিও প্রশ্নবাণ এড়াতে দিনভর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে লুকোচুরি খেলা বজায় রাখলেন মহুয়াদেবী৷ এমনকি ফোন করলেও মেলেনি প্রত্যুত্তর৷ কারণ, ফোনটাই যে বন্ধ৷ অগত্যা, প্রশ্ন ফাঁসের অন্দরে ‘ভূত’ কোথায়, তার সদুত্তরও মেলেনি৷

Advertisement
---