‘সুরা পানে’ বেহুঁশ স্টেশন ইনচার্জ, এক্সপ্রেস ছাড়তে দেরি-উত্তেজনা

বালুরঘাট: সপ্তাহ শুরুর দিন৷ চরম ব্যস্ততায় স্টেশনে যাত্রীদের আনাগোনা৷ টিকিট কাটার তাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন উঠার ব্যস্ততা৷ আর পাঁচটি দিনের মতো সোমবারও ব্যস্ততার স্বাভাবিক ছন্দে ছিল বালুরঘাট স্টেশন৷কিন্তু, হঠাৎই ছন্দ পতন৷ টিকিট কাউন্টারে বসে থাকা ব্যক্তিটি তখনও বেহুঁশ৷ অগত্যা ডাকাডাকি৷ দীর্ঘ টিকিটের লাইনের পেছনে থেকে কটুক্তি৷ চিৎকার-চেঁচামেচি৷ কিন্তু, তাতেও ভ্রুক্ষেপহীন টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীটির৷ যাত্রীদের চিৎকার তাঁর কান পর্যন্ত পৌঁছানই দুষ্কর৷ টিকিট কাউন্টারের মধ্যে পাখার ঠাণ্ডা হাওয়ায় নিদ্রা গেছেন তিনি, ঝামেলা সইতে পারে না!

না, নিদ্রা বললে ভুল বলা হয়৷ যাত্রীদের অভিযোগ, তিনি যে ‘সুরা পানে’ বেহুঁশ৷ হ্যাঁ, তিনিই তো বালুরঘাট রেল স্টেশনের ‘মূল কর্তা’, বড়বাবু৷ বালুরঘাট রেল স্টেশনের স্টেশন ইনচার্জ ‘শ্রীমান’ দিলীপ সরকার৷

অভিযোগ, কর্মরত অবস্থায় ‘মদ্যপান’ করে বেহুঁশ খোদ স্টেশন ইনচার্জ। মদ্যপ অবস্থায় টিকিট কাউন্টারে বসায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হল বালুরঘাট রেল স্টেশনে। আজ, সোমবার সকালে বালুরঘাট-শিলিগুড়ি ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসের যাত্রীরা টিকিট কাউন্টারে লাইন দিয়ে দাঁড়ালে দেখতে পান, ভেতরে খোদ স্টেশন ইনচার্জ দিলীপ সরকার মদ্যপ অবস্থায় কাউন্টারে বসে রয়েছেন। কাউন্টারে টিকিট দিতে দেরি হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। যাত্রীরা বিক্ষোভ দেখতে শুরু করলে ঘটনাস্থলে যান আরপিএফের জওয়ানরা৷ জিআরপি মদ্যপ স্টেশন ইনচার্জ দিলীপ সরকারকে কাউন্টার থেকে সরিয়ে দেয়। পরে দিলীপ সরকারের বদলে এক অস্থায়ী ঠিকা শ্রমিককে কাউন্টারে বসান হলে উত্তেজনা আরও চরমে ওঠে। সেও মদ্যপ অবস্থায় রয়েছে বলে খোদ যাত্রীরা অভিযোগ করেন। স্টেশন ইনচার্জ ও অন্যান্য কর্মীরা মদ্যপ অবস্থায় থাকার এই ঘটনায় বালুরঘাট-শিলিগুড়ি ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস বালুরঘাট থেকে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ে। অবশেষে যাত্রীদের বালুরঘাট থেকে টিকিট না দিয়ে বুনিয়াদপুর স্টেশন থেকে তা সংগ্রহ করতে বলে আরপিএফ জওয়ানরা।

Advertisement ---
-----