মমতার বাংলায় শুদ্ধ বায়ু, দূষিত মোদীর রাজ্যে

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: ‘আবার আসিব ফিরে, ধান সিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়’। পশ্চিমবঙ্গের দূষিত বায়ুর পরিমাণ এখন যথেষ্ট কম। সেখানে মোদীর রাজ্য গুজরাত ভরতি বায়ু দূষণে। তাই জীবনানন্দের কবিতার সুরে বাংলায় ফিরে আসার কথা এই মুহূর্তে ভাবতেই পারেন ‘পরদেশিরা’। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ সূত্রেই মিলছে রাজ্যের বায়ু দূষণের ক্ষেত্রে এমন সুখবর। তবে বর্ষাও রাজ্যের দূষণকে কমাতে অনেকটাই কার্যকরী ভূমিকা নিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ এবং গুজরাত এই দুই রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক টক্কর সেয়ানে সেয়ানে। কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য গুজরাত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। দেশের যে কয়টি হাতে গোনা রাজ্যে নরেন্দ্র মোদীর দল ক্ষমতায় নেই তাদের মধ্যে অন্যতম পশ্চিমবঙ্গ। গোষ্ঠীসংঘর্ষ থেকে শিল্প, উন্নয়ন সবেতেই পড়েছে দুই রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইয়ের ছাপ। দূষণ নিয়ন্ত্রণেও যেন স্পষ্ট সেই লড়াই। দেখা যাচ্ছে গত বেশ কয়েকদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের বাতাসে দূষণের পরিমাণ অনেকটাই কম। দূষণ বেশি রয়েছে গুজরাতের বাতাসে।

- Advertisement -

 

কেমন সেই তথ্য? প্রত্যেক দিনই গত ২৪ ঘণ্টায় কেমন ছিল রাজ্যের বাতাসে বাতাসে দূষণের পরিমাপ তা করে থাকে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। তাদের তথ্য অনুযায়ী আজ বিকেল পর্যন্ত কলকাতায় বাতাসে দূষণের পরিমাপ অল্প। তথ্য অনুযায়ী কলকাতার বাতাসে নাইট্রোজেনের পরিমাণ শুধু একটু বেশি রয়েছে। এর গড় পরিমাণ ৬৪, যেটা দূষণ নিয়ন্ত্রণের পরিমাপ অনুযায়ী সহনশীল। বাকি মিশ্রিত পদার্থের বায়ুর মাত্রা সর্বোচ্চ ৫১ মাইক্রোগ্রাম। অ্যামোনিয়ার পরিমাণ ১ মাইক্রোগ্রাম। সোডিয়াম ও ওজন গ্যাসের পরিমাণ যথাক্রমে ১ ও ১৮ মাইক্রোগ্রাম, যা বেশ ভালো। সবমিলিয়ে সহনশীলতার পরিমাপ ৬৪। হাওড়ার পদ্মপুকুরে এই পরিমাপ ৫১। শিলিগুড়িতে এই পরিমাণ আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৪১ মাইক্রোগ্রাম।

এবার যদি গুজরাতের বাতাসে দূষণের পরিমাপ দেখা যাচ্ছে মিশ্রিত বায়ুর পরিমাপ গড় ১০৪ মাইক্রোগ্রাম , যা বেশ খারাপ। নাইট্রোজেনের পরিমাপ ৫৯ মাইক্রোগ্রাম, অর্থাৎ চলনসই। সালফার ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ৯৪ মাইক্রোগ্রাম, যা বেশি দূষণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সব মিলিয়ে যে হিসাব দিচ্ছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ সেটিও ১০৪ মাইক্রোগ্রাম, যা অস্বস্তির কারণ। শুধু ২৪ ঘণ্টায় নয় গত এক সপ্তাহে বায়ু দূষণে অঙ্কের পরিমাণটাও একইরকম।

এই প্রসঙ্গে রাজ্যের পরিবেশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমরা দূষণের পরিমাণ কমানোর জন্য রাস্তায় পরিবেশ বান্ধব বাস নামিয়েছি। অনেক গ্রিন বাস নামিয়েছি। পাশাপাশি আমাদের রাজ্যের মানুষও অনেক সচেতন। সেটা আমাদের পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা শিবিরগুলির জন্য সচেতনতা বেড়েছে।” তবে এই তথ্যকে উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ পশ্চিমবঙ্গে অনেক দূষণ রয়েছে। রাস্তায় দূষণের পরিমাণ একদিনে ৫০ তি সিগারেটের সমান। রাস্তায় প্রচুর জ্যাম হয়। এটাও দূষণকে বাড়ায় বই কমায় না।”

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের আবহবিদরা অবশ্য অন্য তথ্য দিচ্ছেন। তারা জানাচ্ছেন বর্ষার সময় বাতাসে দূষণের পরিমাণ এমনিতেই কমে যায়। তার পাশাপাশি এখন পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেক জেলাতেই প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। তাই স্বাভাবিক ভাবেই বাতাসে দূষণ কম। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী গুজরাতে বৃষ্টি হচ্ছে না। তাই দূষণের মাত্রাও অনেকটা বেশি।

Advertisement ---
---
-----