স্বাগত ঘোষ, কলকাতা: টানা হারে ক্লান্ত দলটাকে নিয়ে দিনকয়েক আগেই সমালোচনার শেষ ছিল না। কোচের পারফরম্যান্স আতস কাঁচের নীচে না আসলেও একটা মোক্ষম চাপ অনুভব করছিলেন আলেজান্দ্রো মেনেন্দেস গার্সিয়া। গোকুলাম ম্যাচ জয়ের পর চাপের সেই প্রেসার কুকার থেকে বেরোতে না বেরোতেই বড় ম্যাচের ব্লু-প্রিন্ট সাজাতে কালঘাম ছুটেছিল স্প্যানিশ কোচের।

আপফ্রন্টে এনরিকে নেই। এক স্ট্রাইকারে অভিজ্ঞ শংকরলালের বিরুদ্ধে স্ট্র্যাটেজিতে কতটা বাজিমাৎ করতে পারবেন তিনি, সেটাই ছিল লাখ টাকার প্রশ্ন। ডার্বি জিতে যেন সেইসব প্রশ্নেরই উত্তর দিলেন আলেজান্দ্রো। প্রথম ডার্বিতেই জয়ের নজির গড়ে লাল-হলুদের স্প্যানিশ কোচ জানালেন, ৬৫ হাজার দর্শকের সামনে জয় পেয়ে তিনি তৃপ্ত।

টানা তিন ম্যাচ হারে লিগের অঙ্কে যখন অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে দল, তখন কোচের কম্বিনেশন বিল্ড আপের প্রশ্নে ভ্রূ কুঁচকেছিলেন অনেকেই। কিন্তু বহুদিন পর তিন-তিনবার বিপক্ষের জালে বল ঢুকিয়ে ডার্বি জিতল লাল-হলুদ। অফসাইডের গন্ধ থাকলেও প্রথম গোলের পিছনে এদিন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের ওয়ান টাচ পাসিং ফুটবল নজর কাড়ে সমর্থকদের। এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে স্প্যানিশ কোচ জানান, ‘প্র্যাকটিসে এতদিন ধরে যে কম্বিনেশন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ছিলাম, এটা তারই ফসল। সময় দিলে এই দল আরও দৃষ্টিনন্দন ফুটবল উপহার দেবে।’

সাংবাদিক সম্মেলনে স্প্যানিশ কোচের পাশেই বসেছিলেন ডার্বি জয়ের নায়ক লালদানমাওয়াইয়া রালতে। জোড়া গোল করে দলকে ডার্বি জিতিয়ে মিজো ফুটবলার ভাগ্যবান মনে করছেন নিজেকে। এক স্ট্রাইকার নিয়ে মাঠে নেমেও বিপক্ষকে তিন গোল দিয়ে ইস্টবেঙ্গল কোচ প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন রালতে সহ দলের বাকি ফুটবলারদের। বললেন, ‘আলাদা কোনও পজিশন নিয়ে মাথা ঘামাতে রাজি নই। পুরো দলই দুরন্ত ফুটবল উপহার দিয়েছে।’

তবে প্রেস কনফারেন্সে আলাদা ভাবে জবি স্তুতি স্প্যানিশ কোচের মুখে। কেরল স্ট্রাইকারের গোল স্কোরিংয়ে ক্ষিপ্রতা সর্বোপরি বড় ম্যাচে বাইসাইকেল কিকে তাঁর দুরন্ত গোল দেখে মুগ্ধ আলেজান্দ্রো। স্প্যানিশ কোচের কথায়, ‘গোল তো করেইছে। পাশাপাশি মার্কারদের চোখ এড়িয়ে দুরন্ত সব সুযোগ তৈরি করেছে ও। শীঘ্রই ওর জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া উচিৎ।

ম্যাচ শেষে মোহন কোচ যখন জানান কোলাডো আহামরি নয়, ম্যাচ জুড়ে প্লে-অ্যাক্টিং করে গেছে। বিপক্ষ কোচের সেইসব মন্তব্যকে পাত্তা না দিয়ে জেইম স্যান্টোসকে নিয়ে যে তিনি স্বপ্নের জাল বোনা শুরু করে দিয়েছেন, হাবেভাবে বুঝিয়ে গেলেন রিয়াল মাদ্রিদের যুব দলের প্রাক্তন কোচ। জানালেন যোগ্য হিসেবেই জয় পেয়েছে তাঁর দল। তবে ম্যাচ জিতে দলের ফাঁকফোকর মেরামতিতে নজর দিতে ভুললেন না রালতেদের হেডস্যার।

স্বল্পদিনের ব্যবধানে গোয়ার মাটিতে গিয়ে খেলতে হবে চার্চিলের বিরুদ্ধে। তাই প্রথমার্ধ নিজেদের দখলে থাকলেও মোহনবাগানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়ার্ধে বলের দখল হারানোয় চিন্তিত তিনি। তাই শেষবেলায় আলেজান্দ্রো বলে গেলেন, ‘আই লিগের লড়াইয়ে ফিরে এসেছি আমরা। কিন্তু লিগ জিততে হলে নব্বই মিনিটই বল কন্ট্রোল করতে হবে আমাদের।’

--
----
--