ফের বাঘের আতঙ্ক লালগড়ে

ফাইল চিত্র৷

স্টাফ রিপোর্টার, মেদিনীপুর: বাঘের দৌলতে ফের সংবাদ শিরোনামে লালগড়৷ পশ্চিম মেদিনীপুরের লালগড় বলতেই মনে পড়ে জঙ্গলে লাগানো ক্যামেরায় ধরা পড়া বাঘের সেই দৃশ্য৷ সংবাদমাধ্যমে তখন একটাই শিরোনাম, ‘লালগড়ে বাঘের হানা’৷ তবে বাঘের হানার চার মাস অতিক্রম হয়েছে৷ সেই স্মৃতি মুছতে না মুছতেই ফের একই আতঙ্কই গ্রাস করল শালবনি থেকে লালগড়ের বাসিন্দাদের৷ গ্রামবাসীদের অনুমান আবার বাঘ এসেছে৷

আরও পড়ুন: বন্যা বিপর্যস্ত কেরল: মৃতদেহ সৎকারে জমি দিলেন ধর্মযাজক

শনিবার লালগড়ের জঙ্গল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় বেরিয়ে আসে দুটি বাছুর। তাদের শরীরে মেলে গভীর ক্ষত। গ্রামবাসীদের আশঙ্কা, বাঘের আক্রমণের শিকার হয়েছে বাছুর দু’টি। আর রবিবার সেই জঙ্গলেই পাওয়া গেল ছাগলের মাংসের টুকরো ও সোম সঙ্গে বাঘের পায়ের ছাপ৷ এমনটাই দাবি গ্রামবাসীদের৷ ফের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের আতঙ্ক ছড়ায় গ্রামবাসীদের মধ্যে৷ তাই রবিবার লালগড়ের বিভিন্ন গ্রামে দেখা যায়, গ্রামবাসীরা তাদের গরু এবং অন্যান্য গৃহপালিত পশুগুলিকে ঘরের উঠোনে বেঁধে রেখেছেন। তাদের সাফ কথা, জঙ্গলে আর গরু বা গৃহপালিত পশু চড়তে পাঠাবেন না। প্রয়োজনে ঘরে রেখেই খাওয়াবেন গৃহপালিত পশুদের।

- Advertisement -

এদিকে শনিবার রাতে বাঁধগোড়া গ্রাম লাগোয়া লক্ষণপুরের জঙ্গলে বাছুরের আহত হওয়ার খবর পেয়ে পরের দিন বনদফতরের একটি দল পৌঁছায়৷ তাঁরা জঙ্গল ঘুরে দেখে বেশ কিছু পায়ের ছাপ উদ্ধার করে। এই প্রসঙ্গে বনদফতর জানিয়েছে, ওই পায়ের ছাপ কুকুর বা হুড়ালের হতে পারে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম বাঘের আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল লালগড়ের জঙ্গলে। একইভাবে লালগড়ের আমলিয়া গ্রামের বেশ কয়েকটি গরু প্রথমে আহত হয়ে ফিরেছিল। পরে চারটি গরু জঙ্গলে গিয়ে আর ফেরেনি। ওই ঘটনার পর থেকে লালগড় সহ লাগোয়া পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন জঙ্গলগুলিতে মিলেছিল বাঘের পায়ের ছাপ।

আরও পড়ুন: বন্যাবিধ্বস্ত কেরলের পাশে বিশ্বভারতী

সেক্ষেত্রেও বনদফতর প্রথমে বাঘের তত্ত্বকে আমল দেয়নি। কিন্তু পরপর গ্রামবাসীদের গৃহপালিত পশু মারা যেতে শুরু করলে টনক নড়ে বনদফতরের। লালগড়ের মেলখেড়িয়ার জঙ্গলে দু’টি ট্র্যাপ ক্যামেরা সহ বিভিন্ন জঙ্গলে মোট আটটি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। দেওয়া হয়েছিল টোপ খাঁচা, জঙ্গলে ছড়ানো হয়েছিল কৃত্রিম মাংসের গন্ধ। ২ মার্চ মেলখেড়িয়ার জঙ্গলের দু’টি ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়ে প্রথম পূর্ণবয়স্ক একটি পুরুষ রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি। তারপর দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে চলেছিল বাঘকে খাঁচা বন্দী করার পালা।

ড্রোন থেকে শুরু করে টোপ খাঁচা কোনও কিছুতেই ধরা পড়েনি বাঘ। শেষে ১৪ এপ্রিল বাঘটিকে মারা পড়তে হয়েছিল। বাঘের টাটকা স্মৃতি এখনও ঘুরছে লালগড়ের বাঁধগোড়, আমডাঙা, আমলিয়া, পাথরপাড়া, রাঙ্গিয়াম, পেলিয়া সহ বিস্তীর্ণ এলাকাবাসীর মনে। তাই সেই ভয়ে শনিবারের পর থেকে তাঁরা কেউ জঙ্গলে যেতে চাইছেন না৷ গৃহপালিত পশুগুলিকেও জঙ্গলে পাঠাচ্ছেন না গ্রামবাসীরা৷

আরও পড়ুন: পুজোর থিম সং-এও কেন্দ্রকে বিঁধলেন নচিকেতা

স্থানীয় বাঁধগোড়া বাসিন্দা লক্ষ্মী মাহাত বলেন, ‘‘পায়ের ছাপ দেকে মনে হচ্ছে বাঘ হবে। নয়তো বাছুরটাকে ধরবে কেন। তবে বাঘ না হলে বড় ভাল্লুকও হতে পারে। এই ভয়ের কারণে আমরা জঙ্গলে যাওয়াই ছেড়ে দিয়েছি। জঙ্গলের কাছে গেলেই এখন ভয় লাগে।’’ পাশাপাশি সচিন দেবসিং বলেন, ‘‘আমরা আতঙ্কে রয়েছি। জঙ্গলের সামনেই আমাদের ঘর। ঘটনা কানে আসার পর থেকে আর গরু জঙ্গলে পাঠাইনি। ছাড়লে তো বিপদ।’’ সব মিলিয়ে লালগড় এলাকার বিভিন্ন গ্রামে আতঙ্ক বাসা বেঁধেছে। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, জঙ্গলে ভয়ানক কোনও জন্তু রয়েছে।

যদিও এই বিষয়ে মেদিনীপুরের ডিএফও রবীন্দ্রনাথ সাহা বলেন, ‘‘এদিন বনদফতরের পক্ষ থেকে এলাকার জঙ্গলে খোঁজ চালানো হয়েছিল। ছাগলের অবশিষ্ট ও তার পাশে বেশ কিছু পায়ের ছাপ মিলেছে। এই ছাপগুলি মনে করা হচ্ছে কুকুর বা হুড়ালের হবে। অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই।’’

Advertisement
---