ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে

দিপালী সেন, কলকাতা: বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করল আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷ বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশ জারি করা হয়েছে৷ ওই নির্দেশ অনুযায়ী, ছাত্র সংসদের নামে কোনও কার্যকলাপে অংশ নেওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে৷

এই নির্দেশে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বীকৃত বা বৈধ কোনও ছাত্র সংসদ নেই৷ তাই ছাত্র সংসদের নামে কোনও রকম কার্যকলাপ বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি আদর্শের বিরোধী এবং কোনও ভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়৷ ছাত্র সংসদের নামে কোনও প্রকার বিশৃঙ্খল কাজকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী৷

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি হচ্ছেন সেখানকার পড়ুয়ারা৷ আর, তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধি দল হল ছাত্র সংসদ৷ বহুদিন ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র সংসদের নির্বাচন হয়নি৷ কিন্তু, তা সত্ত্বেও পড়ুয়াদের সমস্যা ও দাবিগুলি কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার জন্য একটি স্টুডেন্টস বডি প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েই রয়েছে৷ সেখানে হঠাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ছাত্র রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করার নির্দেশে প্রশ্ন উঠছে ছাত্র মহলে৷ কেন হঠাৎ এই নির্দেশ জারি করা হল আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে?

- Advertisement -

জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের একটি দলগত আলোচনা হয়৷ যেখানে উপস্থিত ছিলেন টিএমসিপির উত্তর ২৪ পরগণার জেলা সভাপতি পারমিতা সেন৷ উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য ছাড়াও বহু পড়ুয়া৷ ওই আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ত্রুটি ও পড়ুয়াদের সমস্যার বিষয়ে কথা হয়৷ আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মীর সিদ্দিকী জানিয়েছেন, ওই দিন আলোচনার পর রাতের হঠাৎ এই নির্দেশটি তাঁদের নজরে আসে৷

মীর সিদ্দিকির কথায়, ‘‘এই নির্দেশে কোনও সই নেই৷ এমনকী নির্দেশের উপরে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানা দেওয়া রয়েছে, সেটাও আলাদা করে লাগানো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে৷ অথচ, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনও নির্দেশ বা বিজ্ঞপ্তিতে রেজিস্ট্রারের সই থাকে৷ উপযুক্ত ঠিকানা থাকে৷ সেখানে এই নির্দেশে কেন নেই? তা হলে কি দলীয় আলোচনার কারণেই গতকাল অফিস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তড়িঘড়ি এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে?’’ এই ধরনের একাধিক প্রশ্ন উঠছে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া মহলে৷ কী করে রেজিস্ট্রারের সই ছাড়া একটি নির্দেশ জারি হতে পারে?

মীর সিদ্দিকীর অভিযোগ, সামনেই ইফতার পার্টি৷ সেই পার্টির কারণে পড়ুয়াদের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণের অর্থ বরাদ্দ করা হয়৷ যা তুলে দেওয়া হয় স্বীকৃত ছাত্র প্রতিনিধিদলের হাতে৷ সেই অর্থ যাতে অফিসিয়ালি না দিতে হয়, তার জন্য পরিকল্পনা করে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে৷ তাঁর দাবি, ‘‘আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এতদিনের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য রেজিস্ট্রার পরিকল্পিতভাবে এই নির্দেশটি জারি করেছেন৷’’

যদিও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার নুরশদ আলি৷ তিনি বলেন, ‘‘এই নির্দেশটি জারি করার বিষয়ে আগে থেকেই কথা চলছিল৷ বৃহস্পতিবার দিনের বেলাতেই এই নির্দেশটি জারি করা হয়েছে৷’’ কিন্তু, কেন হঠাৎ করে এই নির্দেশ জারি করা হল? রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে নাম-পরিচয় ছাড়া ছাত্র সংসদের নামে ব়্যাগিংয়ের একটি অভিযোগ দায়ের হয় ইউজিসির কাছে৷ অথচ, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনও স্বীকৃত বা বৈধ ছাত্র সংসদ নেই৷ তাই ছাত্র সংসদের নামে কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করে এই নির্দেশটি জারি হয়েছে৷

ইফতার পার্টির জন্য অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘যেহেতু, কোনও স্বীকৃত ছাত্র সংসদ নেই, তাই পড়ুয়াদের হাতে অর্থ দেওয়ার কোনও প্রশ্নও নেই৷ বিশ্ব নবি দিবস পালনের জন্য যেমন শিক্ষকদের কমিটি গঠন করে টাকা তুলে দেওয়া হয়েছিল৷ ইফতার পার্টির জন্য অর্থ বরাদ্দের আবেদন এলে, এ ক্ষেত্রেও শিক্ষকদের কমিটি গঠন করা হবে৷ এই কমিটির কাছে অর্থ তুলে দেওয়া হবে৷’’

সইবিহীন নির্দেশের বিষয়ে রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন, আসল নির্দেশে তাঁর সই রয়েছে৷ কিন্তু, ওয়েবসাইটে যে কপিটা আপলোড করা হয়েছে, তাতে ‘বাই অর্ডার’ করে দেওয়া হয়েছে৷ অর্থাৎ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তেই এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে৷

তবে, কারণে হোক বা অকারণে৷ ছাত্র রাজনীতিতে এই হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছে এবিভিপি৷ এবিভিপির রাজ্য সহ সভাপতি ইন্দ্রনীল খান এই বিষয়ে বলেন, ‘‘ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে ধীরে ধীরে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে৷ নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে৷ এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে৷ শাসকদল ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মিলিতভাবে চক্রান্ত করে পড়ুয়াদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের চেষ্টা করছে৷’’

বিরোধিতা করেছেন এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যও৷ তিনি বলেন, ‘‘ছাত্র সংসদের মেয়াদ রাজ্যের সব কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়েই শেষ হয়ে গিয়েছে৷ কিন্তু, ছাত্র সংসদের নামে কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করে দেওয়ার মধ্যে যে ইঙ্গিত রয়েছে, তা অত্যন্ত স্বৈরাচারী, অগণতান্ত্রিক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের বিরোধী৷’’

Advertisement ---
---
-----