মাঝ রাতে যাদবপুর ক্যাম্পাসে পড়ুয়াদের বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: থমকে ছিল, এবার শুরু বিক্ষোভ৷ মাঝ রাতে যাদবপুর ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ৷ পুরনো মেধা তালিকা থেকেই ইতিহাস বিভাগে ভর্তির দাবিতে বিক্ষোভে পড়ুয়ারা৷

ইতিহাসের মেধাতালিকাকে ঘিরে দেখা দেয় বিতর্ক৷ দেখা যায়, উচ্চ মাধ্যমিকে ৯৫ শতাংশের মতো নম্বর পাওয়া পড়ুয়ারা প্রবেশিকা পরীক্ষায় ১০-এরও কম নম্বর পেয়েছেন৷ ২১৬ জনের মেধাতালিকায় ১২০ জন এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন৷ এই বিষয়ে বহু অভিযোগ জমা পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে৷  আলোচনা করতে বুধবার অ্যাডমিশন কমিটির বৈঠক হয়৷ সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ইতিহাসের প্রবেশিকা পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ণ করা হবে৷ পাশাপাশি, বাকি পাঁচটি বিষয়ে ‘ট্যাবুলেশন’ করার অর্থাৎ, পুনরায় এই বিষয়গুলির নম্বর যোগ করে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ এরই বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে যাদবপুরের পড়ুয়ারা৷

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যানিটিসের ছয়টি বিভাগের ভরতি প্রক্রিয়া আগামী ৯ ও ১০ অগস্ট হওয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু, মেধাতালিকাকে ঘিরে জটিলতার কারণে ইতিহাস বিভাগের এই ভরতি প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে একটি বিজ্ঞপ্তিতে৷ ফের কবে এই ছয়টি বিভাগে ভরতি প্রক্রিয়া চালু করা হবে তা নিয়ে কিছু জানানো হয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে৷ এই বছর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হিউম্যানিটিজের ছয়টি বিভাগে ভরতি প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই দেখা দেয় একাধিক জটিলতা৷

কর্তৃপক্ষের প্রবেশিকা পরীক্ষা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তে ছাত্র আন্দোলনের সূত্রপাত হয় বিশ্ববিদ্যালয়৷ পরে আন্দোলনের রূপ পরিবর্তন হয়ে অনশন কর্মসূচিতে পরিণত হয়৷ অবশেষে চতুর্থ ও শেষবার প্রবেশিকা পরীক্ষা ও উচ্চ মাধ্যমিকে প্রাপ্ত নম্বরের ৫০: ৫০ অনুপাতে ভরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্মসমিতি৷সেই অনুযায়ী, প্রবেশিকা পরীক্ষা হয় বাংলা, ইংরাজি, তুলনামূলক সাহিত্য, দর্শনশাস্ত্র, ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান তথা আন্তর্জাতিক সম্পর্কে৷

কিন্তু, প্রবেশিকার পর প্রথম মেধাতালিকা প্রকাশ হতেই ফের মাথাচাড়া দেয় বিতর্ক৷ দেখা যায়, মেধাতালিকা প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাওয়া নম্বর দেওয়া থাকলেও উচ্চ মাধ্যমিকে প্রাপ্ত নম্বরের কোনও উল্লেখ নেয়৷ অভিযোগ পেতেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফের মেধাতালিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ পুনরায় প্রকাশিত মেধাতালিকায় প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর ও উচ্চ মাধ্যমিকে প্রাপ্ত নম্বর ও এই দুইয়ের ৫০:৫০ অনুপাতে প্রার্থী কত নম্বর পেয়েছেন তারও উল্লেখ করা হয়৷

কিন্তু, সেই তালিকা প্রকাশের পরও সমস্যার উদ্ভব হয়৷ এক ছাত্রী রেজিস্ট্রারের কাছে অভিযোগ করেন যে, তিনি উচ্চ মাধ্যমিকে ইংরাজিতে যে নম্বর পেয়েছিলেন মেধাতালিকায় তার থেকে কম নম্বরের উল্লেখ রয়েছে৷ এই ভুলের কারণে মেধাতালিকায় ৬০-র জায়গায় তার ব়্যাঙ্ক হয় ১১০৷ এরপরই ইতিহাস বিভাগের জটিলতা সামনে আসে৷

Advertisement
----
-----