তিন মাসেই মাছি তাড়াচ্ছে চিড়িয়াখানার ই-টিকিট কাউন্টার

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: চাহিদার অভাবে ভুগছে চিড়িয়াখানার অনলাইনে টিকিট কাটার ব্যবস্থা। চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসা মানুষের লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার ঝঞ্ঝাট মেটাতেই অনলাইন টিকিট কাটার ব্যবস্থা চালু করা হয় বলে জানিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। আর, গত জানুয়ারিতে চালু হওয়ার পর এই মার্চেই অনলাইন টিকিটের চাহিদা প্রশ্নের মুখে।

গত ১৬ জানুয়ারি, ঘটা করে ই-টিকিট ব্যবস্থার উদ্বোধন করে আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। জানানো হয়েছিল সাতদিন আগে থেকে সর্বোচ্চ ১৫টি টিকিট অনলাইনে কেটে নেওয়া যাবে। কর্তৃপক্ষ এমনও জানিয়েছিল, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড ও ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে টিকিট কাটা যাবে। আরামে টিকিট কাটার সুযোগ সত্ত্বেও চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা মিলছে সম্পূর্ণ উলটো চিত্রর।

চিড়িয়াখানায় পশু-পাখিদের দেখে আনন্দ উপভোগ করতে আসা দর্শকদের বেশিরভাগই দাঁড়িয়ে রয়েছেন ‘অফলাইন’ টিকিটের লাইনে। অনলাইনের টিকিটের কাউন্টার কার্যত মাছি তাড়াচ্ছে। আলিপুর চিড়িয়াখানার প্রধান আশিসকুমার সামন্ত স্বীকার করে নিয়েছেন এই পরিস্থিতির কথা। তিনি বলেন, “এটা সত্যি যে অনলাইনে টিকিট এখন খুবই কম বিক্রি হচ্ছে। বেশিরভাগ মানুষই ম্যানুয়াল টিকিট কেটেই চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করছেন।”

- Advertisement -

কিন্তু, এমন অবস্থার কারণ কী ? তিনি বলেন, “এখন অফ সিজন চলছে। তাই ভিড় নেই। তাই ম্যানুায়ালে টিকিট কেটে নিচ্ছেন বেশিরভাগ দর্শনার্থী।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “ নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি, এটা পিক সিজন। এই সময় প্রতি বছরের মতো এই বছরেও লক্ষাধিক মানুষের ভিড় হয়েছে। জানুয়ারি মাসে ই-টিকিট চালু হওয়ার পর দিনে ১,২০০ থেকে ১,৩০০ টিকিট বিক্রি হচ্ছিল। এখন সেটা কমে গিয়ে ১০০-তে এসে ঠেকেছে।”

তা হলে, অনলাইন ব্যবস্থাকে সচল রাখার উপায় কী? আশিসকুমার সামন্ত বলেন, “আমাদের একটাই উপায়। আরও বেশি করে বিজ্ঞাপন করে ই-টিকিট ব্যবস্থাকে সচল রাখা। সেই চেষ্টাতেই লেগে রয়েছি আমরা। আশা করছি ভালো ফল পাব।” চিড়িয়াখানার হিসাবে এমনও স্পষ্ট করে দিয়েছে, সিজনেও ই-টিকিট কাটার হার তেমন আশাব্যাঞ্জক ছিল না। এই বিষয়ে আশিসকুমার সামন্তর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “সবে চালু হয়েছে। সময় দিতে হবে। একদিনেই সব হিসাব পালটানো সম্ভব নয়। এই বিষয়ে মানুষকে জানার জন্য আরও সময় দিতে হবে।”

একই সঙ্গে তিনি বলেন, “নতুন পশু আনছি। প্রযুক্তির ব্যবহার করে সিস্টেমকে আপগ্রেড করার চেষ্টা করছি। চেষ্টার আমাদের ত্রুটি নেই। আরও ভালোর জন্য সবাইকেই অপেক্ষা করতে হয়। আমরাও সেটাই করছি।”

Advertisement
---