নয়াদিল্লি:  সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল রাত আটটা থেকে দশটা পর্যন্ত ফাটানো যাবে আতসবাজি৷ সেই বাজি হতে হবে পরিবেশবান্ধব৷ বাস্তবে হল উল্টোটাই৷ শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দিল্লি সহ গোটা দেশে গভীর রাত পর্যন্ত দেদার ফাটল শব্দবাজি৷ তার জেরে একাধিক শহরে বায়ুদূষণ মাত্রা ছাড়াল৷ বাদ যায়নি দিল্লিও৷ ধোয়া ধুলোয় জেরবার হতে হল রাজধানীকে৷

দিওয়ালি দিন গভীর রাত পর্যন্ত বাজি ফাটায় দিল্লিবাসী৷ যার জেরে দিল্লির বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ মারাত্মক বেড়ে যায়৷ কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রক বোর্ডের তথ্য বলছে, বুধবার রাত ১১টার সময় বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ ছিল ৩০২৷ যা নিরাপদ সীমার চেয়ে বহুগুণ বেশি৷ দিওয়ালির দিন সন্ধ্যা ৭টা থেকেই বাযুদূষণ বাড়তে শুরু করে রাজধানীতে৷ বায়দৃষণ সূচক অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টায় বাতায়ে ধূলিকণার পরিমাণ ছিল ২৮১৷ রাত ৮টায় তা বেড়ে হয় ২৯১৷ এরপর রাত যত গড়িয়েছে ততই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দূষণের পরিমাণ৷ রাত ১০টায় বাতাসে ধৃলিকণার পরিমাণ ৩০০ ছুঁইছুঁই৷ রাত ১০টার পরও দেদার ফেটেছে শব্দবাজি৷ ফলে রাত ১১টার সময় ধৃলিকণার পরিমাণ ৩০০ ছাড়িয়ে যায়৷

কেন্দ্রীয় দৃষণ নিয়ন্ত্রক বোর্ড বলছে, আনন্দ বিহার, আইটিও এবং জাহাঙ্গীরপুরী এই তিনটি এলাকায় পরিবেশ সবচেয়ে বেশি দৃষিত হয়েছে৷ এছাড়া ময়ূর বিহার, লজপত নগর, লুটেয়নস দিল্লি, আইপি এক্সটেনশন, দ্বারকা, নয়ডা ইত্যাদি জায়গাতেও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করে রাত ১০টার পরেও ফেটেছে শব্দবাজি৷ ফলে মাত্রা ছাড়িয়েছে বায়ুদূষণ৷

পুলিশও স্বীকার করেছে শব্দবাজি রুখতে তারা ব্যর্থ হয়েছে৷ তবে জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ দিল্লির মতো এতটা করুণ না হলেও মুম্বই, কলকাতা ও চেন্নাইতেও শব্দদানব দাপট দেখিয়েছে৷ একেক সময় শব্দবাজি ফাটানোয় দিল্লিকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলে দিয়েছে এই তিন শহর৷

--
----
--