বারুইপুর: জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে গেল অলীক চক্রবর্তীর৷ তাঁকে তিন দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত৷ অন্য একটি মামলায় ১৪ দিনের জেল হেফাজতও হয় তাঁর৷ ভাঙড়ের পাওয়ার গ্রিড আন্দোলনের মুখ অলীক৷ মে মাসেই ভুবনেশ্বর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷

ভাঙড় আন্দোলনের অন্যতম নেতা অলীক চক্রবর্তীকে মঙ্গলবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়৷ দশ দিনের পুলিশ হেফাজতের পর আদালতের নির্দেশ মেনেই এদিন বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয় তাঁকে৷ এসিজেএম অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের এজলাসে দু’টি মামলার একটিতে অলীককে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক৷ সঙ্গে অন্য একটি মামলায় তিন দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত৷

আরও পড়ুন: আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে একে অপরের দেশে যাচ্ছেন কিম-ট্রাম্প

তবে জেল ও সিআইডি হেফাজতে থাকাকালীন অলীক চক্রবর্তীর শারীরিক সুস্থতার দিকটি নজরে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত৷ ২৪ ঘণ্টা অন্তর একজন এমবিবিএস এমডি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করানোরও নির্দেশ দেন বিচারক৷

এদিন আদালতেও বিচারক অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায় অলীক চক্রবর্তীকে তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন৷ উত্তরে অলীক জানান, এখন আগের তুলনায় ভালো আছেন তিনি৷ এদিন অলীকের আইনজীবীরা কাশীপুর থানার ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে তাঁদের মক্কেলের জামিনের আবেদন করেন।

আরও পড়ুন: মেসির রেকর্ড স্পর্শ করে মাটিতে পা সুনীলের

কিন্তু বিচারক সেই জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন৷ বদলে আশিকুর রহমান ওরফে বাবুসোনা খুনের ঘটনায় অলীককে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন৷ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অলীকের শারীরিক পরিস্থিতির দিকে জেলসুপারকে নজর রাখার নির্দেশ দেন৷ পাশাপাশি আরও একটি মামলায় সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, পুলিশকর্মীদের মারধর-সহ একাধিক অভিযোগে এদিন অলীককে নিজেদের হেফাজতে চায় সিআইডি৷ সেই আবেদন মেনে বিচারক তিনদিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

মে মাসের শেষের দিকে ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ হাসপাতালের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয় অলীক চক্রবর্তীকে৷ ওড়িশার চন্দ্রশেখরপুর থানা থেকে তাঁকে নিয়ে আসা হয় কলকাতায়৷ ভাঙড়ে পাওয়ার গ্রিড বিরোধী যে আন্দোলন হয়েছিল তাঁর পুরোধা ছিলেন সিপিআই (এমএল) রেডস্টার-এর এই নেতা৷
জমি জীবিকা বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা নামে একটি কমিটিই মূলত এই আন্দোলনকে নেতৃত্ব দেয়৷ সেই কমিটির সর্বেসর্বা ছিলেন অলীকবাবু৷

পাওয়ার গ্রিড বিরোধী এই আন্দোলনের তাপ ক্রমেই বাড়তে শুরু করে৷ আন্দোলন ঘিরে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে ভাঙড়ের মাছিভাঙা-সহ বিভিন্ন এলাকা৷ পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধ কার্যত ভয়ঙ্কর রূপ নেয়৷ কোথাও জ্বালিয়ে দেওয়া হয় পুলিশের গাড়ি৷ আবার কোথাও সংঘর্ষে জখম হন সাধারণ নিরপরাধ কতগুলো মানুষ৷

আরও পড়ুন: জেনে নিন বুধবারের বাজার দর

এরপরই অলীক চক্রবর্তীর নাম ওঠে পুলিশের খাতায়৷ কিন্তু গ্রাম ছেড়ে বের হননি অলীক৷ আর পুলিশ সেখানে ঢুকতে চায়নি৷ কারণ পুলিশের এই সিদ্ধান্ত ভস্মে ঘি ঢালার কাজ করতে পারত৷ এরইমধ্যে চিকিৎসার জন্য রাজ্য ছাড়েন অলীক৷ তাঁর মোবাইল ফোনের টাওয়ার ট্র্যাক করে অবশেষে পড়শি রাজ্য ওড়িশা থেকে গ্রেফতার করা হয়৷

----
--