ব্যুরো সংবাদ: বামেদের আইন অমান্য আন্দোলন ঘিরে দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায় মিছিল৷ আর সেই মিছিল ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়৷ বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের ব্যারিকেড সরানো ঘিরে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড় দু’পক্ষ৷ পাশাপাশি বামেদের এই কর্মসূচির জেরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল ব্যহত হয়৷ যানজটের জেরে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় পথচারিদের৷

যেমনটা দেখা গেল উত্তর চব্বিশ পরগনায়৷ জেলার কৃষক সভার ডাকে সারা রাজ্যে জেল ভরো ও আইন অমান্য কর্মসূচি নেয় সারা ভারত কৃষকসভা। ফসলের ন্যায্য দাম, কৃষি ঋণ মুকুব-সহ বিভিন্ন দাবিতে বৃহস্পতিবার বারাসত চলো, জেল ভর কর্মসূচির আয়োজন করে তারা৷

Advertisement

আরও পড়ুন: ‘ঝুমা বৌদি’ এবার আরও HOt! সামলাতে পারবেন তো ঠাকুরপোরা

কৃষক সভার ব্যানারে এই আইন অমান্য কর্মসূচি হলেও মূলত তা ছিল বামেদের কর্মসূচিই৷ বারাসতের পাঁচটি এলাকা থেকে বাম কর্মী-সমর্থকরা মিছিল করে বারাসত চাপাডালি মোড়ে এসে জমায়েত হন। ছিলেন সিপিএম নেতা তড়িৎ তোপদার, রেখা গোস্বামী, রমলা চক্রবর্তী থেকে নেপালদেব ভট্টাচার্যের মত নেতৃত্ব৷

দিল্লির পথে এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। চাপাডালি মোড়ে এক ঘণ্টার এই জমায়েতে যান চলাচল কার্যত থমকে যায়৷ সঙ্গে তীব্র যানজটে আটকে পড়েন বহু মানুষ। চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাঁদের৷ পুলিশ সূত্রে খবর, প্রায় পাঁচ হাজারজনকে এদিন আইন অমান্য করায় জেলে ভরা হয়৷ পরে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: হাজারে হাজারে গ্রেফতার করে ‘জেল ভরো’-কে সফল করল পুলিশ

একই ছবি মুর্শিদাবাদেও৷ বামেদের মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির পক্ষ থেকে জেল ভরো ও আইন অমান্য কমসূচির আয়োজন করা হয়। এদিন দুপুরে বহরমপুরে জেলা প্রসাসনিক ভবনে জোর করে ঢুকতে যান বাম নেতা-কর্মীরা৷ পুলিশ প্রত্যেককেই প্রথমে গ্রেফতার করেন৷ পরে মুক্তি পান সকলেই৷ এদিন প্রশাসনিক ভবনের সামনেও বিক্ষোভ অবস্থানেও সামিল হন বাম ছাত্র যুবকরা।

হাওড়ায় বাম নেতৃত্ব মিছিল করে হাওড়া ময়দান ফ্লাইওভারের সামনে এলে সেখানে পুলিশ ব্যারিকেড করে তাঁদের আটকায়। পাল্টা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করে তাঁরা৷ শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি৷ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করে পুলিশ৷

আরও পড়ুন: বৃষ্টিতে ভেস্তে গেল লর্ডস টেস্টের প্রথম দিন

বাঁকুড়াতেও মিছিল বের করে বামেরা৷ সিটু, ক্ষেতমজুর ফেডারেশন ও বিভিন্ন বাম সংগঠনের ডাকে এদিনের জেল ভরো কর্মসূচিতে যোগদান করেন বাম কর্মী, সমর্থকরা৷ বাঁকুড়া শহরের তামলিবাঁধ ময়দান থেকে একটি মিছিল বের হয়৷ মিছিলটি বাঁকুড়া শহর পরিক্রমা করে জেলা শাসকের দফতরে হাজির হয়।

অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আগে থেকেই জেলাশাসকের দফতরের সামনে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন ছিল। পুলিশ ওই মিছিল আটকে আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার করে। যদিও মিছিলকারীদের এক প্রতিনিধিদলকে জেলাশাসকের দফতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়৷ জেলাশাসককে একটি দাবিপত্র দেয় তারা৷ কর্মসূচিতে সিপিএম নেতা পার্থপ্রতীম মজুমদার, মহিলানেত্রী সুদীপা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ প্রথম সারির বাম নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন৷

আরও পড়ুন: এটিএম কাণ্ড: কলকাতা কেন প্রতারকদের টার্গেট

বীরভূমের সিউড়ি প্রশাসন ভবনচত্বরে ধুন্ধুমার বেধে যায় এই জেল ভরো কর্মসূচি ঘিরে৷ পাঁচ দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে সিউড়ি শহরের চাঁদমারি ময়দান থেকে সারা ভারত কৃষক সভা ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের ডাকে  জেল ভরো কর্মসূচি সফল করতে মিছিল বের করে বামেরা৷ মিছিলে পা মেলান সিপিআইএম’র জেলা সম্পাদক মনসা হাঁসদা, রাজ্য কমিটির সদস্য রামচন্দ্র ডোম প্রমুখ৷

আরও পড়ুন: আদিবাসীদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা দিলীপের

এদিন মিছিলটি শহর পরিক্রমা করে সিউড়ি প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হয়৷ জেল ভরো কর্মসূচি ঘিরে দফায় দফায় পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে বাম সমর্থকরা৷ পুলিশের ব্যারিকেড ছুঁড়ে ফেলে দেন আন্দোলনকারীরা৷ শুরু হয় বাম সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি, টানাহেঁচড়া৷ এরপর প্রশাসনিক ভবনের গেটের সামনে প্রায় আধ ঘণ্টা অবস্থান বিক্ষোভ করে বামেরা৷

জেল ভরো কর্মসূচি ঘিরে তমলুকের হাসপাতাল মোড়ে জমায়েত হয় বামেরা পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার ঘটনায় প্রায় ৩০০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। উপস্থিত ছিলেন ক্ষেতমজুর সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক অমিয় পাত্র, জেলা সম্পাদক হিমাংশু দাস, সিপিএমের জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি-সহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন: পুলকার দুর্ঘটনায় জখম দুই স্কুল পড়ুয়া

একই ইস্যুতে বৃহস্পতিবার উত্তপ্ত হয়েছে বর্ধমানও৷ বামেদের ডাকা জেল ভরো আন্দোলনে কোণঠাসা হল বর্ধমানের পুলিশ। এদিন দুপুর নাগাদ বর্ধমান স্টেশন থেকে বিশাল মিছিল বের হয়।

মিছিল কোর্ট চত্বরে আসতেই সিপিএম সমর্থকরা হাতে দলীয় পতাকা নিয়ে ছুটে যান পুলিশের ব্যারিকেডের দিকে। প্রথম একটি ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে দ্বিতীয় ব্যারিকেডের দিকে এগিয়ে যেতেই পুলিশ তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে। এই সময় দুপক্ষের ধস্তাধস্তিতে দ্বিতীয় ব্যারিকেডও ভেঙে যায়। পুলিশের সঙ্গে রীতিমতো ধস্তাধস্তি শুরু হয় সিপিএম সমর্থকদের।

উত্তেজিত সিপিএম সমর্থকরা এই সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে দলীয় পতাকা লাগানো ডান্ডা দিয়ে মারতেও থাকে। পালটা পুলিশও লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যায়। ব্যাপক ঠেলাঠেলি এবং ধস্তাধস্তির সময় রাস্তায় পড়ে যান সিপিএমের প্রাক্তন জেলা সম্পাদক তথা কৃষক সভার রাজ্য কমিটির সদস্য অমল হালদার। প্রায় আধঘণ্টা ধস্তাধস্তি চলার পর পুলিশ গ্রেফতার করে আইন অমান্যকারীদের।

আরও পড়ুন: বীজপুর থানা ঘেরাও বিজেপির

----
--