সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, হুগলি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অনেক কথা বলেন। তিনি দেশের মানুষের জন্য অনেক কিছু করবেন বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু বাবরি মসজিদ বিষয়ে তিনি কোনও কথা বলেন না। তাঁর প্রতি ভাষণে থাকুক বাবরি নিয়ে বক্তব্য, থাক আশ্বাস। এমনটাই দাবি অল বেঙ্গল মাইনরিটি অ্যাসোসিয়েশন।

অল বেঙ্গল মাইনরিটি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু আফজল জিন্না বলেন, “১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ যে ঘটনা ঘটেছিল, তা জঘন্যতম। আমাদের কাছে সেটা কালোদিন। ঘটনার পর থেকে আমরা তাই ৬ ডিসেম্বর দিনটা কালা দিবস হিসাবে পালন করি। আজ সংগঠনের পক্ষ থেকে ২৭তম কালা দিবস পালন করেছি আমরা।” এদিন কালা দিবস পালিত হয় , হুগলীর সিঙ্গুর থানার মুস্তাফাপুর হাফেজিয়া কোরানিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ। প্রতিবাদী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে কেরাত পাঠ করেন হাফেজ মফিজুর রহমান।

Advertisement

অল বেঙ্গল মাইনরিটি অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি আবু আফজাল জিন্না বলেন, “বাবরি কান্ডে লিবারহান কমিশনের রিপোর্ট অবিলম্বে কার্যকর করা উচিত। আমরা সংখ্যা লঘু মুসলিম সম্প্রদায় সংবিধানকে মানি। সর্বোচ্চ আদালত যে রায় দেবে তা মাথা পেতে নেব। কিন্তু দুঃখের বিষয় যিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী, সব ধর্মের মানুষের প্রধানমন্ত্রী বলে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন তিনি কেন প্রকাশ্যে বলছেন না মহামান্য আদালত যে রায় দেবে তা মেনে নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বাবরি মসজিদের বিষয়ে চুপ থাকাটা অত্যন্ত লজ্জাজনক দেশবাসির জন্য.” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশে এক শ্রেণীর মানুষ অশান্তির বাতাবরণ তৈরী করতে চাইছে সে বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী চুপ রয়েছেন। এই বিষয়ে তাঁর প্রধানমন্ত্রী হিসাবে কিছু বলা উচিৎ।”

গত ২৬ বছর ধরে ৬ ডিসেম্বর কালা দিবস পালন করে এসেছে অল বেঙ্গল মাইনরিটি অ্যাসোসিয়েশন। এই বছরেও তার অন্যথা হয়নি। কিন্তু এই বছর তাঁদের দাবিতে উঠে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সংগঠনের দাবি, দেশ থেকে দেশের বাইরে নানা প্রসঙ্গে তিনি কথা বলেন। কিন্তু বাবরি মসজিদ নিয়ে তিনি ‘বোবা’ সেজে থাকেন। এই প্রসঙ্গে তাঁর মুখ খোলা উচিৎ বলে মনে করছে সংগঠনের সদস্যরা।

এদিন অল বেঙ্গল মাইনরিটি অ্যাসোসিয়েশন কালা দিবস পালন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বহু মানুষ। আগামী দিনে এই দাবি নিয়ে তাঁরা পথে নামবেন বলে জানাচ্ছে সংগঠন। তাঁদের দাবি দেশে যদি ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হয় তা হলে অবিলম্বে মুখ থেকে তালা খুলুন নরেন্দ্র মোদী।

----
--