কেন মানুষ এত প্রতিকূলতার মধ্যেও অমরনাথ যাত্রা করেন?

প্রতি বছর অমরনাথ দর্শনের উদ্দেশে লাখো মানুষ যাত্রা করেন৷ কিন্তু কিসের টানে? অমরনাথ হল হিন্দুদের একটি পবিত্র তীর্থক্ষেত্র। এই যাত্রায় এমন কিছু পুণ্য অর্জন সম্ভব, যা আর কোনও যাত্রায় মেলেনা৷ তাই তো বছরের পর বছর অমরনাথের পথে বেরিয়ে পড়েন অগণিত মানুষ৷

গ্রীষ্মকালে খুব কম সময়ের জন্যই এখানে যাওয়া সম্ভব হয়। কারণ বাকি সময় পুরো রাস্তাটি বরফে ঢাকা থাকে। এবং সেই সময় লক্ষ লক্ষ ভক্ত সেখানে যাত্রা করে। কিন্তু দুর্গম এই পথ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ সাধারন মানুষদের কাছে?

অমরনাথের গুহার ভেতর জল চুঁইয়ে পড়ে, আর সেই জল জমে জমে শিবলিঙ্গের আকার ধারন করে। আর সেখানেই জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত মানুষ যাত্রা করেন। এবং এই শিবলিঙ্গে পূজা দেন। বিভিন্ন পৌরাণিক ইতিহাস, মানুষের কিছু সাধারণ বিশ্বাস তাদের এখানে বার বার টেনে আনে।

পুরাণে আছে, শিব পার্বতীকে অমরত্ব শিক্ষা প্রদানের জন্য, এই স্থানে নিয়ে এসেছিলেন। একটি কাহিনি প্রচলিত আছে, মহাদেব পার্বতীকে যখন অমরত্ব সম্পর্কে শিক্ষা প্রদান করছিলেন, তখন সেখানে কোন প্রানী ছিল না। শুধুমাত্র দুটি পায়রার ডিম ছিল। সেই দুটি নাকি এখনো দেখতে পাওয়া যায় ওখানে। এবং কথিত আছে শিব তার সমস্ত ত্যাগ করেছিলেন অর্থাৎ তাঁর ষাঁড় নন্দী, তার মাথার চন্দ্র, বায়ু, অগ্নি, জল, মৃত্তিকা এবং সর্পকুলকে বিভিন্ন স্থানে রেখে আসেন অমরনাথ যাত্রা করার আগে। এইসব গল্প কাহিনীর টানে মানুষ বার বার এখানে ছুটে আসেন।

মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত আছে, বহুকাল আগে ভৃণ্ডমুনি সেখা অমরনাথ বা শিবকে দেখতে পান। তারপর থেকেই অমরনাথে যাত্রার প্রচার শুরু হতে থাকে। এবং তারপর থেকেই লক্ষ লক্ষ মানুষ অমরনাথে যাত্রা করতে শুরু করেন।

মানুষের গভীর বিশ্বাস, দুর্গম এই তীর্থস্থানে গেলে পুণ্য অর্জন হয়। তার সঙ্গে সঙ্গে জীবনের সমস্ত অনৈতিক কাজের নিবৃত্তি সম্ভব হয়। ভগবান শিব মানুষের অতিরিক্ত লালসা, এবং সেই লালসার ফলে হওয়া পাপকে ক্ষমা করে দেন। তাই সেই পূর্ণ অর্জনের জন্যই এত মানুষ যান সেখানে।

পুন্যার্থীরা মনে করেন ভগবানের কৃপাতেই অমরনাথ যাত্রা হয়। এবং সবার ভাগ্যে এই পবিত্র যাত্রা থাকে না। আর এই যাত্রা হলে জীবন সার্থক। তাই অত্যন্ত দুর্গম পথ হলেও তারা যেতে চান।

কথিত আছে, অমরনাথ গুহাটি আবিষ্কার করেন বুটা মালিক নামে এক মুসলমান মেষপালক। তিনি এখানে এক সন্ন্যাসীর দেখা পান। সন্ন্যাসী তাঁকে একটা থলিতে কিছু কয়লা দান করেন। পরে সেই কয়লা সোনায় পরিণত হয়। বুটা সেই স্থানে ফিরে যান। কিন্তু সেই সন্ন্যাসীকে আর দেখতে পাননি। বদলে তিনি অমরনাথ লিঙ্গ দেখতে পান।

জানা যায়, অমরনাথ তুষারলিঙ্গের বৃদ্ধি চন্দ্রকলার উপরে নির্ভরশীল। শিবলিঙ্গ ছাড়াও আরও দু’টি লিঙ্গ এই গুহায় রয়েছে। এদের পার্বতী ও গণেশ মনে করা হয়।

Advertisement
----
-----