অমরনাথ যাত্রা পথে মৃত্যু হল তিন পুণ্যার্থীর

জাহিদ ওয়াফাই, শ্রীনগর: অমরনাথ যাত্রার পথে মৃত্যু হল তিন পুণ্যার্থীর৷ এদের মধ্যে দুজন অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা৷ এই নিয়ে এবছর অমরনাথ যাত্রায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬৷

অমরনাথ যাওয়ার রাস্তায় এঁদের মৃত্যু হয় বলে প্রশাসন সূত্রে খবর৷ তৃতীয় ব্যক্তি উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে৷ ৭৫ বছরের থোটা রাধনাম অন্ধ্রপ্রদেশের ফিওয়ালায়ামের বাসিন্দা ছিলেন৷ আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর পথেই মৃত্যু হয়৷ বালতাল বেস ক্যাম্পের কমিউনিটি কিচেনে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি৷ ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর৷

পুলিশ সূত্রে খবর বছর ৬৫-র রাধাকৃষ্ণ শাস্ত্রী অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুরা এলাকার বাসিন্দা৷ তিনিও অমরনাথ গুহার খুব কাছে সঙ্গমে অসুস্থ হয়ে পড়েন৷ চিকিৎসকেরা জানান হৃদরোগে তাঁরও মৃত্যু হয়েছে৷ তৃতীয় ব্যক্তির নাম পুস্কর যোশী৷ তিনি উত্তরাখন্ডের বাসিন্দা৷ তিনি রেলপাটরি ও ব্রারিমার্গের মধ্যে পাথর ছোঁড়ার ঘটনায় আহত হয়েছিলেন৷ আজ সকালে হাসপাতালে মারা যান তিনি৷

- Advertisement -

পুলিশ জানিয়েছে কিছু আইনি জটিলতা কাটিয়ে তারপর দেহগুলিকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে৷ আপাতত দেহগুলিকে বালতাল বেস ক্যাম্প হাসপাতালে এনে রাখা হয়েছে৷

এরআগে, কাশ্মীরের দক্ষিণে বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পুণ্যার্থীদের অমরনাথ যাত্রা কিছু দিনের জন্য স্থগিত রাখা হলেও তা পরে ফের শুরু করা হয়৷ তিন দিন ধরে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমি ধসের পর শুক্রবার প্রথমে বালতাল রুটে এবং একদিন পর পহেলগাঁও রুট ধরে অমরনাথ যাত্রা স্থগিত করা হয়েছিল।

বৃষ্টিতে ভিজে পাহাড়ি রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়াও যাত্রা স্থগিতের একটি কারণ। বলা হয় অনন্তনাগ জেলার সঙ্গমে ঝিলম নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

২০১৪ সালে ভারি বৃষ্টিপাত থেকে তৈরি হওয়া কাদা ধস ও আকস্মিক বন্যায় অনন্তনাগ উপত্যকায় তিনশোরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ঝিলম নদীর জল বৃদ্ধি স্থানীয় বাসিন্দাদের সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে।

এ বছর দুই লাখের বেশি তীর্থযাত্রী ধর্মীয়স্থান অমরনাথ গুহা পরিদর্শনের জন্য আবেদন করেছেন। দক্ষিণ কাশ্মিরে হিমালয়ের তিন হাজার ৮৮০ ফুট উপরে ওই গুহার অবস্থান।

Advertisement ---
---
-----