হায়দরাবাদ: জোট শরিক হিসেবে থেকে লড়াই করতে রাজি কিন্তু সরকারে থাকতে রাজি নয় এআইএমআইএম। বুধবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দলের প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি।

চলতি সপ্তাহের শুক্রবার তেলেঙ্গানায় অনুষ্ঠিত হবে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। তার আগে বুধবারে হায়দরাবাদ প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। চিরাচরিত কায়দায় সেই সাংবাদিক বৈঠকে আক্রমণ করেছেন বিজেপিকে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে সরকার গঠন থেকে থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্তের ঘোষণা।

ওই রাজ্যের বিদায়ী শাসক তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি বা টিআরএস-র সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে লড়াই করছে আসাদুদ্দিনের এআইএমআইএম। এই নির্বাচনে কংগ্রেস এবং বিজেপি সকলেই আসাদুদ্দিনের বিরোধী। প্রতিটি সভা থেকেই আক্রমণ করেছেন দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলকে। টিআরএস প্রার্থীর হয়ে প্রচারেও গিয়েছেন তিনি।

 

এতকিছুর পরেও সরকারে থাকতে নারাজ এআইএমআইএম। আসাদুদ্দিন বলেছেন, “আমরা সরকারে থাকছি না। আমি এক প্রকার নিশ্চিত যে তেলেঙ্গানার মানুষ আবারও কেসিআর-এর উপরেই আস্থা রাখবেন। তিনিই ফের সরকার গড়বেন। আমরা সরকারে যোগ দেব না।”

তেলেঙ্গানা বিধানসভায় মোট আসন সংখ্যা ১১৯। সরকার গঠনের জন্য ৬০ জন বিধায়ক দরকার। টিআরএস একার ক্ষমতায় সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় আসন জিততে সক্ষম বলে দাবি করেছেন হায়দরাবাদের সাংসদ। যদি তা না হয় তাহলে পরবর্তী অবস্থার কথা ভেবে দেখার কথাও জানিয়েছেন আসাদুদ্দিন।

চলতি বছরের মে মাসে কর্ণাটকে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে নানা জটিলতা পেরিয়ে সরকার গঠন করে কংগ্রেস জেডিএস জোট। ভোটের আগে এই দুই রাজনৈতিক দল পরস্পরের বিরোধী ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে পরে হাত মেলায়। অনেক কম আসন সংখ্যা থাকলেও জেডিএস দলের নেতা কুমারস্বামী মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে জেডিএস দলের অনেক প্রার্থীর জামানত জব্দ হয়েছিল।

কম সংখ্যক বিধায়ক নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে নজির গড়েছিলেন কুমারস্বামী। সেই ছকেই তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দাবি করেছিলেন এআইএমআইএম নেতা আকবরুদ্দিন ওয়াইসি। যিনি সম্পর্কে দলের প্রধান আসাদুদ্দিনের ভাই। দলের শীর্ষ নেতার এই ধরনের বক্তব্য থেকে বিতর্ক ছড়িয়েছিল। ভোটের আগে সেই ক্ষত মেরামতের জন্যেই সরকারে না থাকার কথা ঘোষণা করলেন আসাদুদ্দিন। এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

--
----
--