সেনাকে চড় মারার শাস্তি শেষ, মুক্ত তামিমি

ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক: সেনার চোখে চোখ রেখে সপাটে চড়৷ একটা নয় পর পর ২টি সেনাকে চড় কষিয়েছিলেন আহেদ তামিমি৷ প্যালেস্তাইনের বুকে ইজরায়েলি সেনার দাপাদাপি তুঙ্গে৷ সেনাদের আগ্রাসন রেয়াদ করছে না ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের শিশুদেরও৷ সেরমই একটি দিনে ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের পাথরবাজদের সঙ্গে জুঝছে সেনা৷ নির্বিকার হাতে বিদ্রোহীদের দমন চলছে৷

তখনই ১৭ বছরের তরুণী ছুট্টে এসে চড় কষায় সেনার গালে৷ শাস্তির মুথে পড়তে হয় তামিমি ও তাঁর মা কে৷ ৮ মাসের শাস্তি কাটিয়ে অবশেষে মুক্ত তামিনি ও তাঁর মা৷

৮ মাস মায়ের থেকে আলাদা স্ফুলিঙ্গ সেই তরুণী৷ জেলে মায়ের থেকে আলাদাই রাখা হয় তাঁকে৷ তাই মুক্তি পেয়ে মাকে জাপটে ধরে আর্তনাদের কান্না কাঁদে তামিমি৷ চড়টা আসলে কি আত্মরক্ষার ছিল? তামিমির দাবি, চড়টা সেনার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে, যারা ৩ বছরের কোলের শিশুকেও জেলে পুড়তে দ্বিধা বোধ করে না৷ চড়টা আসলে সেই রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে যেখানে সাধারণ মানুষ শুধুই তুরুপের তাস৷ চড় মেরে অন্যায়বোধ? একদমই না৷ জানালেন তামিমি৷ সেনাকে চড় মারা শাস্তিযোগ্য অপরাধ৷ নিয়ম মেনে শাস্তি ভোগ করেছেন৷ অন্যায় তিনি করেননি, সাফ বললেন তামিমি৷

প্যালেস্তাইনেপ আসাফ লিবারেতি সংগঠনের সদস্য তামিমি ও তাঁর মা৷ ঘটনার দিন তামিমির সঙ্গেই ছিলেন, সমর্থন করেছেন মেয়েকে৷ সেনাকে চড় মারার অপরাধে পৃথক জেলে ৮ মাস কাটালেন মা, মেয়ে৷ অন্ধকারের কুঠুরি থেকে মুক্তির আলো আসলে সেই হাহাকার যা জমেছিল তামিমির মনে৷ যে চড় মারার ভিডিওটি নিয়ে উত্তাল হয় প্যালেস্তাইন, সেখানে দেখা যাচ্ছে, ২ সেনার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন তামিমি৷ তারপরেই ২ সেনাকে চড় কষায়৷ সেনার বক্তব্য, পাথর ছোড়া বন্ধ করতে পাল্টা হামলা চালায় সেনা৷ তখনই তাদের আটাকায় তামিমি ও তাঁরা মা৷ চড় মারা হয় তাদের৷

সাহসটা সেদিন দেখিয়েছিলেন তামিমি৷ সেনার শাস্তি ঠেকাতে কোনওরকম চেষ্টাও করেননি৷ ভাবেননি কখনও মুক্তি পাবেন৷ পরে চড় মারার শাস্তি কমিয়ে দেয় ইজরায়েলি সেনা৷ অশান্ত প্যালেস্তাইনে মুক্তির আনন্দ যদিও ফিকে৷ তবুও নিজের মানুষে কাছে ফিরে খুশি তামিমি৷

Advertisement
----
-----