দলের পার্টি অফিসেই তালা ঝোলাল তৃণমূলের কর্মীরা!

স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: চরম পর্যায়ে শাসক দলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব৷ তার জেরে তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরকেই পার্টি অফিস থেকে বের করে দিলেন দলেরই বেশ কয়েক জন নেতা কর্মী৷ এমনকী ওই পার্টি অফিসে তালাও ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ৷

তবে পার্টি অফিস থেকে বের করে দেওয়ারক ঘটনা অস্বীকার করেছেন বর্ধমান পুরসভার ওই প্রাক্তন কাউন্সিলর৷ এদিকে, এই ঘটনার জেরে রীতিমত শহর জুড়েই শুরু হয়েছে তোলপাড়। সম্প্রতি একের পর এক তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় অফিসকে লক্ষ্য করেই হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুরসভা নির্বাচন এবং লোকসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ততই শাসকদলের অন্তর্দ্বন্দ্বের ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে।

আরও পড়ুন : ‘বিজেপি-কে রোখার কৌশল তৃণমূলের জানা আছে’

জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যে নাগাদ বর্ধমান শহরের ৮নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের একটি পার্টি অফিসকে আচমকাই বন্ধ করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দেয়। বর্ধমান শহরের ইছলাবাদ কাঠের পুল লাগোয়া ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা তৃণমূল জেলা মহিলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদিকা সুতপা ভট্টাচার্য নিয়মিত ওই দলীয় অফিসে বসতেন।

অভিযোগ, প্রাক্তন ওই কাউন্সিলার যখন নিজের দলীয় অফিসে বসেছিলেন সেই সময় কয়েকজন যুবক সেখানে এসে জানান, যেহেতু তিনি আর কাউন্সিলার নেই তাই ওই অফিসে তিনি থাকতে পারবেন না। অভিযোগ, এই সময় ওই যুবকরা তাঁকে ওই দলীয় অফিস থেকে বার করে দিয়ে অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন : মুর্শিদাবাদে গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে, অস্বস্তিতে শাসক দল

ক্ষমতাসীন দলের দলীয় কার্যালয়কে এভাবে বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে খোদ তৃণমূলের অন্দরেই শুরু হয়েছে চাপান উতোর। এব্যাপারে সুতপা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, অন‌্যান্য দিন তিনি সন্ধ্যে ৭টা থেকে রাত্রি প্রায় ১১টা পর্যন্ত ওই অফিসে থাকেন। এলাকার মানুষের নানাবিধ সুবিধা অসুবিধা দেখাও তাঁর কাজ। সোমবার তিনি ৭টা ১৫ নাগাদ যখন অফিসের দিকে যাচ্ছিলেন সেই সময় তাঁকে ফোন করে জানানো হয় কয়েকজন দুষ্কৃতি পার্টি অফিসে তালা ঝুলিয়ে চলে গেছে।

সুতপা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ওই ঘটনার সময় তিনি পার্টি অফিসে ছিলেন না। এরপরই তিনি গোটা বিষয়টি জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়েছেন। উর্ধতন নেতৃত্ব জানিয়েছেন, ছটপুজোর পর্ব মেটার পরই এব্যাপারে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ধমান শহর কমিটির সভাপতি অরূপ দাস জানিয়েছেন, এরকম একটি ঘটনার কথা শুনেছেন। কারা এই কাজ করেছে সে ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছেন। তারপরই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুতপাদেবী জানিয়েছেন, তিনি পুরসভার কাউন্সিলার ছাড়াও তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হিসাবেও কাজ করছেন। স্বাভাবিকভাবেই দলীয় পার্টি অফিসকে এভাবে বন্ধ করা যায় না বলেও তিনি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন : রাজ্যে ৩০টি হিন্দু পরিবারের ধর্ম পরিবর্তনের ঘটনায় চাঞ্চল্য

উল্লেখ্য, সম্প্রতি একের পর এক তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসকে লক্ষ্য করেই হামলার ঘটনা ঘটায় রীতিমত উত্তেজনা বাড়ছে। সম্প্রতি গলসীতে পার্টি অফিস লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ছোঁড়া হয়। আক্রমণ চালানো হয় তৃণমূলের এক নেতার বাড়িতেও। এই ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের অপর গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সম্প্রতি বর্ধমান শহরের বাহিরসর্বমঙ্গলাপাড়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি পার্টি অফিস ভাঙচুর করা হয়। আক্রমণ করা হয় এক তৃণমূল নেতাকেও। এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তুললেও পুলিশ যে ৪জনকে গ্রেপ্তার করে তাঁরা এলাকায় তৃণমূল সমর্থক বলেই পরিচিত।

এরপরই ৮নং ওয়ার্ডের এই পার্টি অফিসকে বন্ধ করে দেওয়ায় ক্রমশই উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে। জানা গিয়েছে, এক্ষেত্রেও সুতপা ভট্টাচার্য্যের অপর গোষ্ঠীর যুবকরা এই পার্টি অফিসকে বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও সুতপা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, যাঁরাই এই কাজ করে থাকুক না কেন তাঁরা কখনই তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী হতে পারেন না।

---- -----