পাঁচ কিমি দুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা গেল রোগী

হায়দরাবাদ: কোমাটিপল্লি গ্রাম থেকে পাঁচ কিলোমিটার দুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র৷ কিন্তু গ্রাম থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্র অবধি যায় না কোন বাস, অটো৷ কেননা এই পাঁচ কিলোমিটার পথে নেই কোন কাঁচা পাকা রাস্তা৷ ‘দুর্গম’ পথ পাড়ি করতে গ্রামবাসীদের ভরসা দুই পা৷ গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার এই নিদারুণ দশা কেড়ে নিল এক রোগীর প্রাণ৷ ঠিক সময়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে না পারায় মাঝ রাস্তায় মারা গেলেন এক গ্রামবাসী৷

ঘটনাটি তেলেঙ্গনার জয়াশঙ্কর জেলার কোমাটিপল্লি গ্রামের৷ আদিবাসী অধ্যুষিত এই গ্রাম অবধি পৌঁছায়নি নুন্যতম কোনও সরকারি পরিষেবা৷ নেই রাস্তা, পৌঁছায়নি বিদ্যুত৷ এমন একটি গ্রামের বাসিন্দা মাদাকাম জোগিয়া৷ গত এক সপ্তাহ ধরে প্রবল জ্বরে ভুগছিল সে৷ দিন দিন তার স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়৷ রবিবার তার স্বাস্থ্যের আরও অবনতি হতে থাকে৷ এদিকে রাস্তার অভাবে গ্রামে অ্যাম্বুলেন্স এসে পৌঁছান সম্ভব নয়৷ অগত্য বিছানায় শায়িত অবস্থায় মাদাকামকে নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উদ্দেশ্য রওনা দেয় তার ছেলেরা৷ দড়ি দিয়ে বাঁশের মধ্যে বিছানাকে বেঁধে অস্থায়ী স্ট্রেচার বানিয়ে কাঁধে করে পাঁচ কিলোমিটার ট্রেক করে বাবাকে নিয়ে যায় ছেলেরা৷ কিন্তু মাঝপথেই মারা যায় সে৷

এদিকে ইতুরুনাগ্রামের ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন৷ জেলার মেডিকেল অফিসার আল্লেম আপ্পাইয়া বলেন, ছত্তিশগড় থেকে তারা এই রাজ্যে আসে৷ কোমাটিপল্লি গ্রামের যে ব্লকে তারা থাকে সেটি ঘন জঙ্গলে ঘেরা৷ সরকারি কোন পরিষেবা সেই ব্লক অবধি পৌছায়নি৷ অন্যদিকে তারাও জঙ্গল ছেড়ে বেরতে চায় না৷ সেই কারণে সঠিক সময়ে চিকিৎসা পরিষেবা পৌছায়না৷ যদিও তিনি দাবি করেন, আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় নিয়মিত স্বাস্থ্য শিবির করা হয়৷ তাদের বিনা পয়সায় ওষুধ দেওয়া হয়৷ তবে আপদকালীন পরিস্থিতিতে সবসময় চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হয় না৷ তাই গ্রামবাসীদেরও হেঁটে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়৷