স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক সমকামিতা: মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড

নয়াদিল্লি: ‘সমকামিতা মানুষের স্বাস্থ্যের পখে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। এমনই মনে করেন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সম্পাদক জাফারইয়াব জিলানি।

সমকামিতা নিষিদ্ধ করা নিয়ে আইনি লড়াই চলছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। এই বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছিল অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড। কিন্তু রবিবার ওই বোর্ডের সম্পাদকের মুখেই শোনা গেল অন্য সুর। সরাসরি জানিয়ে দিলেন যে তাঁরা সংবিধানের ৩৭৭ ধারাকে সমর্থন করছেন।

আরও পড়ুন- সমকামিতা ইস্যু : ৩৭৭ ধারা বাতিলের পক্ষে সায় সুপ্রিম কোর্টের

- Advertisement -

এদিন দিল্লিতে শরিয়ত আদালত নিয়ে বৈঠক করে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সদস্যরা। সেই বৈঠকের শেষে সাংবাদিক সম্মেলন করে জাফারইয়াব জিলানি। সমাকিমতা নিয়ে প্রশ্নের উত্ততে তিনি বলেন, “আমরা সংবিধানের ৩৭৭ নং ধারাকে সমর্থন করছি। সমকামিতা মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। সমকামিতাকে অপরাধ বলেই গণ্য করা উচিত।”

আরও পড়ুন- সমকামিতা কি অপরাধ? কী বলছে কেন্দ্র

ইসলামিক রীতি অনুসারে সমকামিতা নিষিদ্ধ। যদিও ভারতীয় সংবিধানে দীর্ঘ সার্ধ শতবর্ষ ধরে সমকামিতাকে বৈধতা দেওয়া হয়ে আসছে। এই বিষয়ে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সম্পাদক জাফারইয়াব জিলানি বলেছেন, “সমকামিতা নিয়ে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আদালত নিক। এই বিচার প্রক্রিয়ায় আমরা অংশ নেব না।” একই সঙ্গে তিনি আরও জানিয়েছেন যে সমকামিতা নিয়ে সরকারের নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়া উচিত।

সংবিধানের ৩৭৭ ধারার বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চলছে শুনানি৷ বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতের যা পর্যবেক্ষণ তাতে আনন্দিত সমকামীরা৷ তাদের মতে এদিনের সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ৩৭৭ ধারা বাতিলের দিকেই ইঙ্গিত করছে৷ প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রকে নিয়ে গঠিত পাঁচ সদস্যের বিচারপতির বেঞ্চ এ দিন জানিয়েছে, সংবিধানের ৩৭৭ ধারা সমকামীদের প্রতি বিভেদ সৃষ্টি করছে৷ তাদের সামাজিক কলঙ্কের চোখে দেখা হয়৷ এই বৈষম্য তখনই দুর হবে যদি ৩৭৭ ধারা বাতিল করা যেতে পারে৷

প্রসঙ্গত সুপ্রিম কোর্ট পাঁচ বছর আগে দিল্লি হাইকোর্টের রায় বাতিল করে ৩৭৭ ধারাকে পুর্নবহাল করে৷ সেই রায় আবার পুর্নবিবেচনা করার আশ্বাস দিয়ে শীর্ষ আদালতে শুরু হয়েছে শুনানি৷ ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ আমলে তৈরি হওয়া ৩৭৭ ধারা আনুযায়ী সমকাম প্রকৃতিবিরুদ্ধ যৌন সম্পর্ক৷ এই ধারা অনুযায়ী যারা সমকামীতা শাস্তিযোগ্য অপরাধ৷ সর্বোচ্চ দশ বছর সাজা এবং জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে এই ধারায়৷

Advertisement ---
---
-----